রাজধানীতে ডিএমপির সাঁড়াশি অভিযান: ২ দিনে ১৫২ চাঁদাবাজ গ্রেফতার, রায়েরবাজারে হচ্ছে নতুন থানা

নিজস্ব প্রতিবেদক | ৩ মে, ২০২৬

রাজধানীজুড়ে চাঁদাবাজ, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি ও অনলাইন জুয়া চক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানের প্রথম ৪৮ ঘণ্টায় ৫৮ জন মূল চাঁদাবাজ এবং তাদের ৯৪ জন সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আজ রোববার (৩ মে) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার।

অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান

সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার জানান, দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের অংশ হিসেবে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অপরাধীদের মূলোৎপাটন করে নগরবাসীকে স্বস্তি দেওয়া এবং ঢাকাকে আরও নিরাপদ করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। তিনি বলেন, "চিহ্নিত অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে বিশেষ অভিযান ও আকস্মিক ব্লক রেইড পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষেত্রবিশেষে তল্লাশি চৌকি এবং সিসি ক্যামেরা বসিয়ে অপরাধীদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।"

রায়েরবাজারে নতুন থানা ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পরিস্থিতি

মোহাম্মদপুর ও এর আশপাশের এলাকায় ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ন্ত্রণে রায়েরবাজার এলাকায় একটি নতুন থানা স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, বর্তমানে শীর্ষ সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের ওপর আক্রমণ করছে না, বরং তারা নিজেদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও মারামারিতে লিপ্ত রয়েছে।

তাৎক্ষণিক শাস্তি ও প্রযুক্তির ব্যবহার

অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের যাচাই-বাছাই করে তাৎক্ষণিকভাবে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হচ্ছে। তবে যারা বড় অপরাধের সাথে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হচ্ছে।

ডিএমপি কমিশনার আরও জানান, ডিবি, সিটিটিসি এবং সাইবার টিম তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারি করছে। বড় বড় বাজার, বিপণিবিতান এবং সংবেদনশীল এলাকায় নিয়মিত অভিযানের পাশাপাশি ঝটিকা অভিযানও চালানো হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বড় ধরনের বেশ কিছু মাদকের চালানও জব্দ করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের অঙ্গীকার

ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মহানগরে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই অভিযান আরও জোরদার করা হবে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশের পাশাপাশি ডিএমপির বিশেষায়িত ইউনিটগুলো একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।