‘সময় ফুরিয়ে আসছে, নইলে কিছুই থাকবে না’: ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি, লাইফ সাপোর্টে যুদ্ধবিরতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১৮ মে, ২০২৬
যুদ্ধ বন্ধের আলোচনা থমকে যাওয়ায় ইরানকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, তাদের ‘সময় ফুরিয়ে আসছে’। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে মধ্যপ্রাচ্যের এই দেশটির আর কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না বলেও হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্পের কড়া বার্তা
নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, ‘তাদের (ইরানের) উচিত পদক্ষেপ নেওয়া, দ্রুত; না হলে তাদের আর কোনো কিছু্ই থাকবে না। এখন সময়টাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ!’ গতকাল রোববার ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ফোনালাপের ঠিক পূর্বমুহূর্তে এই কড়া বার্তাটি আসে। এর আগে গত এপ্রিলের শুরুতে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার ঠিক আগে ট্রাম্প হুমকি দিয়েছিলেন, ইরান যুদ্ধ বন্ধের চুক্তিতে রাজি না হলে ‘পুরো একটি সভ্যতা’ ধ্বংস হয়ে যাবে।
তাঁর সাম্প্রতিক এই বার্তাতেও সেই একই ধ্বংসাত্মক হুমকির সুর স্পষ্ট। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তেহরানের দাবিগুলোকে ‘সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য’ বলে প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প হুঙ্কার দেন, এই যুদ্ধবিরতি এখন কার্যত ‘লাইফ সাপোর্টে’ রয়েছে।
কী চায় ইরান, কী শর্ত যুক্তরাষ্ট্রের?
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই তাঁদের দাবিগুলোকে ‘দায়িত্বশীল ও উদার’ বলে দাবি করলেও ওয়াশিংটন তা মানতে নারাজ। ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফারস-এর তথ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের শর্ত ও দাবির মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান রয়েছে:
| ইরানের দাবি সমূহ (তাসনিম) | যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শর্তসমূহ (ফারস) |
| • লেবাননে হিজবুল্লাহর ওপর হামলাসহ সব ফ্রন্টে তাৎক্ষণিক যুদ্ধ বন্ধ করা। | • ইরানকে মাত্র একটি পারমাণবিক স্থাপনা চালু রাখার অনুমতি দেওয়া হবে। |
| • ইরানের বন্দরগুলো থেকে মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া। | • ইরানের কাছে থাকা উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের সব মজুত যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে হবে। |
| • ইরানের ওপর ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা না চালানোর গ্যারান্টি। | • ২০ বছরের জন্য ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ স্থগিত রাখা (ট্রাম্পের নতুন ইঙ্গিত)। |
| • যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতির জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান। | |
| • হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব মেনে নেওয়া। |
হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ: বিশ্ব তেলের বাজারে আগুন
চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও মার্কিন বাহিনী ইরানের ওপর ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে এই সংঘাত চূড়ান্ত রূপ নেয়। আলোচনার সুবিধার্থে মাঝেমধ্যে সাময়িক যুদ্ধবিরতি দেওয়া হলেও তা প্রায়ই লঙ্ঘিত হচ্ছে।
বর্তমানে ইরান বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। এর ফলে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) চলাচলের এই রুটটি কার্যত বন্ধ রয়েছে। ইরান সাফ জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার প্রতিশোধ নিতেই তারা এই অর্থনৈতিক অবরোধ তৈরি করেছে। আর এই কারণে বিশ্বজুড়ে তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে। অন্যদিকে, তেহরানকে নিজেদের শর্ত মানতে বাধ্য করতে মার্কিন নৌবাহিনীও ইরানের বন্দরগুলোতে কঠোর নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে।
মধ্যস্থতায় পাকিস্তান, তবে কাটছে না অচলাবস্থা
ইরানের আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা 'মেহের' জানিয়েছে, তেহরানের প্রস্তাবের জবাবে ওয়াশিংটন কোনো প্রকার শক্ত ছাড় দিতে ব্যর্থ হওয়ায় শান্তি আলোচনায় তীব্র অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে। এই দুই পরমাণু ও সামরিক শক্তির মধ্যকার যুদ্ধাবস্থা নিরসনে বর্তমানে মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করছে পাকিস্তান। তবে দুই পক্ষের অনমনীয় ও বিপরীতমুখী অবস্থানের কারণে যুদ্ধ থামানোর বৈশ্বিক এই চেষ্টা এখনো সফলতার মুখ দেখেনি।
মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বিশ্ব রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক বাজারের যেকোনো ব্রেকিং নিউজ সবার আগে পেতে চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।

0 মন্তব্যসমূহ