📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে মির্জা ফখরুল

 

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে মির্জা ফখরুল

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট, সংখ্যার হিসাবে এগিয়ে মির্জা ফখরুল

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২০ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবারও ভোট গ্রহণ হতে যাচ্ছে। একাধিক প্রার্থী থাকায় সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে এই ভোট অনুষ্ঠিত হবে। তবে সংসদে দলীয় আসনের সংখ্যার হিসাবে ফলাফল অনেকটাই নির্ধারিত। ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় কার্যত নিশ্চিত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

তাঁর একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ। সংসদে বিএনপির সদস্যসংখ্যা ২৪৭ জন, যেখানে ১১-দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য ৯০ জন। মোট ভোটার ৩৪৯ জন।

জাতীয় সংসদের সংসদকক্ষে আজ বেলা দুইটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ হবে। ভোট শেষে সংসদকক্ষেই ফল ঘোষণা করবেন নির্বাচনী কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। পরে ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হবে।

৩৫ বছর পর আবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন

বাংলাদেশে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ১৯৯১ সালে প্রথমবার সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট।

এরপর টানা সাতজন রাষ্ট্রপতি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি।

এবার জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট অলি আহমদকে প্রার্থী করায় পরিস্থিতি বদলে গেছে। ফলে ১৯৯১ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্যরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সরাসরি ভোট দেবেন।

এই দিক থেকে এবারের নির্বাচন শুধু নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া নয়; বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতির বর্তমান সমীকরণেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।

২৪৭ বনাম ৯০—জয়ের সমীকরণ স্পষ্ট

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ৩৪৯ জন। জাতীয় সংসদের মোট আসন ৩৫০ হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের নির্বাচনের ফল আদালতের নির্দেশের কারণে এখনো ঘোষণা করা হয়নি। ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটারসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৪৯ জনে।

এর মধ্যে বিএনপির সংসদ সদস্য ২৪৭ জন।

বিএনপির মিত্র বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণ অধিকার পরিষদ ও গণসংহতি আন্দোলনের একজন করে সংসদ সদস্য রয়েছেন। ফলে ক্ষমতাসীন পক্ষের সম্ভাব্য ভোট আরও বাড়তে পারে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্য ৯০ জন। তাঁদের মধ্যে জামায়াতের ৭৭ জন, জাগপার একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আটজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিনজন এবং খেলাফত মজলিসের একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।

এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন এবং আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রয়েছেন।

এই সংখ্যার ব্যবধানই মির্জা ফখরুলের জয়কে কার্যত নিশ্চিত করেছে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতেই হচ্ছে, কারণ একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট গ্রহণ ছাড়া নির্বাচন সম্পন্ন করার সুযোগ নেই।

স্বতন্ত্রদের ভোটও গুরুত্বপূর্ণ

সংসদে বিএনপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকলেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় হিসাবের বাইরে থাকা ভোটগুলোর দিকেও নজর রয়েছে।

জানা গেছে, বিএনপি স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের কাছেও ভোট চেয়েছে। অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত থাকতে পারেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত কে কাকে ভোট দিলেন, তার রাজনৈতিক গুরুত্ব থাকলেও নির্বাচনের ফলাফলে এর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কারণ বিএনপির ২৪৭ সদস্যের শক্তিশালী অবস্থানই নির্বাচনের মূল সমীকরণ নির্ধারণ করে দিয়েছে।

ভোট হবে গোপন নয়

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হলো—এটি সাধারণ জাতীয় নির্বাচনের মতো গোপন ব্যালটের ভোট নয়।

সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসেই ভোট দেবেন। প্রথমে ব্যালট পেপারের মুড়ি অংশে পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করে ব্যালট গ্রহণ করবেন। এরপর মূল ব্যালটে পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে নির্ধারিত স্থানে আবার পূর্ণ নাম লিখে স্বাক্ষর করবেন।

অর্থাৎ কোন সংসদ সদস্য কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন, তা গোপন রাখার জন্য সাধারণ ভোটের মতো ব্যবস্থা নেই।

রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামালও সংসদ সদস্য হিসেবে ভোট দেবেন। তাঁদের জন্য সংসদকক্ষে আলাদা আসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নিজেও সংসদ সদস্য। ফলে তিনিও ভোট দিতে পারবেন। তবে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের দিন তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য হবে।

অন্যদিকে অলি আহমদ সংসদ সদস্য নন। তাই তিনি নিজ নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না।

সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর নতুন নির্বাচন

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পেছনে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনেরও সরাসরি প্রভাব রয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন। তাঁর পদত্যাগের ফলে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হয়।

সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সেই সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা পূরণ করতেই নির্বাচন কমিশন গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নির্বাচনী কর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংসদের নিয়মিত অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের আলাদা বৈঠক ডাকা হয়েছে।

ভোট ও ফল সরাসরি সম্প্রচারেও থাকছে নিয়ন্ত্রণ

সিইসি জানিয়েছেন, ভোট গ্রহণের শুরুতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনরত স্পিকার এবং প্রধানমন্ত্রীর ভোট দেওয়ার দৃশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।

এরপর ভোট গ্রহণের সময় সরাসরি সম্প্রচার বন্ধ থাকবে। ভোট গণনার সময় আবার সম্প্রচার চালু করা হবে।

ভোট গণনা শেষ হলে সংসদকক্ষেই নির্বাচনী কর্তা ফলাফল ঘোষণা করবেন। এরপর নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাতটায় বঙ্গভবনে শপথ নেবেন বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ।

বিরোধী প্রার্থী দেওয়ার রাজনৈতিক তাৎপর্য

ফলাফল প্রায় নিশ্চিত হলেও এবারের নির্বাচনে বিরোধী পক্ষের প্রার্থী দেওয়া রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

১৯৯১ সালের পর থেকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো আর প্রার্থী দেয়নি। ফলে পরবর্তী সাতটি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সম্পন্ন হয়।

এবার অলি আহমদকে প্রার্থী করার মধ্য দিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য সংসদীয় রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান দৃশ্যমান করার সুযোগ পেয়েছে।

অর্থাৎ সংখ্যার বিচারে নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ না হলেও রাজনৈতিকভাবে এটি একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রক্রিয়া তৈরি করেছে।

গণতান্ত্রিক যাত্রার নতুন অধ্যায়?

বিএনপির চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংসদ সদস্যরা ভোট দেবেন। তাঁর মতে, ১৯৯১ সালের পর আবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হওয়া গণতন্ত্রের নতুন যাত্রার প্রতিফলন।

তবে বাস্তবতা হলো, নির্বাচনের ফল নিয়ে অনিশ্চয়তা নেই। ৩৪৯ ভোটারের মধ্যে বিএনপির ২৪৭ সদস্য থাকায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত।

তবু দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আবার সংসদ সদস্যদের ভোট দেওয়ার ঘটনা দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের ইতিহাসে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।

সামনে কী?

আজকের ভোটের পর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলে বাংলাদেশের রাজনৈতিক কাঠামোয় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একজন সক্রিয় সংসদ সদস্য থেকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে তাঁর যাত্রা শুরু হবে। একই সঙ্গে তাঁর সংসদীয় আসন শূন্য হয়ে সেখানে নতুন নির্বাচনের প্রয়োজন হবে।

অন্যদিকে অলি আহমদের প্রার্থিতা এবং ১১-দলীয় ঐক্যের ভোটের অবস্থান ভবিষ্যৎ সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী জোটের কৌশল সম্পর্কেও কিছুটা ইঙ্গিত দিতে পারে।

সব মিলিয়ে, এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ফলাফলের দিক থেকে প্রায় নির্ধারিত হলেও প্রক্রিয়ার দিক থেকে ঐতিহাসিক। ৩৫ বছর পর একাধিক প্রার্থী নিয়ে সংসদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ