এইচএসসি পরীক্ষা শুরু আজ, নিয়মিত শিক্ষার্থীর ৩৬ শতাংশই অংশ নিচ্ছেন না
(নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২ জুলাই ২০২৬)
দেশজুড়ে আজ (বৃহস্পতিবার) শুরু হচ্ছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। তবে এবার পরীক্ষা শুরুর আগেই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। দুই বছর আগে একাদশ শ্রেণিতে নিবন্ধিত নিয়মিত শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৬ শতাংশ এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না। শিক্ষা-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে এটি সবচেয়ে অস্বাভাবিক হারে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার ঘটনা।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এসএসসি ও সমমান পাস করে একাদশ শ্রেণিতে প্রায় ১৫ লাখ শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেছিলেন। কিন্তু এবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার জন্য ফরম পূরণ করেছেন মাত্র প্রায় সাড়ে ৯ লাখ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রায় সাড়ে ৫ লাখ নিয়মিত শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
গত বছর নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষা না দেওয়ার হার ছিল প্রায় ২৯ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে এ হার প্রায় ৭ শতাংশ পয়েন্ট বেড়ে ৩৬ শতাংশে পৌঁছেছে।
সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে
তিনটি শিক্ষা ধারার মধ্যে সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে। এ বোর্ডে নিয়মিত শিক্ষার্থীদের ৫৪ দশমিক ৫৮ শতাংশ পরীক্ষার জন্য ফরমই পূরণ করেননি।
অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিম পরীক্ষার্থীদের ৪৪ দশমিক ৭ শতাংশ এবং নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে ৩৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ নিয়মিত শিক্ষার্থী এবার পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন না।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন ক্ষেত্রেই গত বছরের তুলনায় অনুপস্থিতির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
কী কারণে বাড়ছে ঝরে পড়া?
শিক্ষা বিভাগ এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ চিহ্নিত করতে পারেনি। তবে পূর্ববর্তী বিশ্লেষণ ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের পর্যবেক্ষণে কয়েকটি কারণ উঠে এসেছে।
গত বছরের এসএসসি পরীক্ষায় অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতির প্রধান কারণ ছিল বাল্যবিবাহ। এছাড়া দারিদ্র্য, পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাব এবং এসএসসি পাসের পর কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়ে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতাও উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সচিব এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার বলেন, অনেক শিক্ষার্থী পর্যাপ্ত প্রস্তুতি না থাকায় নির্ধারিত বছরে পরীক্ষায় অংশ নেয় না। তারা পরের বছর পরীক্ষায় বসে, যা অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ।
গবেষণার উদ্যোগ
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের একটি সূত্র জানিয়েছে, নিবন্ধনের পর দুই বছরের মধ্যে অনেক শিক্ষার্থী ধীরে ধীরে পড়াশোনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ প্রবণতার প্রকৃত কারণ জানতে বোর্ড একটি গবেষণা পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়ার কারণগুলো চিহ্নিত করা হচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরীক্ষার সার্বিক প্রস্তুতি
এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।
পরীক্ষার্থীদের সকাল ৮টা ৩০ মিনিট থেকে কেন্দ্রে প্রবেশের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যদের কাছে থাকবে বডি-ওর্ন ক্যামেরা। মোট ২১ দিনে লিখিত পরীক্ষা শেষ হবে। যেসব দিন পরীক্ষা থাকবে না, সেসব দিন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম চলবে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী বছর থেকে মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের বাংলা ও ইংরেজিসহ সাধারণ বিষয়গুলোও অভিন্ন প্রশ্নপত্রে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নফাঁস বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের হার আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়া দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার প্রকৃত কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর নীতি গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এ সংকট আরও গভীর হতে পারে।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ