📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||- ফুটবল-- আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন স্পেন। ------ || ------ 📢 হরমুজ প্রণালি কবে খুলবে, অনিশ্চয়তায় ফের বাড়ল বিশ্ববাজারে তেলের দাম।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, গণতন্ত্রচর্চা নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন

 

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, গণতন্ত্রচর্চা নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অলি আহমদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ, গণতন্ত্রচর্চা নিয়ে জামায়াতের প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ১০ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সোমবার সকালে ১১-দলীয় জোটের একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনে গিয়ে নির্বাচনী কর্তার কার্যালয় থেকে তাঁর পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। যদিও সংসদে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তবু প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন আয়োজন এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জোরদারের লক্ষ্যেই অলি আহমদকে প্রার্থী করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোটের নেতারা।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি দাবি করেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়িত হলে অলি আহমদ রাষ্ট্রপতি পদে একটি গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হতে পারতেন।

‘অলি আহমদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হতে পারতেন’

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সংস্কার হলে অলি আহমদ সবার কাছে গ্রহণযোগ্য প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। তাঁর ভাষ্য, সেই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়িত না হওয়ায় জাতি একজন দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তির সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপির ‘দ্বিচারিতা’ অথবা সংস্কারের বিষয়ে দলটির ইতিবাচক মানসিকতার অভাবের কারণে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

জামায়াতের এই নেতা মূলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেবল জয়-পরাজয়ের হিসাব হিসেবে না দেখে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও রাজনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে দেখার ওপর গুরুত্ব দেন।

জয়-পরাজয় নয়, প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মূল লক্ষ্য

ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও ১১-দলীয় জোট কেন প্রার্থী দিয়েছে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তাঁদের কাছে জয়-পরাজয়ই প্রধান বিষয় নয়।

তাঁর মতে, প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচন গণতন্ত্রচর্চার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর ক্ষেত্রেও যদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা না থাকে, তাহলে গণতান্ত্রিক চর্চার পরিসর সংকুচিত হয়।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদ রাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ পদ। এই পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন হয়ে গেলে গণতন্ত্রচর্চার কাঙ্ক্ষিত প্রতিফলন ঘটে না। তাই অলি আহমদকে প্রার্থী করার মাধ্যমে তাঁরা নির্বাচনী প্রতিযোগিতা ও গণতান্ত্রিক ধারাকে সামনে আনতে চেয়েছেন।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে প্রশ্ন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতের বক্তব্যে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

হামিদুর রহমান আযাদ অভিযোগ করেন, বিএনপি জনগণের গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করেনি। তাঁর দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়িত হলে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ সংস্কারের বিষয়টিও তার অংশ হয়ে আসত।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা রয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার সুযোগ কতটা থাকা উচিত—এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও বিশেষজ্ঞের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।

জামায়াতের বক্তব্য হলো, সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশ ও ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকা প্রয়োজন। দলটির মতে, সংসদ সদস্যদের ভোটাধিকার অতিরিক্তভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে সংসদীয় গণতন্ত্রের কার্যকারিতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন হয়নি’

হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, সেটির যথাযথ বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি দাবি করেন, জনগণের রায় বাস্তবায়িত হলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হতে পারত।

তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে বৃহত্তর রাজনৈতিক সংস্কারের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা দেখা যায়। অর্থাৎ শুধু একজন প্রার্থীকে নির্বাচনে দাঁড় করানো নয়, বরং সংসদীয় কাঠামো, সাংবিধানিক সংস্কার এবং জনপ্রতিনিধিদের স্বাধীনতার প্রশ্নকেও সামনে আনতে চাইছে ১১-দলীয় জোট।

অলি আহমদের রাজনৈতিক পরিচয়

এলডিপির চেয়ারম্যান অলি আহমদ বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের পরিচিত মুখ। সাবেক সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শেষে তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং বিভিন্ন সময়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

পরবর্তীতে তিনি লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তাঁর অবস্থান এবং বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় এসেছে।

রাষ্ট্রপতি পদে তাঁর প্রার্থিতা তাই শুধু একটি নির্বাচনী আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিরোধী ও জোটভুক্ত দলগুলোর অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

সামনে কী

অলি আহমদের মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর এখন নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী মনোনয়ন যাচাই, প্রার্থিতা চূড়ান্তকরণ এবং পরবর্তী নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে যাবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থী বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও অলি আহমদের প্রার্থিতা নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার সুযোগ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংবিধান সংস্কার, সংসদ সদস্যদের স্বাধীন ভোটাধিকার এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলোও রাজনৈতিক আলোচনায় আরও গুরুত্ব পেতে পারে।

শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কে জয়ী হন, তার পাশাপাশি নির্বাচন কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক ও অংশগ্রহণমূলক হয়—সেটিও বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ব্যবস্থায় গণতন্ত্রচর্চার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হিসেবে বিবেচিত হবে।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ