র্যাব বিলুপ্তির ঘোষণা, নাকি নতুন নামে পুরোনো কাঠামো? এসআরবি নিয়ে যত প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ
প্রকাশ :১৯ আগস্ট ২০২৬
গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও গোপন বন্দিশালার মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কের কেন্দ্রে থাকা র্যাবকে বিলুপ্ত করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মন্ত্রিসভায় ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সরকারের ভাষ্য, র্যাব আর থাকবে না; এর পরিবর্তে বাংলাদেশ পুলিশের অধীনে মানবাধিকার ও জবাবদিহিকে গুরুত্ব দিয়ে একটি আধুনিক বিশেষায়িত বাহিনী গড়ে তোলা হবে। সাইবার অপরাধ, মাদক, অস্ত্র, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সন্ত্রাস ও রাষ্ট্রবিরোধী অপরাধ মোকাবিলায় বিশেষ প্রশিক্ষণ ও সরঞ্জাম নিয়ে কাজ করবে এসআরবি।
তবে অনুমোদিত খসড়ার বিভিন্ন বিধান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, র্যাবের জনবল, সম্পদ, ক্ষমতা, দায়দায়িত্ব, চলমান মামলা ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতার বড় অংশই এসআরবিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে। ফলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি কি সত্যিকার অর্থে একটি নতুন বাহিনী, নাকি মূলত র্যাবকে নতুন আইনি কাঠামো ও নতুন নামে পুনর্গঠন?
র্যাবের নাম বদলালেই কি পরিবর্তন আসবে?
র্যাব গঠনের পেছনে ছিল বিশেষ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় দ্রুত ও শক্তিশালী অভিযান পরিচালনার প্রয়োজন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বাহিনীটির বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও বেআইনি আটকের মতো গুরুতর অভিযোগ জমতে থাকে।
জাতিসংঘ, গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলো অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনায় নিয়ে র্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাব এবং বাহিনীটির সাবেক ও তৎকালীন সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করে।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারের নতুন সিদ্ধান্তকে শুধু প্রশাসনিক পুনর্গঠন হিসেবে দেখলে বিষয়টির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বাদ পড়ে যায়।
খসড়া আইনের বিধান অনুযায়ী, র্যাবের—
বর্তমান জনবল,
সম্পদ ও সম্পত্তি,
তহবিল ও ব্যাংক হিসাব,
নথিপত্র ও রেকর্ড,
অধিকার ও কর্তৃত্ব,
দায়দায়িত্ব,
চুক্তি,
চলমান মামলা এবং
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরির ধারাবাহিকতা
এসআরবিতে স্থানান্তরিত হবে।
অর্থাৎ আইনগতভাবে র্যাবের অস্তিত্ব শেষ হলেও এর প্রাতিষ্ঠানিক উত্তরাধিকার বড় অংশেই নতুন ইউনিটে বহাল থাকবে।
সরকারের বক্তব্য: এটি নতুন বাহিনী
সরকার অবশ্য ‘নাম পরিবর্তন’ বা পুরোনো র্যাবকে নতুন নামে চালানোর অভিযোগ মানতে নারাজ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, র্যাবের পুরোনো কাঠামো রেখে শুধু নাম পরিবর্তন করা হচ্ছে—বিষয়টি এমন নয়। নতুন আইনে নাগরিকদের অভিযোগ নিষ্পত্তি, বাহিনীর সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ, শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং জবাবদিহির বিষয়ে নতুন বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারের যুক্তি হলো, বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন বদলে গেছে। সাইবার অপরাধ, মাদক, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ ও সন্ত্রাস মোকাবিলায় বিশেষায়িত দক্ষতা প্রয়োজন। তাই রাষ্ট্রের প্রয়োজনেই একটি বিশেষায়িত বাহিনী দরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অতীতে র্যাবকে রাজনৈতিকভাবে যেভাবে ব্যবহার করা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় তা ঠেকাতে জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত আইনের প্রয়োগ রাজনৈতিক সদিচ্ছার ওপর নির্ভর করবে—এ কথাও তিনি স্বীকার করেছেন।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন: সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা কি থাকবেন?
র্যাবের কাঠামো নিয়ে অতীতে যে বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছে, তার একটি ছিল সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে যুক্ত করা।
গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সুপারিশ ছিল, ভবিষ্যতে কোনো বিশেষায়িত বাহিনী গঠন করা হলে সেটি শুধু প্রশিক্ষিত পুলিশ সদস্যদের নিয়ে করা উচিত।
কিন্তু এসআরবির খসড়া আইনে সেই সুপারিশ পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
এসআরবি বাংলাদেশ পুলিশের অধীন বিশেষায়িত ইউনিট হলেও প্রয়োজন অনুযায়ী সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীসহ অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে কর্মকর্তা ও সদস্যদের প্রেষণে বা অস্থায়ীভাবে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এখানেই মানবাধিকার বিশেষজ্ঞদের অন্যতম বড় উদ্বেগ।
গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর বক্তব্য অনুযায়ী, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের এমন বাহিনীতে যুক্ত করার ফলে কমান্ড কাঠামো ও জবাবদিহির প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।
ক্ষমতার পরিধিও কমছে না
এসআরবির দায়িত্ব শুধু গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ বা বিশেষ অভিযান পরিচালনায় সীমাবদ্ধ থাকছে না। প্রস্তাবিত আইনে নতুন ইউনিটকে ব্যাপক আইন প্রয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এসআরবি—
মাদক ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার,
বিস্ফোরক উদ্ধার,
সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান,
মানব পাচার দমন,
সংঘবদ্ধ অপরাধ মোকাবিলা,
সাইবার অপরাধ দমন,
নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত অপরাধে ব্যবস্থা,
রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ মোকাবিলা
করতে পারবে।
এ ছাড়া আদালত, সরকার অথবা পুলিশ মহাপরিদর্শকের নির্দেশে ফৌজদারি মামলা তদন্তের ক্ষমতাও থাকবে।
অর্থাৎ তদন্তের ক্ষেত্রে এসআরবির ভূমিকা আগের র্যাবের তুলনায় কিছু ক্ষেত্রে আরও প্রাতিষ্ঠানিক হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তার ও তল্লাশির সুযোগ
খসড়ার ১২ ধারাও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পরোয়ানা ছাড়াই কোনো স্থানে প্রবেশ, তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এসআরবিকে দেওয়া হয়েছে।
এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে মাদক, অস্ত্র, বিস্ফোরক, সন্ত্রাসী সংগঠন বা তাদের আশ্রয়স্থল, মানব পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, সাইবার অপরাধ এবং রাষ্ট্রের নিরাপত্তাবিরোধী অপরাধ।
বিশেষায়িত বাহিনীর দ্রুত অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে এ ধরনের ক্ষমতা প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অতীতে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অতিরিক্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকায় এর সঙ্গে শক্তিশালী নজরদারি ও স্বাধীন জবাবদিহি ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তাও সামনে এসেছে।
নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ নিয়ে উদ্বেগ
এসআরবির জন্য নিজস্ব হাজতখানা, মালখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার বিধানও রয়েছে।
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
খসড়ার একটি ধারায় বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিকে ‘অনতিবিলম্বে’ নিকটস্থ থানার হেফাজতে দিতে হবে। আবার অন্য ধারায় এসআরবির নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার কথা বলা হয়েছে।
দুটি বিধান পাশাপাশি থাকায় প্রশ্ন উঠছে—গ্রেপ্তারের পর একজন ব্যক্তিকে এসআরবির নিজস্ব হাজতখানায় কতক্ষণ রাখা যাবে? কে তার ওপর নজরদারি করবে? পরিবারের সদস্য বা আইনজীবীর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ কীভাবে নিশ্চিত হবে?
অতীতের গোপন বন্দিশালার অভিযোগ বিবেচনায় এসব প্রশ্নকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধানে প্রায় ৪০টি গোপন বন্দিশালার সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। এর মধ্যে ২২ থেকে ২৩টি র্যাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিল বলে কমিশনের তথ্য উদ্ধৃত করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। একই কমিশনের অনুসন্ধানে উঠে আসা গুমের ঘটনার প্রায় ২৫ শতাংশের সঙ্গে র্যাবের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়।
এই অতীতের কারণেই নতুন বাহিনীর নিজস্ব আটক ও জিজ্ঞাসাবাদ অবকাঠামো নিয়ে স্বচ্ছ ও কঠোর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
জবাবদিহির জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি
এসআরবি আইনের একটি নতুন দিক হলো ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’।
নাগরিকদের অভিযোগ এবং এসআরবি সদস্যদের অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তির জন্য পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে।
কিন্তু কমিটির গঠন নিয়েই প্রশ্ন রয়েছে। পাঁচ সদস্যের মধ্যে চারজনই সরকার, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটের কর্মকর্তা। মাত্র একজন সদস্য সরকার মনোনীত মানবাধিকার, আইন বা বিচার প্রশাসনে অন্তত ১০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তি হবেন।
আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, অভিযোগ প্রমাণিত হলেও কমিটি সরাসরি শাস্তি দিতে পারবে না; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করবে।
ফলে এই কমিটি কতটা স্বাধীন হবে এবং তার সুপারিশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
র্যাবের অতীত কি নতুন বাহিনীর ওপরও থাকবে?
র্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগের ইতিহাসই এসআরবি নিয়ে বিতর্কের মূল কারণ।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে র্যাবের তৎকালীন মহাপরিচালক বাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ডের জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে গোপন বন্দিশালা থাকার কথাও স্বীকার করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় র্যাব বিলুপ্ত করার দাবি তুলেছিল। সেই রাজনৈতিক অবস্থানের পর এখন বিএনপি সরকারের অধীনে র্যাবের জনবল ও কাঠামোর বড় অংশ রেখে নতুন বাহিনী প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি করেছে।
এখানে মূল প্রশ্ন নাম নয়—প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কৃতি, কমান্ড কাঠামো, জবাবদিহি এবং ক্ষমতার প্রয়োগের পদ্ধতি কতটা বদলাবে।
‘মুসলিম ন্যাটো’ প্রসঙ্গের মতো এখানেও নাম নয়, কাঠামোই গুরুত্বপূর্ণ
র্যাব থেকে এসআরবি—এই পরিবর্তনকে শুধু নাম পরিবর্তন হিসেবে দেখাও যেমন যথেষ্ট নয়, তেমনি শুধু নতুন আইন করলেই পুরোনো সমস্যার সমাধান হবে—এমন নিশ্চয়তাও নেই।
একটি বিশেষায়িত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধ দমনে কার্যকর হতে পারে। কিন্তু একই সঙ্গে তাকে এমন কাঠামোর মধ্যে রাখতে হয়, যেখানে—
আইনের ঊর্ধ্বে কেউ থাকবে না, আটক ব্যক্তির অধিকার নিশ্চিত হবে, স্বাধীনভাবে অভিযোগ তদন্ত হবে এবং রাজনৈতিক নির্দেশে বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না।
এসআরবির ক্ষেত্রে এই চারটি বিষয়ই ভবিষ্যতের সাফল্য বা ব্যর্থতার প্রধান মাপকাঠি হতে পারে।
সামনে তিনটি বড় পরীক্ষা
এসআরবিকে কার্যকর ও বিশ্বাসযোগ্য করতে সরকারের সামনে অন্তত তিনটি বড় পরীক্ষা রয়েছে।
প্রথমত, জনবল ও নেতৃত্বে বাস্তব সংস্কার।
র্যাবের বর্তমান সদস্যদের বড় অংশ যদি একইভাবে নতুন বাহিনীতে থেকে যান, তাহলে বাহিনীর কাজের সংস্কৃতিতে কতটা পরিবর্তন আসবে—তা গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
দ্বিতীয়ত, স্বাধীন জবাবদিহি।
অভিযোগ প্রতিকার কমিটিকে যদি কার্যকর ও স্বাধীন করা না যায়, তাহলে কাগজে থাকা জবাবদিহির ব্যবস্থা বাস্তবে খুব বেশি পরিবর্তন আনতে নাও পারে।
তৃতীয়ত, আটক ও জিজ্ঞাসাবাদের স্বচ্ছতা।
নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ থাকলে সেখানে সিসিটিভি, হেফাজতের পূর্ণাঙ্গ নথি, আইনজীবীর প্রবেশাধিকার, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং স্বাধীন পরিদর্শনের মতো সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি।
শেষ কথা
সরকারের দৃষ্টিতে র্যাবের বিলুপ্তি এবং এসআরবির প্রতিষ্ঠা একটি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের উদ্যোগ। অপরাধের নতুন ধরন মোকাবিলায় বিশেষায়িত বাহিনীর প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করার সুযোগ নেই।
কিন্তু র্যাবের অতীত মানবাধিকার রেকর্ডের কারণে সাধারণ মানুষের প্রশ্নও অমূলক নয়। শুধু নাম, পোশাক ও আইনি কাঠামো বদলালেই একটি বাহিনীর চরিত্র বদলে যায় না।
র্যাবের সম্পদ, জনবল, মামলা, ক্ষমতা ও দায়দায়িত্ব যখন এসআরবিতে স্থানান্তরিত হচ্ছে, তখন নতুন বাহিনীর প্রকৃত পরিবর্তন নির্ভর করবে তার কমান্ড কাঠামো, রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা, মানবাধিকার সুরক্ষা, স্বাধীন নজরদারি এবং আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর।
তাই এসআরবির সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু সন্ত্রাস, মাদক বা সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন নয়; বরং রাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গিয়ে যেন নাগরিকের অধিকার ও আইনের শাসন ক্ষুণ্ন না হয়—সেই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা করা।
পকেট নিউজ বিশ্লেষণ: র্যাবের ক্ষেত্রে অতীতের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো—অসীম ক্ষমতা যদি শক্তিশালী জবাবদিহির বাইরে থাকে, তাহলে বিশেষায়িত বাহিনীও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার পাশাপাশি নাগরিক অধিকারের জন্য ঝুঁকিতে পরিণত হতে পারে। এসআরবি সেই পুরোনো ইতিহাস পুনরাবৃত্তি করবে, নাকি সত্যিকার অর্থে একটি নতুন, পেশাদার ও জবাবদিহিমূলক বাহিনীর মডেল তৈরি করবে—তার উত্তর মিলবে আইনটি চূড়ান্ত হওয়ার পর এর বাস্তব প্রয়োগে।


0 মন্তব্যসমূহ