Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মহাসড়কে সোনালুর ‘হলুদ অভ্যর্থনা’: গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে চোখের প্রশান্তি

মহাসড়কে সোনালুর ‘হলুদ অভ্যর্থনা’: গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে চোখের প্রশান্তি

নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ

তীব্র দাহদাহ আর বৈশাখের রুদ্রমূর্তির মাঝেই প্রকৃতি সেজেছে অনন্য সাজে। নাগরিক যান্ত্রিকতা আর পিচঢালা রাস্তার সমান্তরালে এখন দেখা মিলছে এক ঐশ্বরিক নান্দনিকতার। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে সারি সারি সোনালু গাছ এখন সোনালি আভায় প্রকৃতিকে রাঙিয়ে তুলেছে। ডাল ছাপিয়ে ঝুমকোর মতো ঝুলে থাকা এই হলুদ ফুলগুলো মহাসড়কে চলাচলকারী চালক ও যাত্রীদের জানাচ্ছে এক ‘হলুদ অভ্যর্থনা’।

মহাসড়কের যেখানে সোনালুর রাজত্ব:

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার এলাকা কুমিল্লায় পড়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, কুমিল্লার কোটবাড়ী নন্দনপুর থেকে আলেখারচর চক্ষু হাসপাতাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় এখন সোনালুর রাজত্ব। এছাড়াও চৌদ্দগ্রামের মিয়ার বাজার, দাউদকান্দি, চান্দিনা ও সদর দক্ষিণ উপজেলার বিভিন্ন অংশে বিভাজকের ওপর ফুটে থাকা সোনালু ফুলগুলো দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কেউ পরম মমতায় হলুদ গালিচা বিছিয়ে রেখেছে।

পথচারী ও চালকদের মুগ্ধতা:

ব্যস্ত এই মহাসড়কে ধুলোবালি ও ধোঁয়ার মাঝে সোনালু ফুলগুলো হয়ে উঠেছে প্রশান্তির উৎস।

  • শিক্ষার্থী ও পথচারী: কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থীরা জানান, তীব্র রোদের মধ্যেও এই ফুলগুলো মনে শীতল অনুভূতি এনে দেয়। অনেকেই গাড়ি থামিয়ে এই নান্দনিক মুহূর্ত ফ্রেমবন্দী করছেন।

  • চালক ও যাত্রী: বাসচালকদের মতে, দীর্ঘক্ষণ স্টিয়ারিং ধরে রাখার ক্লান্তি দূর করে দেয় রাস্তার মাঝখানের এই রঙিন দৃশ্য। যাত্রীদের কাছেও একঘেয়েমি দূর করার এক চমৎকার মাধ্যম হয়ে উঠেছে এই সোনালু সারি।



উদ্ভিদতত্ত্ব ও ঔষধি গুণ:

উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মতে, সোনালুর ইংরেজি নাম ‘Golden shower tree’ এবং বৈজ্ঞানিক নাম $Cassia$ $Fistula$। স্থানীয়ভাবে এটি ‘হনালু’ বা এর ফলকে ‘বাঁদরলাঠি’ নামেও ডাকা হয়।

  • বৈশিষ্ট্য: এটি সাধারণত ১০ থেকে ১৫ ফুট উঁচু হয়। বসন্তে পাতা ঝরিয়ে রিক্ত হওয়ার পর বৈশাখে নতুন পাতার সাথে উজ্জ্বল হলুদ ফুল ফোটে।

  • গুণাগুণ: শুধু সৌন্দর্য নয়, বাত, বমি ও রক্তস্রাব প্রতিরোধে সোনালুর ফল অত্যন্ত কার্যকর ঔষধি হিসেবে কাজ করে।

নিরাপত্তা ও সৌন্দর্যবর্ধন:

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, মহাসড়কের বিভাজকে এই বৃক্ষরোপণের দ্বৈত উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত এটি সড়কের সৌন্দর্য বাড়ায়, আর দ্বিতীয়ত রাতের বেলা বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির হেডলাইটের তীব্র আলো সরাসরি চালকের চোখে পড়া রোধ করে দুর্ঘটনা কমাতে সাহায্য করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ