বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন কোচ টমাস ডুলি, শুরু হচ্ছে নতুন অধ্যায়
ক্রীড়া ডেস্ক | পকেট নিউজ
অবশেষে সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন জার্মান বংশোদ্ভূত টমাস ডুলি। আজ সকালে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন তাদের আনুষ্ঠানিক ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
৬৫ বছর বয়সী এই অভিজ্ঞ কোচ আজ সকালেই ঢাকায় পৌঁছেছেন। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী রোববার থেকেই বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ক্যাম্পে আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করবেন তিনি।
খেলোয়াড়ি জীবনে বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা
জন্ম জার্মানিতে হলেও টমাস ডুলির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলে। সাবেক এই ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে সাত বছরের ক্যারিয়ারে খেলেছেন ৮১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ। গোল করেছেন ৭টি।
১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলের হয়ে চারটি ম্যাচেই মাঠে ছিলেন তিনি। এরপর ১৯৯৮ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্র দলের অধিনায়ক হিসেবেও নেতৃত্ব দেন।
বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ফুটবলে দীর্ঘ ক্যারিয়ার ডুলিকে একজন পরিণত ফুটবল ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
ক্লাব ক্যারিয়ারেও সফল ডুলি
ক্লাব ফুটবলেও ডুলির ক্যারিয়ার ছিল সমৃদ্ধ। তিনি জার্মানির ঐতিহ্যবাহী ক্লাব বায়ার লেভারকুসেন ও শালকের হয়ে খেলেছেন।
১৯৯৭ সালে শালকের হয়ে জিতেছিলেন উয়েফা কাপ, যা বর্তমানে ইউরোপা লিগ নামে পরিচিত। এছাড়া এফসি কাইজারস্লাটার্নের হয়ে ১৯৯০–৯১ মৌসুমে বুন্দেসলিগা শিরোপাও জিতেছিলেন তিনি।
কোচ হিসেবেও দীর্ঘ অভিজ্ঞতা
খেলোয়াড়ি জীবনের পর কোচিংয়েও নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন টমাস ডুলি। ২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের প্রধান কোচ ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর তিনি ফিলিপাইন জাতীয় দলের প্রধান কোচ হন। তাঁর অধীনে ফিলিপাইন দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ফুটবলে প্রতিযোগিতামূলক দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান শক্ত করে।
ডুলি ভিয়েতনামের ক্লাব ভিয়েতেলের স্পোর্টিং ডিরেক্টর হিসেবেও কাজ করেছেন। সর্বশেষ তিনি গায়ানা জাতীয় দলের দায়িত্বে ছিলেন।
বাংলাদেশের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ
বাংলাদেশ ফুটবল দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক সাফল্যের খোঁজে রয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার বাইরে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স গড়ে তোলা এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্বকাপ অভিজ্ঞতা ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কোচিং জ্ঞান বাংলাদেশের ফুটবলে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে সফলতা নির্ভর করবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, খেলোয়াড় উন্নয়ন এবং পেশাদার পরিবেশ তৈরির ওপর।
প্রথম মিশন সান মারিনো ম্যাচ
টমাস ডুলির অধীনে বাংলাদেশের প্রথম মিশন শুরু হবে আগামী ৫ জুন। ওই দিন সান মারিনোর বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ দল।
এই ম্যাচ দিয়েই নতুন কোচের অধীনে বাংলাদেশের ফুটবলের নতুন যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

0 মন্তব্যসমূহ