ইতিহাস গড়লেন ইলন মাস্ক: বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার, সম্পদ ছাড়িয়েছে ১৭৪ দেশের অর্থনীতিকে
স্পেসএক্সের আইপিওর পর নতুন রেকর্ড; প্রযুক্তি খাতে শুরু হলো নতুন যুগের আলোচনা
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ৩০ জুন ২০২৬
বিশ্ব প্রযুক্তি খাতে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিলেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। বিশ্বের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে তাঁর মোট সম্পদের পরিমাণ ১ ট্রিলিয়ন ডলার বা ১ লাখ কোটি ডলারের মাইলফলক অতিক্রম করেছে। স্পেসএক্সের শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির (আইপিও) পর প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় মাস্কের সম্পদ এই নজিরবিহীন উচ্চতায় পৌঁছায়।
অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু একজন ব্যক্তির সম্পদের নতুন রেকর্ড নয়; বরং আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তিত বাস্তবতারও প্রতীক। কারণ, ইলন মাস্কের সম্পদের বর্তমান মূল্য বিশ্বের অধিকাংশ দেশের বার্ষিক অর্থনৈতিক উৎপাদনের চেয়েও বেশি।
১৭৪ দেশের জিডিপির চেয়েও বড় মাস্কের সম্পদ
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ২০২৬ সালের সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী বিশ্বের ১৭৪টি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এখনো ১ ট্রিলিয়ন ডলারের নিচে। অর্থাৎ ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ এসব দেশের পুরো এক বছরের অর্থনৈতিক উৎপাদনের মূল্যকেও ছাড়িয়ে গেছে।
এই তালিকায় রয়েছে আয়ারল্যান্ড, বেলজিয়াম, সুইডেন, ইসরায়েল, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত, নরওয়ে, অস্ট্রিয়া, থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, হংকং, আর্জেন্টিনাসহ বিশ্বের বহু শক্তিশালী অর্থনীতি।
সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে রয়েছে তাইওয়ান। দেশটির সম্ভাব্য জিডিপি প্রায় ৯৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা এখনো ট্রিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করতে পারেনি।
বিশ্বের মাত্র ২১টি দেশের অর্থনীতি ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি
বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ২১টি দেশের অর্থনীতির আকার ১ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। তালিকার শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, যার সম্ভাব্য জিডিপি ৩২ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীন, যার অর্থনীতির আকার ২০ দশমিক ৯ ট্রিলিয়ন ডলার।
এরপর রয়েছে জার্মানি, জাপান, যুক্তরাজ্য, ভারত, ফ্রান্স, ইতালি, রাশিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, মেক্সিকো, স্পেন, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া, নেদারল্যান্ডস, সৌদি আরব, সুইজারল্যান্ড ও পোল্যান্ড।
কেন এত দ্রুত বাড়ল মাস্কের সম্পদ?
বিশ্লেষকদের মতে, মাস্কের সম্পদের সবচেয়ে বড় উৎস তাঁর মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। কোম্পানিটির আইপিওর পর বাজারমূল্য দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় তাঁর মালিকানাধীন শেয়ারের মূল্যও কয়েকশ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পায়।
এর পাশাপাশি টেসলা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক উদ্যোগ, রোবট প্রযুক্তি এবং মহাকাশ খাতে বিনিয়োগকারীদের উচ্চ আস্থাও তাঁর সম্পদ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
তবে এই সম্পদ পুরোপুরি নগদ নয়
ট্রিলিয়ন ডলারের মালিক হলেও এই অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা নেই। ইলন মাস্কের অধিকাংশ সম্পদ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও মালিকানার বাজারমূল্যের ওপর নির্ভরশীল। ফলে শেয়ারের দাম বাড়া-কমার সঙ্গে তাঁর সম্পদের পরিমাণও প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে।
বর্তমানে বিভিন্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী তাঁর সম্পদের পরিমাণ ৯৫০ বিলিয়ন থেকে ১ দশমিক ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে।
অন্য সব ধনকুবেরকে ছাপিয়ে
বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় ইলন মাস্ক এখন অনেকটাই একক অবস্থানে। তাঁর পরেই রয়েছেন ল্যারি পেজ, সার্জেই ব্রিন, জেফ বেজোস ও মাইকেল ডেল। প্রযুক্তি খাতের এই চার ধনকুবেরের সম্মিলিত সম্পদও মাস্কের সম্পদের কাছাকাছি অবস্থান করছে, যা তাঁর আর্থিক আধিপত্যের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থ কত বড়?
অর্থনীতিবিদদের মতে, কেউ যদি প্রতি ঘণ্টায় ১০ লাখ ডলার করে ব্যয় করেন, তাহলেও এক ট্রিলিয়ন ডলার শেষ করতে এক শতাব্দীরও বেশি সময় লাগবে।
ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ৫০টি ক্রীড়া ক্লাবের সম্মিলিত মূল্য মাত্র ৩৫৩ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে তাত্ত্বিকভাবে বিশ্বের অধিকাংশ শীর্ষ ক্রীড়া ক্লাব কিনেও বিপুল অর্থ অবশিষ্ট থাকবে।
বিশ্ব নিয়ে সকল খবর একসাথে পড়তে এখানে ক্লিক করুন
নতুন অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতীক
বিশ্লেষকদের মতে, ইলন মাস্কের ট্রিলিয়নিয়ার হওয়া কেবল ব্যক্তিগত সম্পদের নতুন রেকর্ড নয়। এটি প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশ শিল্প এবং উদ্ভাবননির্ভর বৈশ্বিক অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনেরও প্রতিফলন। একই সঙ্গে এটি দেখিয়ে দেয়, ভবিষ্যতের অর্থনীতিতে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ