শুরুতেই ৩ উইকেট শূন্য রানে, শেষ পর্যন্ত সিরিজও হাতছাড়া অস্ট্রেলিয়ার; মিরপুরে রচিত হলো বাংলাদেশের নতুন ক্রিকেট ইতিহাস
(নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১১ জুন ২০২৬)
বাংলাদেশ ক্রিকেটের ইতিহাসে আরেকটি গৌরবময় অধ্যায় যুক্ত হলো মিরপুরে। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছে টাইগাররা।
তিন ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৫ উইকেটের জয় তুলে নিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দীর্ঘদিনের অপূর্ণতাও ঘুচেছে।
শূন্য রানে ৩ উইকেট, অবিশ্বাস্য সূচনা
ম্যাচের শুরুতেই অস্ট্রেলিয়ার ওপর ঝড় বইয়ে দেন বাংলাদেশের পেসাররা।
মাত্র ২ ওভারেই কোনো রান না তুলেই ৩ উইকেট হারায় অজিরা। ওয়ানডে ইতিহাসে ১ হাজারের বেশি ম্যাচ খেলা অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটি ছিল এক লজ্জার রেকর্ড—প্রথমবারের মতো শূন্য রানে ৩ উইকেট হারানোর ঘটনা।
তাসকিন আহমেদের আগুনঝরা বোলিংয়ে শুরু হয় ধস। এরপর মোস্তাফিজুর রহমানের নিখুঁত লাইন-লেন্থে আরও দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারীরা।
ধস সামলে লড়াইয়ে ফেরে অস্ট্রেলিয়া
শুরুটা ভয়াবহ হলেও হাল ছাড়েনি অস্ট্রেলিয়া।
জস ইংলিস, ক্যামেরন গ্রিন ও মার্নাস লাবুশেনের দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ে ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে তারা। বিশেষ করে গ্রিন ও লাবুশেনের ১০৩ রানের জুটি দলকে সম্মানজনক সংগ্রহের পথে নিয়ে যায়।
তবে আবারও আঘাত হানেন তাসকিন। পরপর দুই বলে ক্যামেরন গ্রিন ও অ্যাডাম জাম্পাকে বোল্ড করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে এনে দেন তিনি।
বৃষ্টির কারণে ৪২ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস থামে ১৮৭ রানে।
সহজ লক্ষ্য, তবু ছিল চাপ
ডিএলএস পদ্ধতিতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২ রান।
তবে শুরুতেই ধাক্কা খায় স্বাগতিকরা। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফেরেন তানজিদ হাসান। কিছু সময় অস্ট্রেলিয়ান বোলাররাও ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।
কিন্তু সেই চাপ সামাল দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও সৌম্য সরকার।
জয়ের ভিত গড়ে দেন শান্ত-সৌম্য
দুই ব্যাটারের ৮৬ রানের জুটি বাংলাদেশের জয়ের ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
দুজনের কেউই ফিফটির দেখা না পেলেও তাঁদের দায়িত্বশীল ব্যাটিং দলের রান তাড়াকে সহজ করে দেয়। একের পর এক দৃষ্টিনন্দন শটে অস্ট্রেলিয়ান বোলারদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন তাঁরা।
হৃদয়-মিরাজের জুটিতে নিশ্চিত জয়
একসময় ১৪৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ।
তবে তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ দারুণ ধৈর্যের সঙ্গে ম্যাচ শেষ করে আসেন। তাঁদের অবিচ্ছিন্ন ৫১ রানের জুটিতে জয় নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের।
মাথায় বল লেগে চিকিৎসা নেওয়ার পরও মিরাজ ছক্কা মেরে ম্যাচ শেষ করেন, যা মিরপুরের দর্শকদের উচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে দেয়।
তাসকিনের আগুনে বোলিং
ম্যাচের নায়ক ছিলেন তাসকিন আহমেদ।
নতুন বলে অস্ট্রেলিয়ার টপ অর্ডার গুঁড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ক্যামেরন গ্রিন ও জাম্পার উইকেট—সব মিলিয়ে ম্যাচের গতিপথ বদলে দেন এই পেসার।
তাঁর বোলিংয়ের ওপর ভর করেই ম্যাচের শুরুতে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে বাংলাদেশ।
নতুন ইতিহাস, নতুন স্বপ্ন
ঘরের মাঠে টানা পঞ্চম ওয়ানডে সিরিজ জয়ের পাশাপাশি বাংলাদেশ পূরণ করল বহুদিনের এক আক্ষেপ।
টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে এতদিন শুধু ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিততে পারেনি টাইগাররা। এবার অস্ট্রেলিয়ার বাধাও পেরিয়ে গেল বাংলাদেশ।
এখন সেই তালিকায় বাকি শুধু ইংল্যান্ড।
মিরপুরের এই জয় তাই শুধু একটি সিরিজ জয়ের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাস, পরিণতি এবং বিশ্ব ক্রিকেটে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করার এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ