ভেনেজুয়েলায় আবারও ভূমিকম্প, নিখোঁজ ৫০ হাজারের বেশি; নিহত বেড়ে ৯২০
আন্তর্জাতিক ডেস্ক,পকেট নিউজ | ২৭ জুন ২০২৬
ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠার আগেই আবারও কেঁপে উঠেছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা। শুক্রবার দেশটির উত্তর উপকূলে ৪ দশমিক ৯ মাত্রার আরেকটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মধ্যেই বুধবারের পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে অন্তত ৯২০ জনে, আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৩৬০ জনের বেশি, আর ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ইউরোপিয়ান-মেডিটেরেনিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টার (EMSC) জানিয়েছে, সর্বশেষ ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভেনেজুয়েলার উত্তরের মারাকাই শহরের প্রায় ৬১ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। নতুন এই কম্পন রাজধানী কারাকাসসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনুভূত হয়েছে।
এর আগে বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে রাজধানী কারাকাসসহ দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য, যেখানে অসংখ্য ভবন ধসে পড়েছে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন।
উদ্ধারকাজে ধীরগতি, বাড়ছে উদ্বেগ
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এখনও ১৭২ জনের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা রয়েছেন। উদ্ধারকাজ অব্যাহত থাকলেও প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে অনেক এলাকায় অভিযান ধীরগতিতে চলছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা USGS আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে, কারণ বহু ভবন সম্পূর্ণ বা আংশিক ধসে পড়েছে এবং অনেক এলাকায় এখনো উদ্ধারকাজ পৌঁছাতে পারেনি।
স্থানীয়দের স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ
ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দারাই উদ্ধার তৎপরতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অনেকে ব্যক্তিগত গাড়িকে অস্থায়ী অ্যাম্বুলেন্স হিসেবে ব্যবহার করছেন এবং ত্রাণ সংগ্রহ করে দুর্গতদের সহায়তা করছেন।
২৫ বছর বয়সী স্থানীয় বাসিন্দা জেনিফার পালাসিওস বলেন, তাঁর ছয় বছর বয়সী ছেলে ও আরও পাঁচজন স্বজন ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।
"স্থানীয়রাই জীবিতদের উদ্ধার করছে। বড় কংক্রিটের স্তূপ সরাতে আমাদের জরুরি ভিত্তিতে ক্রেন প্রয়োজন,"—বলেন তিনি।
জরুরি ব্যবস্থা ও নিরাপত্তা
ভেনেজুয়েলার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জানিয়েছেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে প্রবেশ সীমিত করা হয়েছে, যাতে উদ্ধারকাজ নির্বিঘ্নে পরিচালনা করা যায়।
এদিকে সরকার ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)-এর ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করেছে। ফলে নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য আদান-প্রদান এবং জরুরি যোগাযোগ সহজ হয়েছে।
মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা
ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও জরুরি সেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। উদ্ধারকাজের গতি এবং নতুন করে ভূমিকম্পের আশঙ্কার কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরপর শক্তিশালী ভূমিকম্প ও পরবর্তী আফটারশকের কারণে ভবিষ্যতে আরও ভবন ধসে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে। তাই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ