মোবাইল টাওয়ারে স্বাস্থ্যঝুঁকি কতটুকু? বুয়েটকে দিয়ে গবেষণার নির্দেশ হাইকোর্টের
আদালত প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১৪ মে, ২০২৬
দেশে স্থাপিত মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণে (রেডিয়েশন) মানবদেহে কী ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে, তা নির্ণয়ে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে উচ্চ আদালত। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মাধ্যমে এই বিষয়ে একটি নিবিড় গবেষণা চালিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনকে (বিটিআরসি) নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
হাইকোর্টের আদেশ
আজ বুধবার বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। আদালত বিটিআরসিকে একটি নির্দিষ্ট প্রকল্প গ্রহণ করে বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এই গবেষণা সম্পন্ন করতে বলেছে। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই গবেষণা প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের প্রেক্ষাপট
মোবাইল টাওয়ারের বিকিরণ নিয়ে জনস্বার্থে ‘হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ’-এর পক্ষে ২০১২ সালে প্রথম রিট করা হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে আদালত এক রায়ে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে টাওয়ার স্থাপনের ওপর বিধিনিষেধারোপ করে একটি গাইডলাইন তৈরির নির্দেশ দেয়।
২০২৪ সালে বিটিআরসি একটি সমীক্ষা প্রতিবেদন জমা দিলেও রিটকারীর পক্ষ থেকে তাতে আপত্তি জানানো হয়। এরপর বুয়েটের অধ্যাপক কামরুল হাসান আদালতে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন। তিনি টাওয়ারের বিকিরণ মাত্রা কমানোর সুপারিশ করার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি নির্ণয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ গবেষণার প্রস্তাব দেন, যা আজ আদালত গ্রহণ করেছেন।
আইনজীবীদের বক্তব্য
রিট আবেদনকারীর পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, "আগে বিটিআরসি যে প্রতিবেদন দিয়েছিল তাতে আমরা আপত্তি জানিয়েছিলাম। আজ আদালত বুয়েটের মাধ্যমে গবেষণার যে নির্দেশ দিয়েছেন, তাতে প্রকৃত স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো উঠে আসবে বলে আমরা আশা করছি।" বিটিআরসির পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী মনজুর নাহিদ।
পরবর্তী পদক্ষেপ
আদালত এই মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ২ ডিসেম্বর দিন ধার্য করেছেন। বুয়েটের এই গবেষণা প্রতিবেদন দেশে মোবাইল টাওয়ার স্থাপনের ভবিষ্যৎ গাইডলাইন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
হাতের মুঠোয় সকল খবর — পকেট নিউজ-এর সাথেই থাকুন।

0 মন্তব্যসমূহ