📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

 

হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১০ আগস্ট ২০২৬

তথ্যসূত্র: রয়টার্স 

ইরান ও ওমানের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নতুন নৌপথের সীমা নির্ধারণ নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোর দাবি করা হলেও প্রণালিটি কবে পুরোপুরি খুলবে, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা কাটেনি। তেহরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আরও কিছু শর্ত পূরণের দাবি এবং আঞ্চলিক সংঘাতের নতুন উত্তেজনা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ফের উদ্বেগ তৈরি করেছে। এর প্রভাবে সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে।

সোমবার আন্তর্জাতিক বাজারে লেনদেন শুরুর পর ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯১ সেন্ট বা ১ দশমিক ০৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৪ দশমিক ৪৬ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট বা ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ৬১ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৭৮ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৭৮ দশমিক ৭৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এর আগে গত সপ্তাহে ব্রেন্ট ও ডব্লিউটিআই—দুই ধরনের তেলের দামই ৭ শতাংশের বেশি কমেছিল। তখন বাজারে ধারণা তৈরি হয়েছিল, ইরান ও ওমানের মধ্যে দ্রুত সমঝোতা হতে পারে এবং এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়া সম্ভব হবে। কিন্তু সেই প্রত্যাশা এখনো বাস্তবে রূপ নেয়নি।

হরমুজ নিয়ে সমঝোতা চূড়ান্ত পর্যায়ে

ইরান জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন নৌপথের সীমা নির্ধারণ নিয়ে ওমানের সঙ্গে তাদের আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে প্রণালিটি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার আগে যুক্তরাষ্ট্রকে আরও কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে বলে জানিয়েছে তেহরান।

ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার অন্যতম শর্ত হিসেবে সংঘাতে দেশটির ওপর ব্যাপক হামলার জন্য ক্ষতিপূরণের বিষয়টিও সামনে আনা হয়েছে। ফলে ওমানের মধ্যস্থতায় নৌপথ নিয়ে অগ্রগতি হলেও বৃহত্তর রাজনৈতিক সমঝোতা ছাড়া হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব মূলত এর ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে। পারস্য উপসাগর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।

ফলে এই প্রণালিতে দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা তৈরি হলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, এশিয়া, ইউরোপ ও অন্যান্য অঞ্চলের জ্বালানি বাজারেও এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।

বাস্তব প্রমাণের অপেক্ষায় বাজার

হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ইতিবাচক বার্তা এলেও আন্তর্জাতিক বাজারের ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের মতে, আলোচনা এগোনো ও থেমে যাওয়ার কারণে ব্যবসায়ীরা এখন ঝুঁকি কমানোর আগে বাস্তব প্রমাণ দেখতে চাইছেন। তাঁর মতে, ট্যাংকার চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চিত খবর কিংবা আনুষ্ঠানিক কোনো চুক্তি ছাড়া বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি দূর হবে না।

এ কারণেই গত সপ্তাহে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ার পর সোমবার আবার ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। বাজারে এখন মূল প্রশ্ন—হরমুজ প্রণালি সত্যিই খুলছে কি না এবং খুললেও কোন শর্তে তা স্বাভাবিক হবে।

যুক্তরাষ্ট্র–ইরান আলোচনাতেও অনিশ্চয়তা

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অস্থিরতার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রাজনৈতিক আলোচনাও স্থবির অবস্থায় রয়েছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, জুনে স্বাক্ষরিত অন্তর্বর্তী সমঝোতা যুক্তরাষ্ট্র লঙ্ঘন না করা পর্যন্ত তেহরান ওয়াশিংটনের সঙ্গে নতুন করে আলোচনা শুরু করবে না।

অর্থাৎ, একদিকে ওমানের সঙ্গে নৌপথ নিয়ে ইরানের আলোচনা এগোলেও অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কূটনৈতিক অগ্রগতি না থাকায় বৃহত্তর সংঘাত নিরসনের পথ এখনো অনিশ্চিত।

এ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ অনেকাংশে নির্ভর করছে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক এবং যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাব্য সমঝোতার ওপর।

সৌদি আরবের তেল স্থাপনায় হামলায় নতুন উদ্বেগ

হরমুজ প্রণালি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার খবর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

ইরানের ঘনিষ্ঠ হুতি গোষ্ঠী জানিয়েছে, তারা সৌদি আরামকোর জাজান শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে সরবরাহব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের বিস্তার ঘটলে তেল উৎপাদন, শোধনাগার ও পরিবহন অবকাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এর ফলে সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আরও বাড়তে পারে।

১৫টি জাহাজে হামলার দাবি

সংঘাতের প্রভাব যে শুধু স্থলভাগে সীমাবদ্ধ নেই, তারও ইঙ্গিত মিলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এডনকের বক্তব্যে।

কোম্পানিটি জানিয়েছে, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় তাদের ১৫টি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে। বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে এমন ঝুঁকি বাড়তে থাকলে আন্তর্জাতিক জাহাজ পরিবহন ও বীমা ব্যয়ও বাড়তে পারে।

বিশেষ করে তেলবাহী ট্যাংকারগুলো যদি নিরাপত্তাজনিত কারণে বিকল্প পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়, তাহলে পরিবহন সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়বে। এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এবং আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ওপর পড়তে পারে।

প্রতিরক্ষা সহযোগিতায়ও বাড়ছে আঞ্চলিক উত্তেজনা

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে। দুটি দেশই সুন্নি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ। অন্যদিকে ইরান শিয়া মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, সংঘাত যদি নতুন কোনো দেশে ছড়িয়ে পড়ে বা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে ধারাবাহিক হামলা হয়, তাহলে তেলের বাজারে সরবরাহ-ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

সামনে কী হতে পারে

হরমুজ প্রণালি দ্রুত খুলে গেলে আন্তর্জাতিক তেলবাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কিছুটা কমতে পারে। সে ক্ষেত্রে গত সপ্তাহের মতো তেলের দাম কমার প্রবণতা আবারও দেখা দিতে পারে। তবে প্রণালি খোলার বিষয়ে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত নিশ্চয়তা না আসা পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা থাকার সম্ভাবনাই বেশি।

অন্যদিকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার অগ্রগতি না হলে এবং হরমুজে জাহাজ চলাচলে হামলা অব্যাহত থাকলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলো নতুন করে হামলার শিকার হলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সব মিলিয়ে, বর্তমানে আন্তর্জাতিক তেলবাজারের সবচেয়ে বড় অনিশ্চয়তার জায়গাগুলোর একটি হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালি। ইরান-ওমান সমঝোতা কত দ্রুত বাস্তবায়িত হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক কোন দিকে যায় এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজ চলাচল কতটা নিরাপদ হয়—এসব বিষয়ই আগামী দিনগুলোতে বিশ্ববাজারে তেলের দামের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ