Header Ads Widget

Responsive Advertisement

মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ, তবে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা আরও কয়েক দিন

 

মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ, তবে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা আরও কয়েক দিন  নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৬ জুন ২০২৬

মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ, তবে বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা আরও কয়েক দিন

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৬ জুন ২০২৬

অবশেষে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বর্ষার প্রধান নিয়ামক মৌসুমি বায়ু। শনিবার দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের টেকনাফ উপকূল দিয়ে এ বায়ুর প্রবেশ ঘটেছে। তবে মৌসুমি বায়ু এলেই দেশজুড়ে টানা বৃষ্টি শুরু হবে—এমন ধারণা এবার বাস্তবতা পাচ্ছে না। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে সক্রিয় পশ্চিমা লঘুচাপের সঙ্গে মৌসুমি বায়ুর সংঘাতের কারণে বর্ষার পূর্ণ প্রভাব অনুভব করতে আরও অন্তত এক সপ্তাহ অপেক্ষা করতে হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, শনিবার বিকেলের মধ্যেই মৌসুমি বায়ু চট্টগ্রাম অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। সাধারণত ৩১ মে থেকে ১ জুনের মধ্যে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল দিয়ে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। কিন্তু চলতি বছর তা প্রায় এক সপ্তাহ দেরিতে এসেছে। গত বছর ২৫ মে’র মধ্যেই মৌসুমি বায়ুর আগমন হয়েছিল।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ুর দেরিতে প্রবেশের ফলে কার্যত বর্ষা মৌসুমের বৃষ্টিপাতের সময়কালও কিছুটা কমে গেল। আর এ কারণেই চলতি মৌসুমে স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা আরও জোরালো হয়েছে।

বৃষ্টি কম হওয়ার শঙ্কা

বাংলাদেশে বার্ষিক মোট বৃষ্টিপাতের বড় অংশই জুন থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে হয়ে থাকে। বিশেষ করে জুলাই মাসে সবচেয়ে বেশি এবং জুনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। কিন্তু চলতি বছর আবহাওয়া অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছে, পুরো বর্ষা মৌসুমেই বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।

এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে প্রশান্ত মহাসাগরীয় জলবায়ু প্রক্রিয়া ‘এল নিনো’র প্রভাব। আন্তর্জাতিক জলবায়ু মডেলগুলোও ইঙ্গিত দিচ্ছে, এল নিনোর কারণে দক্ষিণ এশিয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে মৌসুমি বৃষ্টিপাত কম হতে পারে।

এখনই মিলছে না বর্ষার স্বস্তি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুক জানিয়েছেন, বর্তমানে পশ্চিমা লঘুচাপ সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে মৌসুমি পুবালি বাতাস প্রবেশ করছে। এই দুই ভিন্ন বায়ুপ্রবাহের মধ্যে সংঘাতের কারণে আগামী কয়েক দিনে বৃষ্টিপাত কিছুটা কমে যেতে পারে।

বিশেষ করে ৯ ও ১০ জুন দেশের অনেক এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ু পুরো দেশে বিস্তৃত হয়ে সক্রিয় হতে চলতি মাসের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

বৃষ্টির ধরনেও পার্থক্য

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পশ্চিমা লঘুচাপের কারণে যে বৃষ্টি হয়, তা সাময়িকভাবে তাপমাত্রা কমালেও দীর্ঘস্থায়ী শীতলতা এনে দিতে পারে না। কিন্তু মৌসুমি পুবালি বাতাসের প্রভাবে হওয়া বৃষ্টির পর পরিবেশে তুলনামূলক বেশি শীতলতা অনুভূত হয় এবং আবহাওয়া দীর্ঘ সময় আরামদায়ক থাকে।

তাপপ্রবাহে কিছুটা স্বস্তি

গত কয়েক সপ্তাহের তীব্র তাপপ্রবাহে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। তবে শুক্রবার থেকে রাজধানী ঢাকা-সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় তাপমাত্রা কিছুটা কমেছে। যদিও শনিবার কয়েকটি এলাকায় আবারও তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, মৌসুমি বায়ু পুরোপুরি সক্রিয় হলে তাপপ্রবাহের প্রকোপ আরও কমবে এবং দেশের অধিকাংশ এলাকায় নিয়মিত বর্ষণ শুরু হবে। তবে এবারের বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পরিমাণ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ