📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ

 

‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ

‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ

সৌদি–তুরস্ক–পাকিস্তানের যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে নতুন সামরিক মেরুকরণের ইঙ্গিত, নজর ইরান ও ভারতেরও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ১৮ আগস্ট ২০২৬

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ৭ আগস্ট মক্কায় স্বাক্ষরিত এই চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার প্রতিশ্রুতি।

এই পারস্পরিক প্রতিরক্ষার নীতি পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটোর বহুল আলোচিত ৫ নম্বর অনুচ্ছেদের সঙ্গে তুলনা টানার সুযোগ তৈরি করেছে। এরই মধ্যে কোনো কোনো বিশ্লেষক চুক্তিটিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ হিসেবে বর্ণনা করছেন। তবে বাস্তবতা বলছে, এটি এখনই ন্যাটোর মতো একটি অভিন্ন সামরিক জোট নয়। বরং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, সামরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সমন্বয়ের একটি নতুন কাঠামো গড়ে ওঠার সম্ভাবনাই বেশি।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান ও পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের নেতৃত্বে হওয়া এই চুক্তির পেছনে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক সংঘাত, সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিনির্ভরতা কমানোর আকাঙ্ক্ষা এবং আঞ্চলিক শক্তিগুলোর নিজস্ব প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা।

কেন এখন মক্কা চুক্তি?

মক্কা চুক্তির সময়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সংঘাতের বিস্তার, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঝুঁকি, তেল অবকাঠামোর নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা চিন্তাকে নতুন করে সাজাতে বাধ্য করেছে।

বিশেষ করে সৌদি আরবের জন্য তেল অবকাঠামো ও সমুদ্রপথের নিরাপত্তা এখন বড় কৌশলগত বিষয়। আঞ্চলিক সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে সৌদি আরব বিকল্প রপ্তানি পথ হিসেবে লোহিত সাগরের বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরতা বাড়ায়। কিন্তু সেই পথেও ইরান-সমর্থিত হুতিদের হামলার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

গত ২০ জুলাই হুতিরা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ-অবরোধ ঘোষণার দাবি করে। চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র দুই দিন পর ৯ আগস্ট জাজানে সৌদি আরামকোর একটি শোধনাগারে ড্রোন হামলার দাবিও করে তারা।

অর্থাৎ, মক্কা চুক্তি কোনো দূরবর্তী সম্ভাব্য হুমকির প্রতিক্রিয়ায় তৈরি হয়নি। বরং আঞ্চলিক সংঘাত ও সরাসরি নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধির মধ্যেই এর ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ছাতার বিকল্প?

মক্কা চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দিক হলো সৌদি আরবের নিরাপত্তা ভাবনায় পরিবর্তন।

দীর্ঘদিন ধরে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান গ্যারান্টর হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতি ছিল। কিন্তু ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সৌদি তেল অবকাঠামোকে পুরোপুরি নিরাপদ রাখতে মার্কিন নিরাপত্তাব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে রিয়াদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

এই বাস্তবতায় সৌদি আরব এখন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে সরাসরি নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে চাইছে।

তুরস্কের রয়েছে শক্তিশালী সামরিক শিল্প, ড্রোন প্রযুক্তি ও ন্যাটো সদস্য হিসেবে দীর্ঘ সামরিক অভিজ্ঞতা। পাকিস্তানের রয়েছে বড় ও অভিজ্ঞ সামরিক বাহিনী এবং পারমাণবিক সক্ষমতা। আর সৌদি আরবের রয়েছে বিপুল আর্থিক সামর্থ্য ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক অবস্থান।

তিন দেশের এই সক্ষমতাগুলো এক জায়গায় এলে একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব তৈরি হতে পারে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে পুরোপুরি বাদ দিচ্ছে। বরং বিষয়টি অনেকটা বিকল্প নিরাপত্তা সক্ষমতা গড়ে তোলার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে।

‘মুসলিম ন্যাটো’ বলা কতটা যৌক্তিক?

চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার যে অঙ্গীকার রয়েছে, সেটিই মূলত ‘মুসলিম ন্যাটো’ ধারণার জন্ম দিয়েছে।

কিন্তু ন্যাটোর সঙ্গে মক্কা চুক্তির মৌলিক পার্থক্য রয়েছে।

ন্যাটো একটি প্রাতিষ্ঠানিক, দীর্ঘস্থায়ী ও সুসংগঠিত সামরিক জোট। এর সদস্যদের মধ্যে অভিন্ন প্রতিরক্ষা কাঠামো, সামরিক পরিকল্পনা, কমান্ড ব্যবস্থা ও দীর্ঘদিনের যৌথ মহড়া রয়েছে।

অন্যদিকে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের নিরাপত্তা অগ্রাধিকার এক নয়।

সৌদি আরবের প্রধান উদ্বেগ ইরান ও উপসাগরীয় নিরাপত্তা। তুরস্কের নিরাপত্তা অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে সিরিয়া, কুর্দি প্রশ্ন, পূর্ব ভূমধ্যসাগর ও আঞ্চলিক প্রভাব। পাকিস্তানের প্রধান সামরিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ ঐতিহাসিকভাবে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কিত।

তাই তিন দেশের অভিন্ন শত্রু নেই।

এই কারণেই মক্কা চুক্তিকে ন্যাটোর অনুকরণে একটি কঠোর সামরিক জোট হিসেবে দেখার চেয়ে নমনীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক হিসেবে দেখা বেশি বাস্তবসম্মত।

সামনে আসতে পারে ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেল

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের একটি অংশ মনে করছেন, ভবিষ্যতে এই কাঠামো ‘হাব অ্যান্ড স্পোক’ মডেলে রূপ নিতে পারে।

এ ক্ষেত্রে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান হবে মূল ‘হাব’। আর কুয়েত, বাহরাইন, কাতারসহ ছোট উপসাগরীয় দেশগুলো সরাসরি পূর্ণাঙ্গ সামরিক জোটে না ঢুকে নির্দিষ্ট খাতে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা সহযোগিতার মাধ্যমে এই কেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে।

উদাহরণ হিসেবে কোনো দেশ আকাশ প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা চাইতে পারে, অন্য কোনো দেশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা বা ড্রোন প্রতিরোধ প্রযুক্তিতে সহযোগিতা নিতে পারে।

এ ধরনের কাঠামো ন্যাটোর তুলনায় অনেক বেশি নমনীয় হবে এবং আঞ্চলিক দেশগুলোর নিজস্ব রাজনৈতিক অবস্থান বজায় রাখার সুযোগও থাকবে।

চুক্তির নেপথ্যে কি ইরান?

চুক্তির অংশীদাররা আনুষ্ঠানিকভাবে বলছেন, এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয়। এরদোয়ানও বলেছেন, চুক্তিটি কোনো বিশেষ রাষ্ট্রকে লক্ষ্য করে করা হয়নি।

কিন্তু আঞ্চলিক নিরাপত্তার বাস্তবতা ভিন্ন ইঙ্গিত দেয়।

ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইয়েমেনে হুতিদের কার্যক্রম, উপসাগরীয় নিরাপত্তা এবং সাম্প্রতিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা—সব মিলিয়ে তেহরানকে ঘিরে নিরাপত্তা সমীকরণটি এই চুক্তির আলোচনায় অবধারিতভাবেই চলে আসে।

তবে ইরানকে সরাসরি শত্রু হিসেবে ঘোষণা করা হলে চুক্তির রাজনৈতিক পরিধি সংকুচিত হতে পারে। কারণ, সৌদি আরব একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণের কূটনৈতিক পথও খোলা রাখতে চাইবে।

সুতরাং মক্কা চুক্তি সম্ভবত ইরানবিরোধী সামরিক জোট হিসেবে প্রকাশ্যে আবির্ভূত না হয়ে ইরানের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ানোর একটি কাঠামো হিসেবেই এগোতে পারে।

ভারতের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

মক্কা চুক্তির প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা সমীকরণেও।

কারণ, পাকিস্তান এই চুক্তির অন্যতম অংশীদার এবং তুরস্কের সঙ্গে পাকিস্তানের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্কও ঘনিষ্ঠ।

তুরস্ক পাকিস্তানকে সামরিক প্রযুক্তি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা দিয়ে আসছে। সৌদি আরবের আর্থিক সক্ষমতা এবং তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি যদি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত হয়, তাহলে ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের জন্য এটি নতুন হিসাব তৈরি করবে।

বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুতে তুরস্কের পাকিস্তানপন্থী অবস্থান নয়াদিল্লির উদ্বেগের কারণ।

একই সঙ্গে ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডর বা আইএমইসি নিয়েও নতুন ভূরাজনৈতিক হিসাব তৈরি হতে পারে। সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা যত গভীর হবে, ততই মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক ও কৌশলগত করিডরগুলোর ওপর এর পরোক্ষ প্রভাব নিয়ে আলোচনা বাড়বে।

তবে মক্কা চুক্তিকে সরাসরি ভারতবিরোধী উদ্যোগ হিসেবে দেখার সুযোগ এখনো নেই। কারণ, সৌদি আরবের সঙ্গে ভারতের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ।

পাকিস্তানের জন্য সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা

মক্কা চুক্তির সবচেয়ে জটিল প্রশ্ন সম্ভবত পাকিস্তানকে ঘিরে।

সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। কিন্তু একই সময়ে ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বাস্তবতাও ইসলামাবাদকে ইরানের সঙ্গে সরাসরি সংঘাত এড়িয়ে চলতে বাধ্য করে।

এখানেই চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ধারা পাকিস্তানের জন্য কঠিন পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

যদি ভবিষ্যতে সৌদি আরব ইরান-সমর্থিত কোনো গোষ্ঠীর হামলার শিকার হয়, তাহলে পাকিস্তান কী করবে?

ইসলামাবাদ কি সৌদি আরবের পাশে সামরিকভাবে দাঁড়াবে, নাকি সরাসরি যুদ্ধে জড়ানো এড়িয়ে কূটনৈতিক অবস্থান নেবে?

২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের ঘটনা এখানে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। তখন সৌদি আরব পাকিস্তানের কাছে সামরিক সহায়তা চাইলেও পাকিস্তানের সংসদ ইয়েমেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।

তাই চুক্তিতে স্বাক্ষর করা এক বিষয়, আর বাস্তবে কোনো সামরিক সংঘাতে সেই অঙ্গীকার কার্যকর করা সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

তুরস্কের লাভ কোথায়?

মক্কা চুক্তি তুরস্কের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুযোগ তৈরি করছে।

এরদোয়ান সরকার দীর্ঘদিন ধরেই তুরস্ককে শুধু ন্যাটোর একটি সদস্যরাষ্ট্র হিসেবে নয়, বরং মুসলিম বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের একটি স্বতন্ত্র শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়ালে তুরস্কের সামরিক শিল্পের জন্য নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, সাঁজোয়া যান ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে তুরস্ক ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করেছে।

অন্যদিকে সৌদি অর্থায়ন ও তুরস্কের প্রযুক্তিগত সক্ষমতার সমন্বয় হলে নতুন ধরনের প্রতিরক্ষা প্রকল্পও সামনে আসতে পারে।

সৌদি আরবের লাভ সবচেয়ে বেশি?

সৌদি আরবের দৃষ্টিকোণ থেকে চুক্তিটির মূল আকর্ষণ হলো প্রতিরক্ষা সক্ষমতার বৈচিত্র্য।

রিয়াদ একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখছে, অন্যদিকে তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ একক কোনো শক্তির ওপর নির্ভর না করে একাধিক অংশীদারের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক তৈরি করা হচ্ছে।

এতে সৌদি আরবের কৌশলগত দর-কষাকষির ক্ষমতাও বাড়তে পারে।

তবে একই সঙ্গে নতুন সামরিক অংশীদারত্বের অর্থ হলো নতুন দায়িত্বও। চুক্তির পারস্পরিক প্রতিরক্ষা ধারা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই হবে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

সামনে কী হতে পারে?

মক্কা চুক্তিকে ঘিরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তিনটি প্রশ্ন হলো—

প্রথমত, এই চুক্তি কি শুধু রাজনৈতিক ঘোষণা হয়ে থাকবে, নাকি যৌথ সামরিক মহড়া, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সহযোগিতার মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পাবে?

দ্বিতীয়ত, আরও কোনো দেশ এতে যোগ দেবে কি না। এরদোয়ান ইতিমধ্যে ভবিষ্যতে আরও দেশকে যুক্ত করার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। মিসরের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় চুক্তির পরিধি বাড়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

তৃতীয়ত, কোনো সদস্য আক্রান্ত হলে অন্য দুই দেশ বাস্তবে কতটা সামরিক সহায়তা দেবে। এই প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত চুক্তিটিকে ন্যাটোর সমতুল্য বলা কঠিন।

নতুন শক্তির ভারসাম্যের সূচনা?

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি এখনই মধ্যপ্রাচ্যে ন্যাটোর সমতুল্য কোনো সামরিক জোট তৈরি করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো তাড়াহুড়ো হবে।

তবে এটিকে হালকাভাবে দেখারও সুযোগ নেই।

সৌদি আরবের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি, তুরস্কের সামরিক প্রযুক্তি ও ন্যাটো-অভিজ্ঞতা এবং পাকিস্তানের সামরিক সক্ষমতা—এই তিনটির সমন্বয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রনির্ভর নিরাপত্তা কাঠামোর পাশাপাশি আঞ্চলিক শক্তিগুলো নিজেদের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়াতে শুরু করলে মধ্যপ্রাচ্যের পুরোনো শক্তির ভারসাম্যে পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে সেই পরিবর্তন কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে তিন দেশের রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সামরিক সমন্বয়, অর্থায়ন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে—বাস্তব কোনো সংকটের মুহূর্তে তারা একে অপরের জন্য কতটা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত—তার ওপর।

তাই আপাতত মক্কা চুক্তিকে ‘মুসলিম ন্যাটো’ বলার চেয়ে মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগস্থলে গড়ে ওঠা একটি নতুন, নমনীয় ও বহুমাত্রিক নিরাপত্তা কাঠামোর সূচনা হিসেবে দেখাই বেশি যুক্তিযুক্ত।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ