নাটকীয় জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের: শেষ ওভারের রোমাঞ্চে জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়
শেষ ওভারে টানটান উত্তেজনা, তানজিদের অপরাজিত ৬৬ রানে জয়ের বন্দরে বাংলাদেশ
স্পোর্টস ডেস্ক | পকেট নিউজ
নাটক, উত্তেজনা আর শেষ মুহূর্তের রোমাঞ্চ—সবকিছু মিলিয়ে বুলাওয়েতে বাংলাদেশ ও জিম্বাবুয়ের মধ্যকার তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি পরিণত হয় স্মরণীয় এক লড়াইয়ে। শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান, হাতে ছিল ৬ উইকেট। কাগজে-কলমে সহজ সমীকরণ হলেও মাঠের বাস্তবতায় তা রূপ নেয় শ্বাসরুদ্ধকর নাটকে। শেষ পর্যন্ত মেহেদী হাসান মিরাজের জয়সূচক চারেই ৪ উইকেটের জয় নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। সেই সঙ্গে ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজও নিজেদের করে নেয় টাইগাররা।
এই জয়ের মাধ্যমে জিম্বাবুয়ে সফরের হতাশা অনেকটাই কাটিয়ে উঠল বাংলাদেশ। কারণ, এর আগে একমাত্র টেস্ট এবং ওয়ানডে সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে পরাজিত হয়েছিল সফরকারীরা। তবে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে সিরিজ জয়ের মাধ্যমে আত্মবিশ্বাস ফিরে পেল দল।
শেষ ওভারের রোমাঞ্চে জমে ওঠে ম্যাচ
বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল মাত্র ৫ রান। কিন্তু ব্রাড ইভান্সের দুর্দান্ত বোলিং ম্যাচকে অন্য মোড়ে নিয়ে যায়। প্রথম বল থেকে এক রান নেওয়ার পর মোসাদ্দেক হোসেন বোল্ড হয়ে ফেরেন। পরের বলেই বড় শট খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।
হঠাৎ করেই সমীকরণ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তিন বলে প্রয়োজন চার রান। চতুর্থ বলটি মেহেদী হাসানের প্যাডে লাগলে এলবিডব্লিউয়ের সম্ভাবনা তৈরি হলেও আম্পায়ার 'ডেড বল' ঘোষণা করেন, কারণ বল ছাড়ার সময় ফিল্ডারের অনিয়মিত নড়াচড়া লক্ষ্য করা যায়। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে মাঠে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। জিম্বাবুয়ের বোলার ব্রাড ইভান্স ও বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসানের মধ্যে বাকবিতণ্ডাও হয়।
তবে সব উত্তেজনার অবসান ঘটান মেহেদী হাসান। পরের বলেই চমৎকার একটি বাউন্ডারি হাঁকিয়ে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনি।
তানজিদের দায়িত্বশীল ইনিংস
১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সাইফ হাসান। পাওয়ার প্লের ছয় ওভারে মাত্র ৩০ রান তোলে সফরকারীরা।
এরপর পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান ৪৭ বলে ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে ইনিংসকে স্থিতিশীল করেন। পারভেজ বিদায় নেওয়ার পর ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয়কে সঙ্গে নিয়ে আরও ৬৩ রানের জুটি গড়েন তানজিদ।
শেষ পর্যন্ত ৫৮ বলে ৬৬ রানের অসাধারণ অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন তিনি। ইনিংসজুড়ে ছিল দায়িত্বশীল ব্যাটিং, প্রয়োজনীয় সময়ে স্ট্রাইক রোটেশন এবং চাপ সামলে খেলার দারুণ উদাহরণ।
জিম্বাবুয়ের ইনিংসে বেনেট ও মায়ার্সের লড়াই
টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ওপেনার তাদিয়ানসি মারুমানিকে হারায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ব্রায়ান বেনেট ও মায়ার্স ধীরে ধীরে ইনিংস গড়ে তোলেন।
বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ রানের কার্যকর ইনিংস খেলেন। তাঁর বিদায়ের পর মায়ার্স আক্রমণাত্মক ব্যাটিং শুরু করেন এবং ৩৮ বলেই ফিফটি তুলে নেন। শেষ পর্যন্ত ৫৩ বলে ৭৩ রান করে রানআউট হন তিনি।
এই দুই ব্যাটার ছাড়া আর কোনো জিম্বাবুইয়ান ব্যাটসম্যান দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পারেননি। শেষ ওভারে তাসকিন আহমেদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে মাত্র ৬ রান আসে। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৪৩ রান।
বাংলাদেশের বোলিংয়ে নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স
বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে জিম্বাবুয়ের রান তোলার গতি কমিয়ে দেন।
বিশেষ করে শেষ পাঁচ ওভারে টাইগার বোলাররা অসাধারণ নিয়ন্ত্রণ দেখান। তাসকিন আহমেদের শেষ ওভার ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট, যেখানে তিনি কোনো বাউন্ডারি না দিয়ে মাত্র ৬ রান খরচ করেন।
সফরের সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা
এই সফরে বাংলাদেশ টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সিরিজেই হতাশাজনক পারফরম্যান্স উপহার দেয়। তবে টি-টোয়েন্টি সিরিজে দলটি নিজেদের সেরাটা খেলেছে।
বিশেষ করে তরুণ ওপেনার তানজিদ হাসানের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, মধ্যক্রমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত নৈপুণ্য বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।
ম্যাচের সংক্ষিপ্ত চিত্র
জিম্বাবুয়ে: ১৪৩/৭ (২০ ওভার)
বাংলাদেশ: ১৪৪/৬ (১৯.৪ ওভার)
ফল: বাংলাদেশ ৪ উইকেটে জয়ী
সিরিজ ফল: বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়
মূল আকর্ষণ
🇧🇩 বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়।
🏏 তানজিদ হাসানের অপরাজিত ৬৬ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস।
🔥 শেষ ওভারে নাটকীয় মোড় ও মেহেদী হাসানের জয়সূচক বাউন্ডারি।
💥 ব্রাড ইভান্স ও তানজিদের বাকবিতণ্ডা ম্যাচে বাড়তি উত্তেজনা যোগ করে।
✅ টেস্ট ও ওয়ানডে হারলেও টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে সফর শেষ করল বাংলাদেশ।


0 মন্তব্যসমূহ