১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো: তিন ধাপে কার্যকর, বাড়বে পেনশনভোগীদের সুবিধাও
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১৯ মে, ২০২৬
সরকারি কর্মকর্তা–কর্মচারীদের জন্য সুখবর। আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে বর্তমান সরকার। টানা এক যুগেরও বেশি সময় পর নবম বেতন কমিশনের সুপারিশের ভিত্তিতে এই বেতনকাঠামো কার্যকর করা হচ্ছে। তবে দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও বাজেটের সীমাবদ্ধতার কথা বিবেচনা করে সরকার এটি এককালীন নয়, বরং তিন অর্থবছরে তিন ধাপে বাস্তবায়নের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
যেভাবে কার্যকর হবে নতুন বেতনকাঠামো
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, নতুন বেতনকাঠামো তিন ধাপে কার্যকর হবে:
প্রথম অর্থবছর (জুলাই ২০২৬): মূল বেতনের যতটুকু বাড়ানো হবে, তার ৫০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি কার্যকর হবে।
দ্বিতীয় অর্থবছর: মূল বেতনের শতভাগ (সম্পূর্ণ নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী) কার্যকর হবে।
তৃতীয় অর্থবছর: নতুন বেতনকাঠামোর আলোকে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা এবং অন্যান্য সুবিধা যুক্ত হবে।
বেতন বৃদ্ধির হার ও নতুন স্কেল
কমিশনের প্রস্তাবনায় বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত করার সুপারিশ করা হয়েছে। তবে গ্রেড বা ধাপ থাকবে পূর্বের ন্যায় ২০টিই।
সর্বনিম্ন বেতন: বর্তমান ৮,২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০,০০০ টাকা করার সুপারিশ।
সর্বোচ্চ বেতন: বর্তমান ৭৮,০০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৬০,০০০ টাকা করার সুপারিশ।
নতুন ধাপ: মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ও সিনিয়র সচিবদের জন্য ২০ ধাপের বাইরে একটি বিশেষ ধাপ তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর
পেনশনভোগীদের জন্য সুখবর দিয়ে নতুন কাঠামোয় পেনশনের হারও বড় পরিসরে বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে:
২০ হাজার টাকার নিচে: পেনশন বৃদ্ধি পেতে পারে প্রায় ১০০ শতাংশ।
২০ থেকে ৪০ হাজার টাকা: পেনশন বৃদ্ধি ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত।
৪০ হাজার টাকার বেশি: পেনশন বৃদ্ধি ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত।
চিকিৎসা ভাতা: ৭৫ ঊর্ধ্ব বয়স্কদের জন্য ১০ হাজার টাকা, ৫৫-৭৪ বছর বয়সীদের জন্য ৮ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য ৫ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
কেন এই সিদ্ধান্ত? অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার কঠিন অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) তুলনায় রাজস্ব আদায়ের হার বেশ কম। এমতাবস্থায় বাজেটের সীমাবদ্ধতা থাকায় অনেক প্রকল্প কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তবে সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নয়নে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, "কিভাবে সবচেয়ে উত্তম উপায়ে এটি বাস্তবায়ন করা যায়, তা নিয়ে কাজ চলছে।" ২১ মে নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত: কেবল বেতন নয়, দরকার প্রশাসনিক সংস্কার
বেতন বৃদ্ধির এই উদ্যোগকে যৌক্তিক বললেও, সানেম-এর নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান মনে করেন, এর পাশাপাশি প্রশাসনিক সংস্কার অপরিহার্য। তিনি বলেন, “বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি আমলাতন্ত্রের উৎকর্ষ, কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারি চাকরিজীবীদের দক্ষতা বাড়লে তবেই এই বাড়তি বেতন অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।”
বর্তমানে ১৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং ৯ লাখ পেনশনভোগীর জন্য সরকারকে বছরে ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হতে পারে, যার মধ্যে প্রথম ধাপে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার পরিকল্পনা করছে সরকার।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।

0 মন্তব্যসমূহ