Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বিসিবি নির্বাচনে বিএনপি–ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য

 
বিসিবি নির্বাচনে বিএনপি–ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হচ্ছেন কয়েকজন


বিসিবি নির্বাচনে বিএনপি–ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য, বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হচ্ছেন কয়েকজন

নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আসন্ন পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাবের আলোচনা জোরালো হয়ে উঠেছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া প্রার্থীদের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থী বর্তমান ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সংসদ সদস্য, মন্ত্রী কিংবা প্রভাবশালী নেতাদের আত্মীয়স্বজন। তাঁদের কয়েকজন আবার বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক হতে যাচ্ছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ তাহেরুল হক চৌহান জানিয়েছেন, তিনটি ক্যাটাগরিতে মোট ৩৩ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। আজ যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে নির্বাচন।

বিভাগীয় ক্যাটাগরিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে

জেলা ও বিভাগীয় ক্যাটাগরিতে কয়েকটি পদে একক প্রার্থী থাকায় তাঁদের পরিচালক হওয়া প্রায় নিশ্চিত। রংপুর বিভাগ থেকে একমাত্র প্রার্থী হয়েছেন বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলামের ভাই মির্জা ফয়সল আমীন।

রাজশাহী বিভাগে একমাত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও বগুড়া–২ আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলমের ছেলে মীর শাকরুল আলম।

সিলেট বিভাগে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পরিচালক নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের সরকারনিযুক্ত প্রশাসক।

অন্যান্য বিভাগেও রাজনৈতিক পরিবারের প্রভাব

যে চারটি বিভাগে নির্বাচন হবে, সেখানেও প্রার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিবারের উপস্থিতি স্পষ্ট। ঢাকা বিভাগ থেকে প্রার্থী হয়েছেন বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতের ছেলে সাইদ বিন জামান।

চট্টগ্রাম বিভাগে পরিচালক পদে লড়ছেন পানিসম্পদমন্ত্রী ও লক্ষ্মীপুর–৩ আসনের সংসদ সদস্য শহীদ উদ্দীন চৌধুরীর চাচা মাঈন উদ্দিন চৌধুরী। খুলনা বিভাগে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলামের ভাই শান্তনু ইসলাম।

ক্লাব ক্যাটাগরিতেও প্রভাবশালী পরিবারের উপস্থিতি

রিটার্নিং কর্মকর্তা ক্লাব ক্যাটাগরির প্রার্থীদের নাম প্রকাশ না করলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বর্তমান বিসিবির অ্যাডহক কমিটির তিন সদস্যও নির্বাচন করছেন।

তাঁদের মধ্যে ইসরাফিল খসরু অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর ছেলে, সাঈদ ইব্রাহিম আহমেদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ছেলে এবং মির্জা ইয়াসির আব্বাস প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ঢাকা–৮ আসনের সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাসের ছেলে।

এ ছাড়া ক্লাব ক্যাটাগরিতে নির্বাচন করছেন ইয়াসির মোহাম্মদ ফয়সাল। তাঁর বাবা আবুল কালাম কুমিল্লা–৯ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য। ধানমন্ডি স্পোর্টস ক্লাব থেকে কাউন্সিলর হয়েছেন তিনি।

নির্বাচন না কি রাজনৈতিক প্রভাবের প্রতিফলন?

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া অধিকাংশ প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচয় বা রাজনৈতিক পরিবারের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বিসিবি নির্বাচনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। ক্রীড়া সংগঠকদের একাংশ মনে করছেন, দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে রাজনৈতিক প্রভাব দীর্ঘদিন ধরেই ছিল, তবে এবারের নির্বাচনে সেটি আরও প্রকাশ্য রূপ পেয়েছে।

বিশেষ করে কয়েকটি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা প্রশ্ন তুলছে নির্বাচনী প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়েও।

৭ জুন নির্বাচন, এরপর সভাপতি নির্বাচন

বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে মোট ২৩ জন পরিচালক নির্বাচিত হবেন। পরে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনয়ন দেবে আরও দুজন পরিচালক। সব মিলিয়ে ২৫ পরিচালকের ভোটে নির্বাচিত হবেন বিসিবির নতুন সভাপতি।

ক্লাব ক্যাটাগরিতে ১২ পদের বিপরীতে ১৮ জন, জেলা ও বিভাগীয় ক্যাটাগরিতে ১০ পদের বিপরীতে ১৪ জন এবং বিভিন্ন সংস্থার ক্যাটাগরিতে একটি পদের বিপরীতে একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া সংস্থা হিসেবে বিসিবির নির্বাচন শুধু ক্রীড়াঙ্গনের বিষয় নয়; এটি এখন রাজনৈতিক প্রভাব ও ক্ষমতার ভারসাম্যের প্রতিফলন হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ