ইরানের ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন মন্তব্য ট্রাম্পের, চুক্তি ছাড়াই পাওয়ার দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ৫ জুন ২০২৬
ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে কোনো চুক্তি ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্র চাইলে দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের নিয়ন্ত্রণ নিতে সক্ষম। তবে একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এমন পদক্ষেপের প্রয়োজন নেই।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানের ইউরেনিয়াম বর্তমানে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র চাইলে তা সংগ্রহ করতে পারলেও এ মুহূর্তে সেই প্রয়োজন অনুভূত হচ্ছে না।
পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন উত্তেজনা
ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেছিলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম উদ্ধার করে তা যুক্তরাষ্ট্রে স্থানান্তরের বিষয়ে দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করতে পারে।
তবে এই প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। তেহরানের অবস্থান স্পষ্ট—দেশটির সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম কোনো অবস্থাতেই বিদেশে পাঠানো হবে না।
খামেনির সঙ্গে বৈঠকে অনাগ্রহ
ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প জানান, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা আলী খামেনির সঙ্গে বর্তমানে তাঁর বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই।
তবে তিনি ইঙ্গিত দেন, যদি দুই দেশের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য সমঝোতা চুক্তি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
বিশ্লেষকদের মতে, এই মন্তব্য একদিকে কূটনৈতিক চাপ বজায় রাখার কৌশল, অন্যদিকে সম্ভাব্য আলোচনার পথও খোলা রাখছে।
ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যৌথভাবে কাজ করে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সংগ্রহ করবে এবং পরে তা যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া হবে। একই সাক্ষাৎকারে তিনি ‘নিউক্লিয়ার ডাস্ট’ বা পারমাণবিক অবশিষ্টাংশ উদ্ধারের কথাও উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখাই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য এবং এ কারণেই পূর্ববর্তী সংঘাত ও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।
ইরানের কড়া প্রতিক্রিয়া
ট্রাম্পের বক্তব্যের জবাবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠানোর প্রশ্নই ওঠে না।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম জাতীয় সম্পদ এবং এটি অন্য কোনো দেশে স্থানান্তরের পরিকল্পনা কখনোই ছিল না। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ইউরেনিয়াম পাঠানো ইরানের জন্য কোনো বিকল্প নয়।
দ্রুত চুক্তির আশাবাদ ট্রাম্পের
কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি ট্রাম্প আবারও আশা প্রকাশ করেছেন যে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সমঝোতা দ্রুত সম্পন্ন হতে পারে।
তাঁর দাবি, দুই দেশের মধ্যে আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং চূড়ান্ত চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর বিদ্যমান চাপ ও নৌ-অবরোধ বজায় রাখবে।
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সমীকরণ
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের সাম্প্রতিক বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুকে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা সীমিত করতে চাইছে, অন্যদিকে তেহরান তার পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক উদ্দেশ্যের বলে দাবি করছে। ফলে সম্ভাব্য কোনো চুক্তি হলেও ইউরেনিয়াম সংরক্ষণ, তদারকি এবং নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের দরকষাকষি অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।
www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ