সারা দেশে আরও দুই দিন ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা, বন্যা ও পাহাড়ধসে বিপর্যস্ত একাধিক জেলা
মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তায় রোববার পর্যন্ত ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস; চট্টগ্রামে ২৪ ঘণ্টায় ২১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি, ঢাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে দিনভর
নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ| ১০ জুলাই ২০২৬
বঙ্গোপসাগরের নিম্নচাপ কেটে গেলেও দেশের ওপর থেকে বৃষ্টির প্রভাব এখনই কাটছে না। বরং মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হয়ে ওঠায় আগামী দুই দিনও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, শুক্রবার ও শনিবারের পাশাপাশি রোববারও দেশের অনেক এলাকায় বৃষ্টির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। রাজধানী ঢাকাতেও দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রায় পাঁচ দিন ধরে চলমান টানা বর্ষণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, পার্বত্য চট্টগ্রাম, সিলেট, খুলনা, বরিশালসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা ও বন্যা পরিস্থিতি। পাহাড়ধস, সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া এবং নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার ঘটনায় দুর্ভোগে পড়েছেন লাখো মানুষ।
আবহাওয়াবিদ কাজী জেবুন্নেছা জানিয়েছেন, শুরুতে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে বৃষ্টি হলেও বর্তমানে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তাই বৃষ্টির প্রধান কারণ। এই সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব দেশের প্রায় সব অঞ্চলে অনুভূত হচ্ছে। ফলে আজও দেশের বিভিন্ন স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো এলাকায় ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে তাকে ভারী বৃষ্টি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি হলে অতি ভারী বৃষ্টি হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
চট্টগ্রামে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত, চার বিভাগে ঝুঁকি বেশি
গত বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে, যেখানে ২১৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলায় অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. ওমর ফারুকের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় সর্বত্রই বৃষ্টি হবে। তবে খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। এসব অঞ্চলে কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে।
বন্যা ও পাহাড়ধসে বাড়ছে দুর্ভোগ
অবিরাম বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রামসহ অন্তত ছয়টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেক পরিবার পানিবন্দী অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছে। চট্টগ্রাম নগরের অধিকাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতা কিছুটা কমলেও শমসেরপাড়া ও আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এখনো পানি জমে রয়েছে।
পাহাড়ধসের ঘটনায় চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। একই সঙ্গে পাহাড়ধসের মাটি ও বন্যার পানিতে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে পণ্য পরিবহন ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতে বড় ধরনের ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
রেল যোগাযোগেও প্রভাব
ভারী বর্ষণে রেললাইন পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় কক্সবাজারের সঙ্গে রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। চট্টগ্রাম রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রেললাইন থেকে পানি না নামায় শুক্রবার পর্যন্ত কক্সবাজারগামী ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে এই সময় আরও বাড়তে পারে।
ঢাকাতেও থাকতে পারে বৃষ্টির প্রভাব
রাজধানী ঢাকাতেও শুক্রবার সকাল থেকেই বৃষ্টির প্রভাব দেখা গেছে। সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর থেমে থেমে বৃষ্টি হতে পারে, যার ফলে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার আশঙ্কা রয়েছে।
এখনই স্বস্তি মিলছে না
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ পূর্বাভাস বলছে, শনিবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। পাশাপাশি রোববারও দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও ওই দিনের বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে, তবে সোমবার পর্যন্ত বৃষ্টির ধারা পুরোপুরি শেষ হওয়ার সম্ভাবনা কম।
এ পরিস্থিতিতে পাহাড়ি এলাকা, নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল এবং জলাবদ্ধতা-প্রবণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রস্তুত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ