Header Ads Widget

Responsive Advertisement

৪৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং কিনছে বিমান: বহর আধুনিকায়নে মেগা চুক্তি সম্পন্ন

 


৪৫ হাজার কোটি টাকায় ১৪টি বোয়িং কিনছে বিমান: বহর আধুনিকায়নে মেগা চুক্তি সম্পন্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহর আধুনিকীকরণ ও আন্তর্জাতিক রুট সম্প্রসারণের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং কোম্পানির কাছ থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ৩.৭ বিলিয়ন ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকার এই বিশাল চুক্তিটি বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে সম্পন্ন হয়।

চুক্তির বিস্তারিত ও সরবরাহের সময়সীমা

বিমানের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ এবং বোয়িংয়ের পক্ষে ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি এই চুক্তিতে সই করেন। চুক্তির শর্তানুযায়ী, ক্রয়কৃত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে:

  • ১০টি ওয়াইড-বডি ‘৭৮৭ ড্রিমলাইনার’

  • ৪টি ন্যারো-বডি ‘৭৩৭ ম্যাক্স’ মডেলের উড়োজাহাজ।

এই নতুন উড়োজাহাজগুলো ২০৩১ সালের অক্টোবর থেকে সরবরাহ শুরু হবে এবং ২০৩৫ সালের মধ্যে পর্যায়ক্রমে পুরো বহর বিমানের হাতে পৌঁছাবে।

সক্ষমতা বৃদ্ধি ও জ্বালানি সাশ্রয়

চুক্তি সই অনুষ্ঠানে বিমানের সিইও কাইজার সোহেল আহমেদ বলেন, "জ্বালানি-সাশ্রয়ী ও উন্নত প্রযুক্তির এই উড়োজাহাজগুলো বিমানের অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক রুট নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এটি দেশের পর্যটন খাতের বিকাশ ও দক্ষ জনবল তৈরিতেও সহায়ক হবে।"

বোয়িংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিগি জানান, নতুন উড়োজাহাজগুলো প্রায় ২০ শতাংশ বেশি জ্বালানি সাশ্রয়ী এবং এগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দীর্ঘ দূরত্বের রুটে ব্যবহার করা হবে।

দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

উল্লেখ্য যে, এই ক্রয় প্রক্রিয়াটি বেশ কয়েকজন নীতিনির্ধারকের হাত ঘুরে চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার প্রাথমিক আলোচনা শুরু হলেও গত ৩০ ডিসেম্বর বিমান পরিচালনা পর্ষদে ১৪টি বোয়িং কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এর আগে বিগত সরকারের আমলে ১০টি এয়ারবাস কেনার কথা থাকলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে বোয়িংকেই বেছে নিল বিমান কর্তৃপক্ষ।

উপস্থিত অতিথিবৃন্দ

অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:

  • বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।

  • পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।

  • বেসামরিক বিমান পরিবহন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

  • প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবীর।

  • বিমানের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেইন।

  • মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন।

বিশ্লেষণ: এই চুক্তির মাধ্যমে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস বৈশ্বিক এভিয়েশন বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করার পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল। বিপুল বিনিয়োগের এই প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়ন যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ