বিএনপি যা ওয়াদা দেয়, অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে: কুমিল্লায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
বিশেষ প্রতিনিধি, পকেট নিউজ| ১৬ মে, ২০২৬
বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকলে সেই ওয়াদা অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের মানুষের বিপুল সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করেছে উল্লেখ করে তিনি দেশ পুনর্গঠনে জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা ও ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
আজ শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুর সফরে যাওয়ার পথে এই পথসভায় অংশ নেন।
ওয়াদা পূরণের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম—প্রত্যেক পরিবারের হাতে ধীরে ধীরে আমরা ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছাব, কৃষক কার্ড দেব এবং মসজিদ-মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মীয় গুরুদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করব। আমরা ইতিমধ্যে সেই কাজগুলো শুরু করেছি। বাংলাদেশের প্রায় ৬০ হাজার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেশের মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষক ভাইদের হাতে কৃষক কার্ড দেওয়ার কাজ অল্প করে হলেও শুরু করা হয়েছে। এর মানে দাঁড়ায়, বিএনপি দেশের মানুষকে যে কথা দেয়, সরকারে থাকলে তা সব সময় রক্ষা করার চেষ্টা করে।’
স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশ মুক্ত, এখন কাজ পুনর্গঠন
দেশ পুনর্গঠনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ১৯৭১ সালে যুদ্ধ করে এই দেশ স্বাধীন করেছিলাম। একই সময়ে স্বাধীন হওয়া এশিয়ার অন্য দেশগুলো আজ আমাদের থেকে অনেক এগিয়ে গিয়েছে। কারণ, আমরা এক বিরাট স্বৈরাচারের কবলে পড়েছিলাম। ১৯৭১ সালে যেভাবে হানাদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছিল, ঠিক তেমনিভাবে দেশের মানুষ এবার স্বৈরাচারের কবল থেকে দেশকে মুক্ত করেছে। তবে শুধু দেশ স্বাধীন করলেই হবে না, এখন প্রধান কাজ হচ্ছে দেশকে পুনর্গঠন করা।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিগত ১৬-১৭ বছরের স্বৈরাচারী সরকার যেমন মানুষের ওপর অত্যাচার, গুম ও খুন চালিয়েছে, ঠিক তেমনি দেশের অর্থ-সম্পদ বিদেশে লুটপাট করে পাচার করেছে। এই ব্যাপক লুটপাটের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বর্তমানে কিছুটা চাপের মুখে আছে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে আমাদের কঠোর পরিশ্রম করতে হবে এবং কিছুটা সময় ধৈর্য ধারণ করতে হবে।’
কর্মসংস্থান, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
তারেক রহমান তাঁর সরকারের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা প্রকাশ করে বলেন:
অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা: মা-বোনেরা যাতে শিক্ষায় ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বেকারত্ব দূরীকরণ: দেশের কৃষক ভাইদের স্বাবলম্বী করা এবং দেশে নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপন করে বেকার সমস্যার সমাধান করা হবে।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ: দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমনভাবে নিশ্চিত করা হবে, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে দিনে-রাতের যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
কুমিল্লা বিভাগ ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রসঙ্গ
পথসভা থেকে কুমিল্লা বিভাগ প্রতিষ্ঠা, কুমিল্লায় একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং কুমিল্লা সদর হাসপাতালকে ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় রূপান্তরের দাবি জানানো হয়। এসব দাবি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, ‘কুমিল্লা বিভাগ দাবিটি যদি জনগণের প্রকৃত দাবি হয়ে থাকে, তবে ইনশা আল্লাহ সেটির বাস্তবায়ন করা হবে। এ ছাড়া সমগ্র কুমিল্লা জেলা ও আশপাশের এলাকায় প্রচুর শাকসবজি উৎপাদন এবং বিদেশে রপ্তানি হয়। আপনাদের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবিটি নিয়ে আমি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে শিক্ষামন্ত্রীর সাথে কথা বলব এবং সবকিছু বিবেচনা করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করব। পর্যায়ক্রমে আপনাদের সকল যৌক্তিক দাবি পূরণ হবে।’
পথসভায় উপস্থিত নেতৃবৃন্দ
কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সভাপতি এবং গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে পথসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন:
কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. সেলিম ভূঁইয়া।
কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া।
কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক মোস্তফা মিয়া।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)।
কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা (টিপু)।
কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উদবাতুল বারী (আবু) সহ জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান মাহমুদ (ওয়াসিম)। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুমিল্লা জেলায় প্রবেশের পর পথিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও স্বাগত জানান দলীয় নেতা-কর্মীসহ সাধারণ মানুষ।
পথসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। একদিনের এই সফরে তিনি চাঁদপুরে খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভাসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন।
হাতের মুঠোয় সকল খবর — পকেট নিউজ-এর সাথেই থাকুন।

0 মন্তব্যসমূহ