Header Ads Widget

Responsive Advertisement

 

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তাইওয়ানের ১,৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

ইরান যুদ্ধের প্রভাব: তাইওয়ানের ১,৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আটকে দিল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পকেট নিউজ

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক উত্তেজনা ও গোলাবারুদের মজুত ধরে রাখার প্রয়োজনীয়তার কারণে তাইওয়ানের কাছে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রি আপাতত স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই সিদ্ধান্ত শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, বরং ওয়াশিংটন–বেইজিং–তাইপে সম্পর্কের কৌশলগত ভারসাম্যেও নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।

মার্কিন নৌ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত প্রধান Hung Cao গত বৃহস্পতিবার সিনেটের এক শুনানিতে জানান, “এপিক ফিউরি” অভিযানের জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদ হাতে রাখতেই এই সাময়িক বিরতির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের মজুত পর্যাপ্ত থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে নিজস্ব সামরিক প্রস্তুতিকে।

ইরান যুদ্ধ ও অস্ত্র মজুতের চাপ

গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও Iran যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখনো স্থায়ী কোনো শান্তি চুক্তি হয়নি। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। বিশ্লেষকদের মতে, এই অনিশ্চয়তার কারণেই যুক্তরাষ্ট্র আপাতত বিদেশে বড় অস্ত্র সরবরাহে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে তাইওয়ানের জন্য অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অস্ত্র প্যাকেজটি স্থগিত হওয়া যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক সামরিক অগ্রাধিকারকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে।

তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের কৌশল

মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি এই অস্ত্র চুক্তিকে চীনের সঙ্গে আলোচনার হাতিয়ার হিসেবেও ব্যবহার করতে পারেন। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “অনুমোদন দিতেও পারি, আবার না–ও দিতে পারি।”

এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক রীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। কারণ, কয়েক দশক ধরে ওয়াশিংটন সাধারণত বেইজিংয়ের সঙ্গে তাইওয়ান অস্ত্র বিক্রিকে সরাসরি দরকষাকষির অংশ বানানো থেকে বিরত থেকেছে।

এক সপ্তাহ আগে ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping-এর বৈঠকেও তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছিল বলে জানা গেছে।

অনুমোদন পেলে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় চুক্তি

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস গত জানুয়ারিতে তাইওয়ানের জন্য নতুন অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করলেও এটি কার্যকর করতে এখনো ট্রাম্পের চূড়ান্ত অনুমোদন প্রয়োজন।

অনুমোদন পেলে এটি হবে তাইওয়ানের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হস্তান্তর। এর মূল্য হবে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কোটি ডলার, যা গত ডিসেম্বরে অনুমোদিত ১ হাজার ১০০ কোটি ডলারের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।

মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী Pete Hegseth এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী Marco Rubio এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে জানিয়েছেন হাং কাও।

তাইওয়ানের উদ্বেগ বাড়ছে

তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী Cho Jung-tai বলেছেন, তাঁর দেশ অস্ত্র কেনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই স্থগিতাদেশ তাইওয়ানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করবে।

International Crisis Group-এর উত্তর–পূর্ব এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক William Yang মনে করেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত তাইওয়ানে ওয়াশিংটনের প্রতিশ্রুতি নিয়ে সন্দেহ আরও বাড়াতে পারে। এতে ভবিষ্যতে তাইওয়ান সরকারের জন্য প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানোর রাজনৈতিক সমর্থন পাওয়া কঠিন হতে পারে।

চীনের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা

চীন দীর্ঘদিন ধরেই Taiwan-কে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে এবং তাইওয়ানের প্রতি মার্কিন সামরিক সহায়তার কড়া বিরোধিতা করছে।

এদিকে ট্রাম্প সম্প্রতি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট Lai Ching-te-এর সঙ্গে অস্ত্র চুক্তি নিয়ে সরাসরি কথা বলার সম্ভাবনার কথাও বলেছেন। এমন পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে তা গত চার দশকের মার্কিন কূটনৈতিক রীতিকে ভেঙে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাইওয়ান প্রশ্নে আরও সরাসরি অবস্থান নেয়, তাহলে বেইজিংয়ের প্রতিক্রিয়া আরও কঠোর হতে পারে এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে নতুন উত্তেজনার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

— তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা 


পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ