📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

মুরাদ হাসানকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মাহিয়া মাহির

 

মুরাদ হাসানকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মাহিয়া মাহির, ‘আমি তাঁকে ব্লক করেছিলাম, ভয় দেখিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল’

মুরাদ হাসানকে নিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ মাহিয়া মাহির, ‘আমি তাঁকে ব্লক করেছিলাম, ভয় দেখিয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল’

বিনোদন ডেস্ক, পকেট নিউজ|১১ জুলাই ২০২৬ 

দীর্ঘদিন ধরেই পরিবারসহ দেশের বাইরে অবস্থান করছেন ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী মাহিয়া মাহি। নতুন সিনেমা বা অভিনয়ের কাজ নিয়ে খুব বেশি আলোচনায় না থাকলেও এবার একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি। আলোচিত ও বিতর্কিত সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. মুরাদ হাসানকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পুরোনো একটি অডিও ক্লিপের প্রেক্ষাপটে নিজের অবস্থান তুলে ধরে একাধিক গুরুতর অভিযোগ করেছেন এই অভিনেত্রী।

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিও বার্তায় মাহি দাবি করেন, ঘটনাটিকে ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে। তবে পুরো অডিও শুনলে স্পষ্ট বোঝা যায়, তিনি কখনোই স্বেচ্ছায় মুরাদ হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন না; বরং তাঁকে এড়িয়ে চলতেন।

‘আমি তাঁর ফোন ধরতাম না, তাই অন্যের ফোন ব্যবহার করতেন’

ভিডিও বার্তায় মাহিয়া মাহি বলেন, অডিও ক্লিপে স্পষ্ট শোনা যায়, মুরাদ হাসান নিজেই বলছেন—‘ও তো আমার ফোন ধরবে না।’ মাহির ভাষ্য, এই বক্তব্যই প্রমাণ করে যে তিনি মুরাদ হাসানের ফোন রিসিভ করতেন না এবং তাঁকে ব্লক করে রেখেছিলেন।

অভিনেত্রীর দাবি, সরাসরি যোগাযোগ সম্ভব না হওয়ায় অন্য ব্যক্তির ফোন ব্যবহার করে তাঁর সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হতো।

‘র‍্যাব, পুলিশ, এনএসআই ও ডিজিএফআইয়ের ভয় দেখানো হয়েছিল’

মাহিয়া মাহি আরও অভিযোগ করেন, ওই অডিওতে মুরাদ হাসান বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থার নাম উল্লেখ করে ভয়ভীতি প্রদর্শনের কথাও বলেছেন।

তাঁর বক্তব্য, যদি তাঁদের মধ্যে কোনো স্বাভাবিক বা সুসম্পর্ক থাকত, তাহলে এ ধরনের হুমকির প্রয়োজন হতো না। বরং তাঁকে যোগাযোগে বাধ্য করতেই ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

সহকর্মীদের কাছেও চেয়েছিলেন সহায়তা

ভিডিওতে মাহি জানান, সে সময় তিনি বিষয়টি চলচ্চিত্র অঙ্গনের সহকর্মীসহ পরিচিত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জানিয়েছিলেন। তাঁদের কাছে তিনি অভিযোগ করেছিলেন যে মুরাদ হাসান তাঁকে বিরক্ত করছেন এবং বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করছেন।

তিনি আরও দাবি করেন, কয়েকজন সহকর্মী রাতের বেলায় তাঁকে ফোন করে মুরাদ হাসানের সঙ্গে কথা বলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করতেন। পরে তাঁরাই সতর্ক করে দিয়েছিলেন, রাত ১১টার দিকে কোনো নির্দিষ্ট নম্বর থেকে ফোন এলে যেন তিনি সেটি রিসিভ না করেন, কারণ তখন মুরাদ তাঁদের সঙ্গেই অবস্থান করতেন।

‘মন্ত্রী ছিলেন বলেই কেউ কিছু করতে পারেননি’

মাহির ভাষ্যমতে, তিনি যাঁদের কাছে সাহায্য চেয়েছিলেন, তাঁদের অনেকেই ব্যক্তিগতভাবে সহানুভূতি প্রকাশ করলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেননি। কারণ হিসেবে তাঁরা বলেছিলেন, মুরাদ হাসান তখন মন্ত্রী ছিলেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও টানলেন মাহি

ভিডিও বার্তায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন মাহিয়া মাহি। তাঁর দাবি, যদি তিনি সরাসরি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারতেন, তাহলে পুরো বিষয়টি জানাতেন। তাঁর বিশ্বাস, বিষয়টি জানলে ব্যবস্থা নেওয়া হতো। তবে সেই সুযোগ না পাওয়ায় পরিস্থিতি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে সামাল দিতে হয়েছে।

‘হেসে কথা বলেছি আত্মরক্ষার জন্য’

সামাজিক মাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, অডিওতে গালিগালাজের মধ্যেও কেন তিনি স্বাভাবিকভাবে কথা বলেছেন। এর জবাবে মাহি বলেন, সেটি ছিল আত্মরক্ষার কৌশল।

তাঁর ভাষায়, যদি তিনি পাল্টা উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখাতেন এবং পরবর্তীতে তাঁর কোনো ক্ষতি হতো, তাহলে সেই দায় কে নিত—এই আশঙ্কা থেকেই তিনি পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করেছিলেন।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

‘আমি একা নই, আরও অনেক নারী একই অভিজ্ঞতার শিকার’

ভিডিওর শেষ অংশে মাহিয়া মাহি দাবি করেন, তিনি একমাত্র নন; দেশের মিডিয়া ও বিনোদন অঙ্গনের আরও অনেক নারী একই ধরনের বিব্রতকর পরিস্থিতি ও হয়রানির মুখোমুখি হয়েছেন।

তাঁর মতে, চলচ্চিত্রশিল্পী, সংবাদ উপস্থাপক, সংগীতশিল্পীসহ বিভিন্ন অঙ্গনের একাধিক নারী মুরাদ হাসানের আচরণের কারণে বিব্রত বা মানসিক চাপে পড়েছিলেন। যদিও তিনি কারও নাম প্রকাশ করেননি।

নতুন করে আলোচনায় পুরোনো বিতর্ক

মাহিয়া মাহির এই ভিডিও প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তাঁর বক্তব্য নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। তবে ভিডিওতে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।

বিশ্লেষকদের মতে, পুরোনো বিতর্ক নতুন করে সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এবং প্রয়োজনীয় তদন্তই হতে পারে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ