বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ব্রাজিল–জাপান মহারণ: জিকোর হৃদয় দুই শিবিরে, হিউস্টনে জমবে নকআউট লড়াই
স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ | ২৯ জুন ২০২৬
ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর অন্যতম আকর্ষণীয় লড়াইয়ে আজ মুখোমুখি হচ্ছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল ও এশিয়ার একমাত্র প্রতিনিধি জাপান। বাংলাদেশ সময় রাত ১১টায় যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই ম্যাচ।
ফুটবল ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সাফল্যের বিচারে দুই দলের অবস্থান ভিন্ন হলেও সাম্প্রতিক সময়ে জাপানের ধারাবাহিক উন্নতি ম্যাচটিকে করে তুলেছে অনিশ্চয়তায় ভরা। ব্রাজিল যেমন শিরোপার অন্যতম দাবিদার, তেমনি জাপানও চায় আরেকটি ‘ফুটবল অলৌকিক’ গল্প লিখতে।
জিকো—দুই দেশের ফুটবলের আবেগের সেতুবন্ধন
এই ম্যাচকে ঘিরে সবচেয়ে আলোচিত নাম ব্রাজিল কিংবদন্তি জিকো। 'সাদা পেলে' নামে পরিচিত এই কিংবদন্তি শুধু ব্রাজিলের নন, জাপানের ফুটবলেরও অন্যতম রূপকার।
১৯৯১ সালে জাপানে গিয়ে কাশিমা অ্যান্টলার্সের হয়ে খেলেন জিকো। তাঁর নেতৃত্ব ও অনুপ্রেরণায় পেশাদার জে-লিগ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি হয়। এজন্য আজও জাপানে তাঁকে ফুটবলের অন্যতম স্থপতি হিসেবে সম্মান করা হয়।
ব্রাজিল-জাপান ম্যাচ নিয়ে জিকো বলেন,
"ব্রাজিল জিতলে ভালো লাগবে। তবে জাপান জিতলেও কষ্ট পাব না।"
এই একটি বাক্যই দুই দেশের সঙ্গে তাঁর আবেগের গভীর সম্পর্ককে তুলে ধরে।
ইতিহাসে এগিয়ে ব্রাজিল
দুই দলের মুখোমুখি পরিসংখ্যানে স্পষ্টভাবে এগিয়ে ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত ১৪টি ম্যাচে ব্রাজিলের জয় ১১টি, ড্র হয়েছে ২টি, আর জাপানের একমাত্র জয় এসেছে গত বছরের অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচে, যেখানে ২-০ গোলে পিছিয়ে থেকেও ৩-২ ব্যবধানে জয় পেয়েছিল তারা।
বিশ্বকাপে দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালে। সেই ম্যাচে রোনালদো-রোনালদিনহোর ব্রাজিল ৪-১ গোলে হারিয়েছিল জিকোর কোচিংয়ে থাকা জাপানকে।
আনচেলত্তির ব্রাজিলে ফিরেছে আত্মবিশ্বাস
গ্রুপ পর্বের শেষ দুই ম্যাচে দারুণ ছন্দে ফিরেছে ব্রাজিল। বিশেষ করে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয় দলের আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বাড়িয়েছে।
ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, কোচ কার্লো আনচেলত্তি একই একাদশ ধরে রাখার পরিকল্পনা করছেন। যদিও জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এখন পর্যন্ত পরপর দুই ম্যাচে একই একাদশ নামাননি।
স্কটল্যান্ড ম্যাচে বদলি হিসেবে নেমে নেইমার কয়েকটি দারুণ সুযোগ তৈরি করেন। তবে এবারও তাঁকে বেঞ্চ থেকেই শুরু করানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাতেউস কুনিয়া দুর্দান্ত ফর্মে থাকায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগই হতে যাচ্ছে ম্যাচের বড় অস্ত্র।
জাপানের শক্তি গতি ও দলীয় সমন্বয়
জাপান কোচ হাজিমে মোরিয়াসু আত্মবিশ্বাসী কণ্ঠে বলেছেন,
"ব্রাজিল বিশ্বের অন্যতম সেরা দল। আমরা তাদের সম্মান করি, তবে নকআউটে যেকোনো কিছুই সম্ভব।"
জাপানের ফুটবলারদের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের গতি, ফিটনেস ও দলীয় সমন্বয়। মাঝমাঠ থেকে আক্রমণে দ্রুত পজিশন পরিবর্তনের কৌশল প্রতিপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
স্ট্রাইকার তাকুমি মিনামিনো বলেন,
"আন্ডারডগ হিসেবেই আমরা খেলতে চাই। নকআউটে বিস্ময় ঘটানোর সামর্থ্য আমাদের আছে।"
জিকোর সতর্কবার্তা
জিকোর মতে, ম্যাচে দুই দলই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলবে। তবে তিনি ব্রাজিলকে সতর্ক করে বলেন,
"জাপানের গতি ও অফ দ্য বল মুভমেন্ট নিয়ে ব্রাজিলকে সতর্ক থাকতে হবে। তারা এক মুহূর্তও থেমে থাকে না।"
'মায়ামির অলৌকিক ঘটনা' কি ফিরবে?
১৯৯৬ আটলান্টা অলিম্পিকে ব্রাজিলকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়েছিল জাপান। সেই জয় আজও জাপানের ফুটবল ইতিহাসে 'মায়ামি নো কিসেকি' (মায়ামির অলৌকিক ঘটনা) নামে পরিচিত।
হিউস্টনের শেষ ষোলোর লড়াইয়েও তেমন একটি ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে জাপান। তবে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল নিজেদের অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড ও সাম্প্রতিক ফর্ম দিয়ে সেই স্বপ্ন ভেঙে দিতে প্রস্তুত।
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের এই লড়াইয়ে তাই অপেক্ষা এক রোমাঞ্চকর রাতের—যেখানে মুখোমুখি হবে ঐতিহ্য বনাম উচ্চাকাঙ্ক্ষা, অভিজ্ঞতা বনাম গতি।
আরো খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ-এর সঙ্গে থাকুন।
পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর।
www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ