Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সংকট কাটিয়ে স্বস্তিতে জ্বালানি খাত: এক মাসে আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণ

 

সংকট কাটিয়ে স্বস্তিতে জ্বালানি খাত: এক মাসে আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণ

সংকট কাটিয়ে স্বস্তিতে জ্বালানি খাত: এক মাসে আমদানি বেড়েছে দ্বিগুণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১৩ মে, ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা কাটিয়ে স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে দেশের জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা। মার্চ মাসে চরম চাপের মুখে থাকলেও এপ্রিল থেকে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। আমদানির পরিমাণ এক মাসের ব্যবধানে প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় বর্তমানে তেলের বড় কোনো সংকট নেই বলে নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)।

মার্চ বনাম এপ্রিল: আমদানির চিত্র

বিপিসি সূত্র জানায়, মার্চ মাসে যেখানে সমুদ্রপথে ১০টি জাহাজ ও ভারত থেকে পাইপলাইনে ৪টি চালানে মোট ৩ লাখ ২২৩ টন তেল এসেছিল, সেখানে এপ্রিল মাসে আমদানির পরিমাণ ছিল প্রায় দ্বিগুণ। এপ্রিল মাসে ১৮টি জাহাজে ৫ লাখ ৬৮ হাজার টন এবং পাইপলাইনে আরও ২৫ হাজার টন ডিজেলসহ মোট ৫ লাখ ৯৩ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে।

মে মাসেও এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হচ্ছে। চলতি মাসের প্রথম ১০ দিনেই ৯টি জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে। সব মিলিয়ে এ মাসে ১৯টি জাহাজে ৫ লাখ টন তেল আসার কথা রয়েছে। ওমানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওকিউটি-এর পাঠানো ‘এমটি টর্ম দুর্গা’ জাহাজে আসা ২৭ হাজার টন ডিজেল সরবরাহ পরিস্থিতিকে আরও শক্তিশালী করেছে।

এক নজরে জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত পরিস্থিতি

জ্বালানি তেলের বর্তমান মজুত স্বল্পমেয়াদী ঝুঁকি অনেকাংশে কমিয়ে দিয়েছে। দেশের মোট চাহিদার ৬৩ শতাংশই ডিজেল, যা কৃষি ও পরিবহনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিচে বিভিন্ন তেলের মজুত ও তার স্থায়িত্ব দেওয়া হলো:

তেলের ধরনবর্তমান মজুত (টন)কতদিন চলবে
ডিজেল২,৫৩,০০০২১ দিন
অকটেন৪৮,১৪৩৪০ দিন
পেট্রোল১৯,৫৯০১৪ দিন
ফার্নেস অয়েল৪১,২৮১-
জেট ফুয়েল৪৬,৮৩১-
 

মূল্যবৃদ্ধি ও মাঠপর্যায়ের প্রভাব

সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল করতে গত ১৮ এপ্রিল সরকার জ্বালানি তেলের দাম পুনর্নির্ধারণ করে। বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, অকটেন ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১৩৫ টাকা এবং কেরোসিন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দাম বাড়ার পর ১৯ এপ্রিল থেকে সরবরাহ বাড়ানো হলে ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার চিরচেনা ভিড় কমে আসে এবং সরবরাহ নিয়মিত হয়।

প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “নিয়মিত উৎস থেকে তেল আসছে, তাই সংকটের আশঙ্কা নেই। তবে আমরা শুধু নিয়মিত উৎসের ওপর নির্ভর করছি না, বিকল্প উৎস থেকেও তেল আনার প্রক্রিয়া চলছে যাতে যেকোনো আন্তর্জাতিক অস্থিরতায় আমাদের জ্বালানি নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়।”

দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের দাবি

স্বস্তি ফিরলেও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা এখনো পুরোপুরি আমদানিনির্ভর। এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, “আন্তর্জাতিক বাজারে সামান্য অস্থিরতা তৈরি হলেই স্থানীয় বাজারে প্রভাব পড়ে। তাই শুধু তাৎক্ষণিক আমদানি বাড়িয়ে লাভ নেই; দীর্ঘ মেয়াদে কৌশলগত মজুত সক্ষমতা ও আমদানিকাঠামোয় বৈচিত্র্য আনতে হবে।”

বিপিসি মনে করছে, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী পরবর্তী জাহাজগুলো এলে সামনের দিনগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে কোনো উদ্বেগের কারণ থাকবে না।


পকেট নিউজ - হাতের মুঠোয় সকল খবর।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ