Header Ads Widget

Responsive Advertisement

শান্তি আলোচনার পথে ৫টি বড় বাধা: যে শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

 


শান্তি আলোচনার পথে ৫টি বড় বাধা: যে শর্তে আটকে আছে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পকেট নিউজ

দীর্ঘদিন ধরে চলা চরম উত্তেজনা এবং প্রায় দুই মাসব্যাপী যুদ্ধের ছায়া কাটিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান আলোচনার টেবিলে বসলেও একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানো এখনো অনিশ্চিত। দুই দেশের বিপরীতমুখী অবস্থান ও পাঁচটি কঠিন শর্তের বেড়াজালে আটকে গেছে শান্তি প্রক্রিয়া।

আলোচনা থমকে যাওয়ার প্রধান ৫টি কারণ:

১. পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎ: যুক্তরাষ্ট্রের দাবি ইরানকে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনো স্থায়ী বিধিনিষেধ মানবে না। যেকোনো চুক্তি হলে তা কেবল নির্দিষ্ট কয়েক বছরের মেয়াদে হতে পারে।

২. ইউরেনিয়াম মজুত নিয়ে দ্বন্দ: ইরানের কাছে বর্তমানে উচ্চ মাত্রায় সমৃদ্ধ প্রায় ৪০০ কেজি (৮৮০ পাউন্ড) ইউরেনিয়াম মজুত রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি, এই পুরো মজুত যুক্তরাষ্ট্রের হেফাজতে রাখতে হবে। ইরান এই প্রস্তাবকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে।

৩. হরমুজ প্রণালি ও বন্দর অবরোধ: তেহরান স্পষ্ট করেছে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত তারা হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ তুলে নেবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান—চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার আগে কোনো অবরোধ প্রত্যাহার নয়।

৪. বিদেশে আটকা পড়া অর্থ: ইরান তাদের একটি বড় দাবি হিসেবে বিদেশে আটকা পড়ে থাকা প্রায় ২ হাজার কোটি (২০ বিলিয়ন) ডলার অর্থ ফেরত দেওয়ার শর্ত দিয়েছে। একইসঙ্গে সকল অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিও তাদের আলোচনার টেবিলে অন্যতম শর্ত।

৫. ২৭০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতিপূরণ: সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে ইরান যুদ্ধক্ষতির দাবি তুলেছে। তেহরানের দাবি অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় তাদের যে পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার বিনিময়ে দেশ দুটিকে মোট ২৭০ বিলিয়ন (২৭ হাজার কোটি) ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতামত:

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই পাঁচটি শর্তের প্রতিটিই অত্যন্ত জটিল। বিশেষ করে ক্ষতিপূরণ এবং ইউরেনিয়াম মজুতের মালিকানা নিয়ে দুই পক্ষ যেভাবে অনড় অবস্থানে রয়েছে, তাতে নিকট ভবিষ্যতে কোনো সমাধান আসবে কি না—তা নিয়ে সংশয় রয়েই যাচ্ছে।

তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ