📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

গ্যাস–সংকটে শিল্পে ধসের শঙ্কা: উৎপাদন কমেছে ৪০%, ছুটি বাড়িয়েছে কারখানা, রপ্তানিতেও বাড়ছে চাপ

 

গ্যাস–সংকটে শিল্পে ধসের শঙ্কা: উৎপাদন কমেছে ৪০%, ছুটি বাড়িয়েছে কারখানা, রপ্তানিতেও বাড়ছে চাপ

গ্যাস–সংকটে শিল্পে ধসের শঙ্কা: উৎপাদন কমেছে ৪০%, ছুটি বাড়িয়েছে কারখানা, রপ্তানিতেও বাড়ছে চাপ

অর্থনীতি ডেস্ক | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ৪ আগস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে তীব্র গ্যাস–সংকটের প্রভাব এখন শিল্পখাতের প্রায় প্রতিটি স্তরে দৃশ্যমান। তৈরি পোশাক, বস্ত্র, কাচ, ইস্পাত, সিরামিক, ভোগ্যপণ্য, খাদ্য ও প্লাস্টিক—প্রায় সব শিল্পেই উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। গত দুই সপ্তাহে বহু কারখানায় উৎপাদন গড়ে প্রায় ৪০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কিছু প্রতিষ্ঠান সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে, আবার অনেক কারখানা সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে।

শিল্পমালিকদের মতে, গ্যাস–সংকট দীর্ঘায়িত হলে শুধু উৎপাদন ব্যাহত হবে না, রপ্তানি আয়, কর্মসংস্থান এবং দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।

এক নজরে পরিস্থিতি

  • গত দুই সপ্তাহে শিল্প উৎপাদন গড়ে ৪০ শতাংশ কমেছে

  • অনেক কারখানা ৬০–৭০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে

  • কিছু পোশাক কারখানা উৎপাদন সংকটে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে

  • এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমেছে ২১৫ কোটি ঘনফুটে

  • দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট

  • টার্মিনাল আংশিক চালু হলে সরবরাহ বাড়তে পারে ৩০ কোটি ঘনফুট

গ্যাসের অভাবে থমকে যাচ্ছে পোশাক শিল্প

গাজীপুরের কোনাবাড়ীতে মিতালি ফ্যাশনের ডাইং সেকশন টানা আট দিন বন্ধ রয়েছে। ফলে সেলাই বিভাগের ৩০টি উৎপাদন লাইনের মধ্যে ১৮টি কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান আবু ইউসুফ আবদুল্লাহ জানান, গ্যাসের স্বল্পতার কারণে সময়মতো রপ্তানি আদেশ সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলে বিদেশি ক্রেতাদের মূল্যছাড় দিতে হতে পারে, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়াবে।

শুধু মিতালি ফ্যাশন নয়, দেশের অধিকাংশ তৈরি পোশাক কারখানাই একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। ডাইং সেকশনে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পুরো উৎপাদন চক্রে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

উৎপাদন কমে ছুটি বাড়িয়েছে কারখানা

গ্যাসের সংকট মোকাবিলায় দেশের অন্যতম শীর্ষ পোশাক প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ডিবিএল গ্রুপ সরকারি ছুটির সঙ্গে অতিরিক্ত ছুটি ঘোষণা করেছে।

ডিবিএল গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান এম এ রহিম বলেন, ডাইং কারখানা গ্যাস ছাড়া পরিচালনা সম্ভব নয়। তাই উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে না পেরে অতিরিক্ত ছুটি দিতে হয়েছে। তবে দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশা করছেন তারা।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আরও কয়েকটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানাও একই ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ভোগ্যপণ্যের বাজারেও চাপ

রাজধানীর তেজগাঁও শিল্পাঞ্চলে কোহিনূর কেমিক্যাল দিনে উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে রাতের বেলায় গ্যাসের চাপ কিছুটা বাড়লে সীমিত আকারে উৎপাদন চালানো হচ্ছে।

এর ফলে—

  • সাবান উৎপাদন কমেছে

  • ডিটারজেন্ট উৎপাদন কমেছে

  • প্রসাধনী উৎপাদনও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে

প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে কাঁচামালের আমদানি ব্যয় আগেই বেড়েছিল। এখন উৎপাদন কমে যাওয়ায় লোকসান আরও বাড়ছে।

প্রাণ-আরএফএলের উৎপাদনও অর্ধেকে

দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী প্রাণ-আরএফএল জানায়, হবিগঞ্জ শিল্পপার্কে উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র ৪০–৪৫ শতাংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে।

ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রায় বন্ধ থাকায় কারখানাগুলো এখন জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করছে।

এর ফলে—

  • প্লাস্টিক পণ্য

  • বিস্কুট

  • কেক

  • বেকারি পণ্য

  • বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে।

বস্ত্রশিল্পে বাড়ছে লোকসানের ঝুঁকি

সাভারের লিটল স্টার স্পিনিং মিল প্রতিদিন ২৪ হাজার পাউন্ড সুতা উৎপাদনে সক্ষম হলেও বর্তমানে উৎপাদন নেমে এসেছে প্রায় ১০ হাজার পাউন্ডে।

প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান খোরশেদ আলমের মতে, অর্ধেক সক্ষমতায় উৎপাদন চালাতে হলে মাসে ৭০ লাখ থেকে ১ কোটি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোকসান হতে পারে।

বিজিএমইএ: ৬০–৭০ শতাংশ সক্ষমতায় চলছে পোশাক কারখানা

বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) জানিয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটে দেশের অধিকাংশ পোশাক কারখানা মাত্র ৬০–৭০ শতাংশ সক্ষমতায় পরিচালিত হচ্ছে।

সংগঠনটির মতে, শিল্পে গ্যাস সরবরাহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। তারা সিএনজির পরিবর্তে শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোরও আহ্বান জানিয়েছে।

কাচ শিল্পে বড় ধরনের ঝুঁকি

গ্যাস সংকটে সবচেয়ে উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে কাচ শিল্প।

কাচ তৈরির চুল্লি একবার বন্ধ হয়ে গেলে তা পুনরায় চালু করা প্রায় অসম্ভব। নতুন চুল্লি স্থাপনে শত শত কোটি টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন।

চট্টগ্রামের পিএইচপি ফ্লোট গ্লাস ইন্ডাস্ট্রিজ জানিয়েছে, গ্যাসের চাপ বিপজ্জনক মাত্রায় নেমে এসেছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

ইস্পাত ও সিরামিক শিল্পেও একই সংকট

বিএসআরএমসহ দেশের ইস্পাত শিল্পগুলোও সতর্ক করেছে, গ্যাস সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অন্যদিকে সিরামিক শিল্প মালিকদের সংগঠন জানিয়েছে—

  • ঢাকা

  • নারায়ণগঞ্জ

  • গাজীপুর

  • নরসিংদী

  • ময়মনসিংহ

অঞ্চলের প্রায় ২০টি কারখানায় গ্যাসের চাপ ২–৩ পিএসআই পর্যন্ত নেমে গেছে, যা উৎপাদনের জন্য পর্যাপ্ত নয়।

সংকটের মূল কারণ কী?

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান সংকটের অন্যতম কারণ হলো কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল অগ্নিকাণ্ডের কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়া।

বর্তমানে—

  • গ্যাস সরবরাহ: ২১৫ কোটি ঘনফুট

  • সম্ভাব্য সরবরাহ (টার্মিনাল চালু হলে): ২৭০ কোটি ঘনফুট

  • দৈনিক চাহিদা: ৩৮০ কোটি ঘনফুট

অর্থাৎ প্রতিদিন প্রায় ১১০–১৬৫ কোটি ঘনফুট গ্যাসের ঘাটতি রয়েছে।

অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব

গ্যাস–সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে সম্ভাব্য প্রভাবগুলো হতে পারে—

  • রপ্তানি আয় কমে যাওয়া

  • আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে সময়মতো পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়া

  • উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি

  • শিল্পপ্রতিষ্ঠানের লোকসান বাড়া

  • শ্রমিক ছাঁটাইয়ের ঝুঁকি

  • বাজারে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ কমে মূল্যস্ফীতির চাপ বৃদ্ধি

  • বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ থাকা এলএনজি টার্মিনাল দ্রুত চালু করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করতে হবে।

তাদের মতে—

  • এলএনজির ওপর অতিনির্ভরতা কমাতে হবে

  • দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন প্রয়োজন

  • সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে

  • শিল্পখাতে জ্বালানির বহুমুখী উৎস নিশ্চিত করতে হবে

উপসংহার

বর্তমান গ্যাস–সংকট কেবল একটি জ্বালানি সংকট নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্প, রপ্তানি ও অর্থনীতির জন্য একটি বড় সতর্কবার্তা। তৈরি পোশাক থেকে শুরু করে কাচ, ইস্পাত, সিরামিক ও ভোগ্যপণ্য—সব খাতেই উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সরবরাহ শৃঙ্খল চাপের মুখে পড়েছে। দ্রুত এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করা, দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো এবং বিকল্প জ্বালানি উৎসে বিনিয়োগের মাধ্যমে এই সংকট মোকাবিলা করা না গেলে শিল্পখাতে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ