জ্বালানির পর এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর তোড়জোড়: পাইকারিতে ২১% বৃদ্ধির প্রস্তাব
অর্থনৈতিক প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ০৬ মে, ২০২৬
ভোক্তা পর্যায়ে নিত্যপণ্যের উর্ধ্বগতির মাঝেই এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সামনে এসেছে। পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব দিয়েছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এই প্রস্তাবটি পর্যালোচনার জন্য আমলে নিয়েছে এবং একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।
পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সম্ভাব্য দাম
বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা। প্রস্তাব অনুযায়ী এটি বেড়ে ৮ টাকা ৫৪ পয়সা পর্যন্ত হতে পারে। পাইকারি দাম বাড়লে তার সঙ্গে সমন্বয় করে খুচরা বা গ্রাহক পর্যায়েও আনুপাতিক হারে দাম বাড়বে।
বর্তমান খুচরা দাম (গড়): ৮ টাকা ৯৫ পয়সা প্রতি ইউনিট।
সম্ভাব্য বৃদ্ধি: খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১ টাকা ৩৮ পয়সা পর্যন্ত বাড়তে পারে।
বিইআরসি-র পদক্ষেপ ও গণশুনানি
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানান, পিডিবির প্রস্তাব আমলে নিয়ে ইতিমধ্যে কারিগরি কমিটি গঠন করা হয়েছে। নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) সহ বিতরণ সংস্থাগুলো তাদের প্রস্তাব জমা দিতে শুরু করেছে। কারিগরি কমিটির মূল্যায়নের পর অংশীজনদের নিয়ে একটি গণশুনানি করা হবে এবং তার ভিত্তিতেই দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
কাদের ওপর প্রভাব পড়বে বেশি?
পিডিবি জানিয়েছে, দেশের মোট গ্রাহকের ৬৩ শতাংশই স্বল্প ব্যবহারকারী (যারা মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন)। সরকার এই স্বল্প ব্যবহারকারীদের ওপর দাম না বাড়িয়ে বেশি ব্যবহারকারীদের ওপর বাড়তি দাম আরোপের চিন্তা করছে। এতে মূলত ৩৭ শতাংশ উচ্চ ব্যবহারকারী গ্রাহকের বিল উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে।
কেন এই মূল্যবৃদ্ধি?
বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ বেড়ে যাওয়াকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখানো হচ্ছে। গত অর্থবছরে সরকারকে বিদ্যুৎ খাতে রেকর্ড ৫৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। পিডিবির হিসাব মতে, প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ৫০ পয়সা দাম বাড়লে বছরে তাদের অতিরিক্ত ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা আয় হবে, যা দিয়ে ভর্তুকির চাপ কমানো সম্ভব।
বিশেষজ্ঞ মতামত: "মূল্যবৃদ্ধি সমাধান নয়"
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ঘাটতি দেখিয়ে দাম বাড়ানোর অজুহাতটি পুরনো। তার মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে ৪০ শতাংশ বাড়তি খরচ আছে, যা কমানো সম্ভব হলে দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হতো না।
একনজরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি:
| খাত | বর্তমান অবস্থা | প্রস্তাবিত পরিবর্তন |
| পাইকারি দাম (ইউনিট) | ৭.০৪ টাকা | ১.২০ - ১.৫০ টাকা বৃদ্ধি |
| খুচরা দাম (ইউনিট) | ৮.৯৫ টাকা (গড়) | আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি |
| সঞ্চালন চার্জ | বর্তমান হার | প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা বৃদ্ধি |
| ভর্তুকি (গত অর্থবছর) | - | ৫৮,০০০ কোটি টাকা |

0 মন্তব্যসমূহ