Header Ads Widget

Responsive Advertisement

সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ নেওয়ার লক্ষ্য: জুনের শেষে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

 

সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ নেওয়ার লক্ষ্য: জুনের শেষে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

সম্পর্ক ‘নতুন উচ্চতায়’ নেওয়ার লক্ষ্য: জুনের শেষে চীন সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১৮ মে, ২০২৬

বাংলাদেশে নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকা ও বেইজিংয়ের মধ্যে রাজনৈতিক স্তরের যোগাযোগ নজিরবিহীনভাবে নিবিড় হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে এক ‘নতুন উচ্চতায়’ নিয়ে যেতে আগামী জুনের শেষ সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে চীন সফরে নিতে অত্যন্ত আগ্রহী বেইজিং। চীনের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রস্তাব অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সফরটি দুই দিনের বেশি হতে পারে।

সরকারের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই ‘পরিকল্পিত’ চীন সফরের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রথম দিনেই শি জিনপিংয়ের সঙ্গে মেগা বৈঠক!

কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, সফরের চূড়ান্ত দিনক্ষণ এখনো নির্ধারণ করা না হলেও প্রাথমিক আলোচনা বেশ জোরেশোরেই এগোচ্ছে। সূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেইজিংয়ে পৌঁছানোর প্রথম দিনেই চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হতে পারেন।

সম্প্রতি এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, "প্রধানমন্ত্রী অবশ্যই সুবিধাজনক সময়ে চীন সফরে যাবেন। চীন আমাদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার (ডেভেলপমেন্ট পার্টনার)।" এর আগে গত ৮ মে ঢাকার একটি অনুষ্ঠানে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পূর্ণ সহযোগিতা থাকবে।

সফরে টেবিল কাঁপাবে যে সব এজেন্ডা

সবকিছু চূড়ান্ত না হলেও এই মেগা সফরে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের পাশাপাশি বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত সহযোগিতার বিষয়গুলো এজেন্ডায় শীর্ষস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে মূলত যে বিষয়গুলো টেবিলে তোলা হতে পারে:

  • বাণিজ্য ও বিনিয়োগ: বাংলাদেশে চীনা শিল্প বা কারখানা স্থানান্তর এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর দ্রুত বাস্তবায়ন।

  • মেগা প্রজেক্ট: বহুল আলোচিত ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ এবং মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন।

  • সরাসরি বিমান যোগাযোগ: গুয়াংজু-চট্টগ্রাম এবং সাংহাই-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি ফ্লাইট চালু করা।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত ৬ মে বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠক হয়। এছাড়া গত মাসে বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল চীনের একাধিক প্রদেশ সফর করে এসেছেন।

বেইজিংয়ের ৪ বৈশ্বিক উদ্যোগ ও ঢাকার ওপর ‘চাপ’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বেইজিংয়ের অবস্থান শক্ত করতে ৪টি বৈশ্বিক উদ্যোগ ঘোষণা করেছেন। এগুলো হলো— ১. গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ (GDI)

২. গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ (GSI)

৩. গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ (GCI)

৪. গ্লোবাল গভার্নেন্স ইনিশিয়েটিভ (GGI)

শুরু থেকেই প্রথম দুটি উদ্যোগে (GDI ও GSI) যুক্ত হতে চীন বাংলাদেশকে অনুরোধ জানিয়ে আসছে। বিগত আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও এ নিয়ে বেইজিং সক্রিয় ছিল। আসন্ন এই সফরে বাংলাদেশ কীভাবে এই উদ্যোগগুলোতে যুক্ত হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়ার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

৪ দেশীয় আঞ্চলিক জোটের প্রস্তাব: সতর্ক ঢাকা

দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার পাশাপাশি চীন এখন আঞ্চলিক কাঠামোতেও ঢাকাকে যুক্ত করতে আগ্রহী। বিগত ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে বাংলাদেশ, চীন ও পাকিস্তানকে যুক্ত করে একটি ত্রিদেশীয় উদ্যোগের জন্য ব্যাপক কূটনৈতিক চাপ দিয়েছিল বেইজিং। তবে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার সরাসরি তাতে সম্মতি দেয়নি।

পরবর্তীতে চলতি বছরের জানুয়ারিতে পাকিস্তানের মাধ্যমে মিয়ানমারকে যুক্ত করে একটি ‘চার দেশীয় আঞ্চলিক ফোরাম’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়। অন্তর্বর্তী সরকার বিষয়টি নতুন নির্বাচিত সরকারের ওপর ছেড়ে দেওয়ায় এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এই হিসাব-নিকাশ খতিয়ে দেখছে।

তবে ঢাকা এই মুহূর্তে ‘সার্ক’ (SAARC)-কে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে। ফলে নতুন কোনো আঞ্চলিক জোটে হুট করে যুক্ত না হয়ে কৌশলগতভাবে সময় নেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা।

সাবেক পররাষ্ট্রসচিব মো. শহীদুল হক এই ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে বলেন, "বর্তমান বৈশ্বিক বাস্তবতায় ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে দ্বিপক্ষীয় ও আঞ্চলিক ইস্যুগুলো আলাদা করে দেখার সুযোগ কম। বাংলাদেশ যখন কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করবে, তখন অন্যান্য দেশের সম্পর্কের সমীকরণও মাথায় রাখা জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর এই বেইজিং সফর কেবল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নয়, বাংলাদেশের আঞ্চলিক কূটনৈতিক অবস্থানেরও একটি বড় দিকনির্দেশনা দেবে।"

হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ