সান্ত্বনার জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল বাংলাদেশ, ৭ উইকেটে হারিয়ে সিরিজ শেষ করল ২-১ ব্যবধানে
ক্রীড়া ডেস্ক, পকেট নিউজ| ১১ জুলাই ২০২৬
দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ আগেই হাতছাড়া হয়েছিল। তবে শেষ ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়িয়ে অন্তত হোয়াইটওয়াশের লজ্জা এড়াল বাংলাদেশ। হারারেতে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে জিম্বাবুয়েকে ৭ উইকেটে হারিয়ে স্বস্তির জয় তুলে নিয়েছে টাইগাররা। যদিও তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ ২-১ ব্যবধানে নিজেদের করে নিয়েছে স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে।
২০০১ সালের পর প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের কাছে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের সামনে। কিন্তু শেষ ম্যাচে দারুণ অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সেই তিক্ত পরিণতি এড়াতে সক্ষম হয় সফরকারীরা।
বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ১৯৯ রানেই থামে জিম্বাবুয়ে
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। নতুন বলে শরীফুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ২৭ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।
এরপর ওয়েসলি মাধেভেরে ও অধিনায়ক সিকান্দার রাজা চতুর্থ উইকেটে ৫১ রানের জুটি গড়ে ইনিংস সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তানভীর ইসলামের বলে রাজা বিদায় নেওয়ার পর আবারও ছন্দ হারায় জিম্বাবুয়ে।
এক প্রান্ত আগলে রেখে ওয়েসলি মাধেভেরে ৭৪ বলে ৭৫ রান করে দলের সর্বোচ্চ স্কোরার হন। শেষদিকে ব্রাড ইভান্সের ৪৩ বলে ৫০ রানের ঝোড়ো ইনিংসে জিম্বাবুয়ে কিছুটা লড়াইয়ের পুঁজি পেলেও ৪৮.১ ওভারে ১৯৯ রানেই অলআউট হয়ে যায়।
উদ্বোধনী জুটিতেই ম্যাচ বাংলাদেশের
২০০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আগের দুই ম্যাচের তুলনায় অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। ওপেনার সৌম্য সরকার ও তানজিদ হাসান প্রথম উইকেটে ১৫১ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে জয়ের ভিত গড়ে দেন।
যদিও দুজনই কয়েকবার জীবন পান, তবে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সারির বোলিং আক্রমণ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। আগের দুই ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের ভোগানো রিচার্ড এনগারাভা, নিউম্যান নিউয়ামুরি ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে বিশ্রাম দেওয়ায় বোলিং আক্রমণ ছিল তুলনামূলক দুর্বল।
সৌম্য সরকার ৮২ বলে ৬৯ রান করে আউট হলেও তানজিদ শেষ পর্যন্ত সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান।
সেঞ্চুরি মিস, তবে জয় নিশ্চিত
তানজিদ হাসানের সামনে ছিল আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের আরেকটি স্মরণীয় শতক। বাংলাদেশের জয়ের জন্য যখন প্রয়োজন মাত্র ৩ রান, তখন তাঁর ব্যক্তিগত শতকের জন্য দরকার ছিল একটি ছক্কা।
তবে বড় শট খেলতে গিয়ে লং-অনে ক্যাচ দিয়ে ৯৪ রানে থেমে যান এই ওপেনার। একই ওভারে তাওহিদ হৃদয়ও ফিরে গেলে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হলেও নাজমুল হোসেন ও নুরুল হাসান সহজেই জয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
নাজমুল ২৮ বলে অপরাজিত ১৮ রান করে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য
ওয়ানডে সিরিজে পরাজয়ের হতাশা থাকলেও শেষ ম্যাচের জয় বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর উপলক্ষ হয়ে এসেছে। ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই ছন্দে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে দল।
এখন দুই দলের নজর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। ১৫ জুলাই থেকে বুলাওয়েতে শুরু হবে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের লড়াই। ওয়ানডের হতাশা কাটিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে জয়ের ধারায় ফিরতে চাইবে বাংলাদেশ।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ১৯৯ অলআউট (ওয়েসলি মাধেভেরে ৭৫, ব্রাড ইভান্স ৫০)
বাংলাদেশ: ২০০/৩ (সৌম্য সরকার ৬৯, তানজিদ হাসান ৯৪)
ফল: বাংলাদেশ ৭ উইকেটে জয়ী।
সিরিজ: জিম্বাবুয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয়ী।
নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online


0 মন্তব্যসমূহ