মায়ামিতে মেসির ‘রাজকীয়’ বেতন: একা মেসির আয়ই লিগের অনেক দলের চেয়ে বেশি!
স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ| ১৪ মে, ২০২৬
লিওনেল মেসি এবং ইন্টার মায়ামি—এই রসায়ন যে শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও আর্থিক বিপ্লব ঘটাচ্ছে তার প্রমাণ মিলল এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সর্বশেষ তথ্যে। নতুন চুক্তিতে ইন্টার মায়ামিতে মেসির বেতন আগের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। বর্তমানে তাঁর বার্ষিক নিশ্চিত আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ডলারে (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪৮ কোটি টাকা)।
মেসির আয়ের ব্যবচ্ছেদ
এমএলএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মেসির বর্তমান মূল বেতন ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার। তবে এর সাথে মার্কেটিং বোনাস ও এজেন্ট ফি যোগ করলে মোট নিশ্চিত আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২ কোটি ৮৩ লাখ ডলারের বেশি।
তুলনা: আয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি (এলএএফসি) তারকা সন হিউং-মিনের চেয়েও মেসি দ্বিগুণের বেশি আয় করছেন।
কি অন্তর্ভুক্ত নেই: এই আয়ের মধ্যে ক্লাব বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সাথে থাকা বাণিজ্যিক চুক্তি এবং মাঠের পারফরম্যান্স বোনাস ধরা হয়নি। অর্থাৎ, সব মিলিয়ে মেসির প্রকৃত আয় এই অংকের চেয়েও ঢের বেশি।
মায়ামির ‘বিশাল’ বাজেট বনাম বাকি লিগ
ইন্টার মায়ামি এখন এমএলএস-এর সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলে পরিণত হয়েছে। দলটির মোট বেতন খরচ এখন ৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলার।
ব্যয়ের চিত্র: দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ব্যয় করা দল এলএএফসি-র চেয়েও মায়ামি ২ কোটি ডলার বেশি খরচ করছে।
বিস্ময়কর তথ্য: লিগের সবচেয়ে কম বাজেটের দল ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়নের (১ কোটি ১৭ লাখ ডলার) তুলনায় মায়ামির খরচ প্রায় পাঁচগুণ বেশি। মজার ব্যাপার হলো, লিগের অনেক দলের সব খেলোয়াড়ের মোট বেতনের চেয়েও মেসির একার আয় বেশি!
এমএলএস-এ বেতনের ঊর্ধ্বগতি
মেসির আগমনে পুরো লিগের আর্থিক চিত্রই বদলে গেছে।
১৬ এপ্রিল পর্যন্ত লিগের একজন খেলোয়াড়ের গড় নিশ্চিত আয় দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৮৮ হাজার ৮১৬ ডলার, যা গত বছরের তুলনায় ৮.৯ শতাংশ বেশি।
পুরো লিগের খেলোয়াড়দের মোট নিশ্চিত পারিশ্রমিক এখন ৬৩ কোটি ১০ লাখ ডলার।
কেন এই আকাশচুম্বী বেতন?
২০২৩ সালে জুলাইয়ে যখন মেসি মায়ামিতে যোগ দেন, তখন তাঁর নিশ্চিত আয় ছিল ২ কোটি ৪ লাখ ডলারের মতো। তবে গত অক্টোবরে ২০২৮ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তি করার পর তাঁর বেতন এক লাফে দ্বিগুণ করা হয়। এর পেছনে রয়েছে মেসির অবিশ্বাস্য সাফল্য:
মায়ামিকে ইতিহাসের প্রথম এমএলএস কাপ জেতানো।
গত মৌসুমে ২৯ গোল করে টানা দ্বিতীয়বারের মতো মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার (MVP) হওয়া।

0 মন্তব্যসমূহ