📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

ইউরোপে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, ডুলির প্রথম ম্যাচেই সান মারিনোর বিপক্ষে দারুণ জয়

 

ইউরোপে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, ডুলির প্রথম ম্যাচেই সান মারিনোর বিপক্ষে দারুণ জয়

ইউরোপে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ, ডুলির প্রথম ম্যাচেই সান মারিনোর বিপক্ষে দারুণ জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ| ৬ জুন ২০২৬

বাংলাদেশ ফুটবলের ইতিহাসে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হলো ইউরোপের মাটিতে। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সান মারিনোকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো কোনো ইউরোপীয় দেশের বিপক্ষে জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এটি ছিল নতুন প্রধান কোচ টমাস ডুলির অধীনে দলের প্রথম ম্যাচ, যা স্মরণীয় করে রাখলেন তাঁর শিষ্যরা।

সেরাভালের সান মারিনো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে বাংলাদেশ শুধু জয়ই পায়নি, আধুনিক ও আক্রমণাত্মক ফুটবলেরও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে রক্ষণাত্মক কৌশলে অভ্যস্ত বাংলাদেশের ফুটবলে ডুলির ছোঁয়া যে পরিবর্তনের বার্তা নিয়ে এসেছে, ম্যাচটি ছিল তারই প্রমাণ।

আক্রমণাত্মক পরিকল্পনায় শুরু

ম্যাচের শুরু থেকেই বাংলাদেশকে দেখা যায় ৪-৩-৩ ফরমেশনে। গোলপোস্টের নিচে মিতুল মারমাকে রেখে আক্রমণভাগে রফিকুল ইসলাম, শেখ মোরছালিন ও ফাহিমকে নিয়ে সাজানো হয় দল। মাঝমাঠে অভিজ্ঞ জামাল ভূঁইয়ার নেতৃত্বে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করে বাংলাদেশ।

পরিসংখ্যানও বাংলাদেশের আধিপত্যের কথা বলছে। পুরো ম্যাচে ৫৪ শতাংশ সময় বলের দখল ছিল বাংলাদেশের কাছে এবং দলটি ২৪৪টি সফল পাস সম্পন্ন করে। যা ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আত্মবিশ্বাসী ফুটবলেরই প্রতিফলন।

তপুর জোড়া আঘাতে জয়

বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। ম্যাচের ১৯ মিনিটে কর্নার থেকে আসা বল হেডে জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। ইউরোপীয় দলগুলোর অন্যতম শক্তি হিসেবে পরিচিত সেট-পিস থেকেই গোল করে বাংলাদেশ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যের জানান দেয়।

তবে ৩১ মিনিটে জিয়াকোপেত্তির গোলে সমতায় ফেরে সান মারিনো। এরপর ম্যাচ ধীরে ধীরে ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল। কিন্তু ৮৬ মিনিটে আবারও আবির্ভাব ঘটে তপু বর্মণের। দুর্দান্ত এক হেডে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেদ করে বাংলাদেশের জয়সূচক গোলটি করেন তিনি।

ডুলির সাহসী সিদ্ধান্ত

দ্বিতীয়ার্ধে কোচ টমাস ডুলি একসঙ্গে ছয়টি পরিবর্তন এনে বড় ঝুঁকি নেন। তবে সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। বদলি খেলোয়াড়দের হাই-প্রেসিং ফুটবলের কারণে সান মারিনোর রক্ষণভাগ চাপে পড়ে এবং বারবার ভুল করতে বাধ্য হয়।

ডুলির এই কৌশল বাংলাদেশের আক্রমণে নতুন গতি এনে দেয় এবং শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

রক্ষণেও ছিল দৃঢ়তা

আক্রমণের পাশাপাশি রক্ষণভাগেও প্রশংসা কুড়িয়েছে বাংলাদেশ। পুরো ম্যাচে ৩৪ বার বল পুনরুদ্ধার, ১২টি সফল ট্যাকল এবং ২০টি ক্লিয়ারেন্স করে প্রতিপক্ষকে আটকে রাখেন হামজা চৌধুরী, তপু বর্মণরা।

বিশেষ করে শেষ ১৫ মিনিটে সান মারিনোর একাধিক আক্রমণ প্রতিহত করে বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা জয় নিশ্চিত করেন।

নতুন যুগের ইঙ্গিত

এই জয় শুধু একটি আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে সাফল্য নয়, বরং বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন সম্ভাবনারও প্রতীক। ইউরোপীয় প্রতিপক্ষের বিপক্ষে জয়, বল দখলে আধিপত্য, আক্রমণাত্মক কৌশল এবং কোচ টমাস ডুলির আধুনিক ফুটবল দর্শনের সফল প্রয়োগ—সব মিলিয়ে ম্যাচটি বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে বিশেষ স্থান করে নেবে।

শেষ বাঁশির পর খেলোয়াড়দের উচ্ছ্বাস ছিল কেবল একটি জয় উদ্‌যাপন নয়; বরং দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ভেঙে নতুন স্বপ্ন দেখার উপলক্ষও।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ