অভিজ্ঞতার মিশেলে ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াড: নেইমারের ফেরা ও আনচেলত্তির ‘বাস্তবমুখী’ দল
স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১৯ মে, ২০২৬
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ঘোষিত হলো ২০২৬ বিশ্বকাপের জন্য ব্রাজিলের ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড। কোচ কার্লো আনচেলত্তির ঘোষিত এই দলে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—নেইমার জুনিয়রের প্রত্যাবর্তন। গত ২০২৩ সালের অক্টোবরের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে জায়গা করে নেওয়া নেইমারের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করেছে যে, আনচেলত্তি প্রতিভা বা তরুণ্যের চেয়ে অভিজ্ঞতার ওপরই বেশি ভরসা রাখছেন।
দলে অভিজ্ঞদের জয়জয়কার
আনচেলত্তির ঘোষিত এই দলে চমকের চেয়ে ভারসাম্যকেই বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। ২৬ সদস্যের এই স্কোয়াডের ১৫ জন খেলোয়াড়ই ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন। একবিংশ শতাব্দীতে ব্রাজিল দলে এত বেশি অভিজ্ঞ খেলোয়াড় আগে কখনো দেখা যায়নি।
গোলরক্ষক বিতর্ক ও ওয়েভারতন: আলিসন বেকার ও এদেরসনের ধারাবাহিকতা এবং ইনজুরি নিয়ে শঙ্কা থাকায়, কোচ তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে ৩৮ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ওয়েভারতনের ওপর আস্থা রেখেছেন। তাঁর অলিম্পিক স্বর্ণ জেতা এবং গত বিশ্বকাপের অভিজ্ঞতা ইতালিয়ান কোচের জন্য বড় ভরসা।
রক্ষণ ও মাঝমাঠের ভিত্তি: মার্কিনিওস ও গ্যাব্রিয়েলকে কেন্দ্র করে সাজানো হয়েছে রক্ষণভাগ। মাঝমাঠে কাসেমিরো ও ব্রুনো গিমারেসের উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বড় ম্যাচ সামলানোর জন্য অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প নেই।
তরুণদের ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে ব্যবহার
দলটি শুধু অভিজ্ঞতায় ঠাসা নয়, ম্যাচের মোড় ঘোরাতে আনচেলত্তি স্কোয়াডে রেখেছেন একঝাঁক তরুণ তুর্কি। ফরোয়ার্ড লাইনে এনদ্রিক, লুইস হেনরিক, রায়ান এবং ইগর থিয়াগোর মতো প্রতিভাবানদের রাখা হয়েছে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে। তবে এস্তেভাও ও রদ্রিগোর ইনজুরির কারণে দল থেকে ছিটকে পড়া ব্রাজিল কোচ ও সমর্থকদের জন্য বড় আক্ষেপের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেইমারকে কেন্দ্র করে ভিনি-রাফিনিয়াদের স্বস্তি
এতদিন জাতীয় দলে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রাফিনিয়া প্রত্যাশামতো ধারাবাহিক হতে পারছিলেন না। তাদের ওপর থাকা প্রত্যাশার চাপ অনেক সময় খেলার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলত। কিন্তু নেইমারের ফিরে আসা সেই চাপ কিছুটা হলেও লাঘব করবে। নেইমার মাঠে না থাকলেও দলের নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে তাঁর উপস্থিতি সতীর্থদের বাড়তি সাহস যোগাবে।
আনচেলত্তির দর্শন: ‘গ্যালাকটিকো’ নয়, ভারসাম্যপূর্ণ দল
ব্রাজিলের এই স্কোয়াডকে বিশ্লেষকরা ‘গ্যালাকটিকো’ বা জৌলুসময় দল না বলে বরং ‘বাস্তবমুখী’ দল হিসেবে দেখছেন। আনচেলত্তি বুঝেছেন, বিশ্বকাপে সাফল্যের জন্য শুধু প্রতিভা যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন মানসিক দৃঢ়তা ও পরিকল্পিত ফুটবল।
প্রতিবেদন বিশ্লেষণ: যদিও দলটির রক্ষণ ও মাঝমাঠ সুসংগঠিত, তবুও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকছে নেইমারের বর্তমান শারীরিক ফিটনেস এবং তরুণ ফরোয়ার্ডদের বড় মঞ্চে নিজেদের প্রমাণ করার সক্ষমতা নিয়ে। তবে আনচেলত্তির মতো অভিজ্ঞ কোচের তত্ত্বাবধানে দলটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি পরিণত ও সংগঠিত। এটি হয়তো ২০০২ সালের মতো বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক দল নয়, কিন্তু কৌশলী ফুটবল খেলার দিক থেকে তারা যে কোনো প্রতিপক্ষের জন্য এক বিশাল হুমকি।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ব্রাজিল মাঠে নামছে অভিজ্ঞতা ও তারুণ্যের এক দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ সংমিশ্রণ নিয়ে। এখন মাঠের পারফরম্যান্সই বলে দেবে, এই স্কোয়াড কতটা দূর যেতে পারে।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।

0 মন্তব্যসমূহ