Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম: বিপাকে সাধারণ মানুষ

 


ফের বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম: বিপাকে সাধারণ মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

বিশ্ববাজারের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং ভর্তুকির চাপ কমাতে বাংলাদেশে আবারও বাড়ানো হচ্ছে জ্বালানি তেলের দাম। সরকারের নীতি-নির্ধারণী পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন এবং কেরোসিনের দাম লিটার প্রতি নির্দিষ্ট হারে বৃদ্ধির ঘোষণা আসতে পারে খুব শীঘ্রই।

মূল্যবৃদ্ধির কারণ:

জ্বালানি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য বৃদ্ধি এবং ডলার সংকটের কারণে আমদানিতে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে। এই বিশাল ভর্তুকি সামাল দিতেই অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম সমন্বয় করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।শুধু ডিজেলের বাড়তি দাম নয়, নানা খরচ যুক্ত করে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণে সরকারকে চাপ দিচ্ছে মালিকপক্ষ। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) নেতৃত্বাধীন বাসভাড়া পুনর্নির্ধারণ কমিটিও তা মেনে নিচ্ছে। তারা তেলের বাইরে বিভিন্ন খরচ বেড়েছে ধরে ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে। কিছু খরচ আসলে ‘গায়েবি’, যেগুলোর কোনো অস্তিত্ব নেই।

।কমিটি বাসভাড়া কিলোমিটারপ্রতি ২২ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। যদিও শুধু ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি বিবেচনায় নিলে ভাড়া বাড়ার কথা কিলোমিটারে ১৫ পয়সা। মালিকেরা খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন অয়েল, টায়ার, টিউব, লুব্রিকেন্টস ও বাসের চেসিসের (ইঞ্জিনসহ কাঠামো) মূল্যবৃদ্ধির কথা বলছে। সে অনুযায়ী ভাড়া নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে।


সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ালে ভাড়া বাড়ানোর আলোচনাই এখন আসত না। মালিকেরা মূলত এই সুযোগ নিচ্ছেন। ২০২২ সালেও জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর তাঁরা একই কৌশলে বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ করেছিলেন। পরে ঢাকা শহরে তার চেয়েও বেশি আদায় শুরু করেন।


বর্তমানে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরে বাস ও মিনিবাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২ টাকা ৪২ পয়সা। নতুন ভাড়ার হার কার্যকর হলে কিলোমিটারে ভাড়া দাঁড়াবে ২ টাকা ৬৪ পয়সা। অন্যদিকে দূরপাল্লার পথে বর্তমান ভাড়া কিলোমিটারে ২ টাকা ১২ পয়সা; তা বাড়িয়ে ২ টাকা ৩৪ পয়সা প্রস্তাব করা হয়েছে।


প্রভাব পড়বে যেখানে:

তেলের দাম বাড়ার ঘোষণা আসার আগেই বাজারে এক ধরনের অস্থিরতা কাজ করছে। পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তেলের দাম বাড়লে বাস ও ট্রাক ভাড়া আবারও বৃদ্ধি পাবে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর। চাল, ডাল, সবজিসহ প্রতিটি জিনিসের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া:

এদিকে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর দাবি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই সময়ে তেলের দাম বাড়লে তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় মেটানো অসম্ভব হয়ে পড়বে। অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, হুট করে দাম না বাড়িয়ে বরং বিকল্প ব্যবস্থা বা ধাপে ধাপে সমন্বয় করলে সাধারণ মানুষের জন্য সহনীয় হতো।

উপসংহার:

সরকার যদিও বলছে এটি একটি নিয়মিত সমন্বয় প্রক্রিয়া, তবে সাধারণ জনগণের দৃষ্টি এখন নতুন এই দামের ঘোষণার দিকে। তেলের দাম বৃদ্ধির এই প্রভাব বাজার ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের পকেটে কতটা চাপ সৃষ্টি করে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।



একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ