বয়ঃসন্ধি নয়, মানুষের দ্রুততম বৃদ্ধির সময় আসলে অন্যটি: কী বলছেন বিজ্ঞানীরা?
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১৩ মে ২০২৬
কখনো কি এমন হয়েছে যে, মাত্র কয়েক মাস আগে কেনা নতুন প্যান্টটি হঠাৎ করেই ছোট হয়ে গেছে? আমাদের মনে হতে পারে, বয়ঃসন্ধিকালের এই রকেটের গতিতে বেড়ে ওঠাই বুঝি মানুষের জীবনের দ্রুততম বৃদ্ধির সময়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন কথা। জীবনের এই পর্যায়ে আমরা দ্রুত লম্বা হলেও, এটি মানুষের দ্রুততম বৃদ্ধির পর্যায় নয়, বরং দ্বিতীয়।
দ্রুততম বৃদ্ধির আসল সময় কোনটি?
যুক্তরাজ্যের বাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শন কামিংয়ের মতে, মানুষের সবচেয়ে দ্রুত বেড়ে ওঠার সময় হলো জন্মের পর প্রথম দুই বছর। শৈশব থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত বৃদ্ধির গতি পরিমাপ করে দেখা গেছে, প্রথম বছরের গতির কাছে অন্য সব পর্যায়ই নগণ্য। একটি শিশু জন্মের পর প্রথম এক বছরেই প্রায় এক ফুট লম্বা হয়ে যায়, যা বয়ঃসন্ধিকালের গতির চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি।
কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অ্যাডাম ব্যাক্সটার-জোনস একটি চমকপ্রদ তথ্য দিয়েছেন। তার মতে, মেয়েরা মাত্র ১৮ মাস বয়সেই তাদের প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থার মোট উচ্চতার অর্ধেক অর্জন করে ফেলে। ছেলেদের ক্ষেত্রে এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগে ২৪ মাস।
বয়ঃসন্ধি: দ্বিতীয় দ্রুততম পর্যায়
শৈশবের শুরুর পর বৃদ্ধির গতি কিছুটা কমে বছরে প্রায় ২ থেকে ২.৫ ইঞ্চিতে দাঁড়ায়। এরপরই শুরু হয় দ্বিতীয় দ্রুততম পর্যায় বা বয়ঃসন্ধিকাল। গবেষণায় দেখা গেছে:
মেয়েরা সাধারণত ১১ বছর বয়স থেকে দ্রুত বাড়তে শুরু করে এবং বছরে গড়ে ৩.৫ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।
ছেলেরা সাধারণত মেয়েদের দুই বছর পর থেকে বাড়তে শুরু করে এবং বছরে গড়ে ৪ ইঞ্চি পর্যন্ত লম্বা হয়।
বিশেষ ক্ষেত্রে হরমোনের প্রভাবে এই বৃদ্ধির গতি বছরে ৮ ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
ছেলেরা কেন গড়ে বেশি লম্বা হয়?
মেয়েদের এই প্রক্রিয়া সাধারণত ১৬ বছর এবং ছেলেদের ১৮ বছর বয়স পর্যন্ত চলে। ছেলেরা বেশি লম্বা হওয়ার পেছনে প্রধান দুটি কারণ হলো— তাদের বৃদ্ধির তীব্রতা বেশি এবং তারা মেয়েদের চেয়ে প্রায় দুই বছর বেশি সময় ধরে বাড়তে থাকে। এর পেছনে কাজ করে শরীরে থাকা গ্রোথ হরমোন ও টেস্টোস্টেরন।
হাড় ভাঙার ঝুঁকি ও অদ্ভুত বৃদ্ধি
আমাদের শরীরের বেড়ে ওঠা শুরু হয় বাইরের দিক থেকে ভেতরের দিকে। অর্থাৎ, বয়ঃসন্ধিতে প্রথমে হাত ও পা লম্বা হয় এবং সবার শেষে শরীরের মাঝখানের অংশ বাড়ে। তবে এই দ্রুত বেড়ে ওঠার একটি নেতিবাচক দিকও আছে। এই সময়ে হাড়গুলো বেশ নরম থাকে এবং লম্বা হওয়ার পর তাতে খনিজ জমে শক্ত হতে প্রায় নয় মাস সময় লাগে। ঠিক এই কারণেই কিশোর বয়সে হাড় ভাঙার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, কারো বৃদ্ধি আগে বা পরে শুরু হওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তার কিছু নেই। শেষ পর্যন্ত মানুষের উচ্চতা কতটুকু হবে, তা অনেকটা নির্ভর করে তার জিনগত গঠনের ওপর।
তথ্যসূত্র: লাইভ সায়েন্স
পকেট নিউজ - হাতের মুঠোয় সকল খবর

0 মন্তব্যসমূহ