Header Ads Widget

Responsive Advertisement

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির চরম রূপ: হাঁটুসমান পানি, আকাশচুম্বী ভাড়া

 

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির চরম রূপ: হাঁটুসমান পানি, আকাশচুম্বী ভাড়া আর বাসের অপেক্ষায় দিশেহারা মানুষ

ঈদযাত্রায় ভোগান্তির চরম রূপ: হাঁটুসমান পানি, আকাশচুম্বী ভাড়া আর বাসের অপেক্ষায় দিশেহারা মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৬ মে, ২০২৬

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা ছেড়ে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও এর আশপাশের এলাকা এখন জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। তবে বাড়ি ফেরার এই যাত্রা আনন্দদায়ক হওয়ার বদলে পরিণত হয়েছে চরম ভোগান্তিতে। টার্মিনাল এলাকায় বাসের সংকট, চড়া মূল্যে টিকিট বিক্রি এবং এর ওপর দুপুরের ঝুম বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতা ঘরমুখো মানুষের কষ্টকে যেন পাহাড়সম করে তুলেছে।

বাসের সংকট ও অসাধু চক্রের দাপট

আজ মঙ্গলবার সকাল থেকেই সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও জনপথ মোড় এলাকায় তিল ধারণের ঠাঁই নেই। ঘরমুখো যাত্রীদের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। টার্মিনাল সংশ্লিষ্টদের দাবি, আগের রাতে ও সকালে যেসব বাস বিভিন্ন জেলায় গিয়েছিল, সেগুলোর একটি বড় অংশ এখনো ঢাকায় ফিরে আসেনি। ফলে তৈরি হয়েছে তীব্র বাসের সংকট।

এই সুযোগে সক্রিয় হয়ে উঠেছে অসাধু পরিবহন চক্র। যাত্রীদের অভিযোগ, একই বাসের টিকিটে ভিন্ন ভিন্ন ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

  • ভাড়ার বৈষম্য: বরিশালগামী আফরা এক্সপ্রেসের স্বাভাবিক ভাড়া যেখানে ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা, সেখানে তা ৮০০ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে।

  • হতাশাজনক পরিস্থিতি: কোথাও টিকিট নেই, আবার কোথাও যাত্রীভেদে ৫০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে পরিবহন কাউন্টারগুলোতে কথা বলতে গেলে কর্মচারীদের চরম ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ লক্ষ্য করা গেছে।

বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় মানবেতর যাত্রা

দুপুর ১২টার পর রাজধানীতে শুরু হওয়া ঝুম বৃষ্টি পরিস্থিতির ভয়াবহতা বাড়িয়ে দেয়। টার্মিনালের সামনের রাস্তাগুলোতে হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় যাত্রী ও পরিবহন—উভয়েরই চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে।

  • দুর্ভোগের চিত্র: বৃষ্টি থেকে বাঁচতে টার্মিনালের ছাউনির নিচে আশ্রয় নিলেও যাত্রীদের ভিড় কমেনি। অনেকে ব্যাগ মাথায় দিয়ে, ছোট শিশু কোলে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যেই বাসের খোঁজে কাদার মধ্য দিয়ে ছুটছেন।

  • হতাশা: দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকেও বাস না পেয়ে অনেককে আবার রিকশা ভাড়া করে অন্য গন্তব্যের দিকে যেতে দেখা গেছে। শিশুদের ভেজা কাপড়ে কাঁদতে থাকা দৃশ্য ছিল খুবই হৃদয়বিদারক।

ঘরমুখো যাত্রীদের আক্ষেপ

পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে আসা যাত্রী শাহেদ আলম আক্ষেপ করে বলেন, "বাড়ি ফিরতেও যদি এমন অবর্ণনীয় ভোগান্তি পোহাতে হয়, তবে মানুষ যাবে কোথায়?" একই কথা জানালেন মনোয়ারা বেগম নামের আরেক যাত্রী, যিনি সন্তানকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়েও টিকিট না পেয়ে ধোলাইপারের দিকে ফিরে যাচ্ছিলেন।

 প্রতিবেদকের পর্যবেক্ষণ

সরেজমিনে দেখা গেছে, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকার ব্যবস্থাপনায় চরম ঘাটতি রয়েছে। ঈদের আগের এই সময়ে কেন বাসের রুটম্যাপ বা সময়সূচী ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রশাসনের নজরদারি থাকলেও মাঠপর্যায়ে অসাধু কাউন্টার কর্মীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।

ঘরমুখো মানুষের এই দুর্ভোগ কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত বাস ও মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছে ভুক্তভোগী মহল। ঈদযাত্রার এই কষ্ট সয়েই মানুষ বাড়ির টানে এগিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—পরিকল্পিত ব্যবস্থার অভাবে প্রতিবারই কেন এমন চরম ভোগান্তিতে পড়তে হবে সাধারণ মানুষকে?

ঈদযাত্রার সব খবর ও পরিস্থিতির আপডেট সবার আগে পেতে চোখ রাখুন ‘পকেট নিউজ’-এ। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ