📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

গুদামে পর্যাপ্ত সার, তবু মাঠে সংকট: বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতায় ভুগছেন আমন চাষিরা

 

গুদামে পর্যাপ্ত সার, তবু মাঠে সংকট: বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতায় ভুগছেন আমন চাষিরা

গুদামে পর্যাপ্ত সার, তবু মাঠে সংকট: বিতরণব্যবস্থার দুর্বলতায় ভুগছেন আমন চাষিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৫ আগস্ট ২০২৬

দেশের প্রধান ধানের মৌসুম আমন। আগস্টজুড়ে চলছে জমি প্রস্তুত, চারা রোপণ এবং রোপণের পরবর্তী পরিচর্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে ধানগাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে কৃষকদের কয়েক ধাপে সার প্রয়োগ করতে হয়। ফলে আমন মৌসুমে সারের চাহিদা স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। কিন্তু ঠিক এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় সার না পাওয়ার অভিযোগ করছেন কৃষকেরা।

কোথাও সরকার নির্ধারিত পরিবেশকের দোকানে দীর্ঘ সারি, কোথাও দিনের পর দিন ঘুরেও সার না পাওয়ার অভিযোগ। আবার কোনো কোনো এলাকায় সরকারি দামে সার না পেয়ে কৃষকদের বেশি দামে খোলাবাজার থেকে সার কিনতে হচ্ছে। এমনকি কোথাও কোথাও ক্ষুব্ধ কৃষকেরা ডিলারের গুদাম থেকে সার নিয়ে যাওয়ার মতো ঘটনাতেও জড়িয়েছেন।

তবে এই পরিস্থিতির সঙ্গে সরকারের সার মজুতের তথ্যের একটি বড় অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছে। সরকারি নথিপত্র বলছে, দেশে সারের প্রকৃত ঘাটতি নেই। বরং বিভিন্ন ধরনের সারের মজুত চাহিদার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। তাহলে মাঠে কৃষকের কাছে সার পৌঁছাচ্ছে না কেন?

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য এবং জেলা পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণ করলে যে চিত্র পাওয়া যায়, তাতে মূল সমস্যা সারের উৎপাদন বা আমদানিতে নয়; বরং বরাদ্দের পর সার উত্তোলন, সংরক্ষণ ও মাঠপর্যায়ে বিতরণ ব্যবস্থায়।

গুদামে সার, কৃষকের হাতে নেই

বাংলাদেশে সার আমদানি ও সরবরাহের সঙ্গে সরকারি দুটি প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) মূলত ইউরিয়া সার এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ডিএপি, এমওপি ও টিএসপিসহ নন-ইউরিয়া সার আমদানি করে।

বিএডিসির আগস্টের হিসাব অনুযায়ী, এ মাসে দেশে টিএসপি সারের চাহিদা ৬৯ হাজার মেট্রিক টন। বিপরীতে মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৭ হাজার মেট্রিক টন। ডিএপির আগস্টের চাহিদা ৮৯ হাজার মেট্রিক টন হলেও মজুত রয়েছে ৩ লাখ ২৭ হাজার মেট্রিক টন।

এমওপি সারের আগস্টের চাহিদা ৭৮ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে মজুত রয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার টন।

ইউরিয়ার বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২৬ লাখ মেট্রিক টন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য মজুত রয়েছে ৪ লাখ ৮২ হাজার মেট্রিক টন।

অর্থাৎ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অন্তত সামগ্রিক মজুতের হিসাবে দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই যে আমদানি বা সরবরাহের ঘাটতির কারণে কৃষকদের সার দেওয়া যাচ্ছে না।

কিন্তু বাস্তব চিত্রে দেখা যাচ্ছে সম্পূর্ণ ভিন্ন সমস্যা—সার রয়েছে, বরাদ্দও রয়েছে; কিন্তু বরাদ্দের বড় অংশ মাঠপর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে না।

বরাদ্দের তুলনায় উত্তোলন অর্ধেকেরও কম

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আগস্ট মাসের জেলাভিত্তিক সার সরবরাহ ও বিতরণসংক্রান্ত প্রতিবেদনে এই অসঙ্গতি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

ঢাকা বিভাগের আট জেলায় আগস্ট মাসে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ১৯ হাজার ৯১৮ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত ডিলারদের মাধ্যমে কৃষক পর্যায়ে বিতরণ বা উত্তোলন হয়েছে মাত্র ৮ হাজার ৯৬৫ মেট্রিক টন।

অর্থাৎ মাসের ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও বরাদ্দের অর্ধেকেরও কম সার কৃষকের কাছে পৌঁছেছে।

গাজীপুরের চিত্র আরও স্পষ্ট। আগস্টে জেলাটির জন্য ইউরিয়া বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৮৭৬ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৮০০ মেট্রিক টন।

নরসিংদীতে আগস্ট মাসে বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৫৫৩ মেট্রিক টন। এর মধ্যে ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ৯১৯ মেট্রিক টন।

ময়মনসিংহ বিভাগের চার জেলায় আগস্টে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৩১ হাজার ৪২৫ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তোলন হয়েছে মাত্র ৯ হাজার ৯৯২ মেট্রিক টন।

সিলেট বিভাগের চার জেলায় আগস্টের বরাদ্দ ছিল ৯ হাজার ৫৪১ মেট্রিক টন। একই সময়ে ডিলাররা উত্তোলন করেছেন মাত্র ২ হাজার ৬৭৯ মেট্রিক টন।

এই পরিসংখ্যানগুলো দেখায়, শুধু একটি বা দুটি জেলার বিচ্ছিন্ন সমস্যা নয়; বরং দেশের একাধিক অঞ্চলে বরাদ্দের সঙ্গে বাস্তব বিতরণের বড় ব্যবধান রয়েছে।

সারা দেশে ইউরিয়া বরাদ্দ ২ লাখ ৭৯ হাজার টন

আগস্ট মাসে সারা দেশে ইউরিয়া সারের বরাদ্দ রয়েছে ২ লাখ ৭৯ হাজার ৪১২ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬১২ টন।

অর্থাৎ মাসের দুই-তৃতীয়াংশ সময়ের কাছাকাছি পার হয়ে গেলেও বরাদ্দের উল্লেখযোগ্য অংশ তখনো কৃষকের কাছে পৌঁছায়নি।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের মতে, এর অন্যতম কারণ হলো ডিলারদের সময়মতো সার উত্তোলন না করা। ফলে সরকারি গুদাম বা নির্ধারিত সরবরাহব্যবস্থায় সার থাকলেও স্থানীয় বাজারে সংকটের পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

কুড়িগ্রামে গুদাম ভেঙে সার নেওয়ার ঘটনা

সারের সংকটের অভিযোগ কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে, তার একটি দৃষ্টান্ত কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর ঘটনা।

সেখানে ডিলারের গুদামের দরজা ভেঙে কৃষকেরা সার নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। কৃষকদের ক্ষোভের পেছনে ছিল সার না পাওয়ার অভিযোগ এবং আমন মৌসুমে সময়মতো সার সংগ্রহ করতে না পারার উদ্বেগ।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ ফয়সল ইমামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে কুড়িগ্রাম জেলার জন্য ইউরিয়া সারের বরাদ্দ ছিল ৫ হাজার ৮৭৫ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত ডিলাররা এর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সার উত্তোলন করেছিলেন।

এ ঘটনা দেখিয়ে দেয়, কাগজে পর্যাপ্ত বরাদ্দ থাকা এবং কৃষকের হাতে বাস্তবে সার থাকা—দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়।

শুধু ইউরিয়া নয়, টিএসপিতেও একই চিত্র

সমস্যাটি শুধু ইউরিয়া সারের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টিএসপি সারের ক্ষেত্রেও বরাদ্দ ও বিতরণের মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে।

কুমিল্লা জেলায় আগস্টে টিএসপির বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৭ মেট্রিক টন। কিন্তু ২০ আগস্ট পর্যন্ত কৃষক পর্যায়ে বিতরণ হয়েছে মাত্র ৪৯৮ মেট্রিক টন।

কুমিল্লা বিভাগের তিন জেলার মোট বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ৭৭২ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বিতরণ হয়েছে ১ হাজার ১৭১ মেট্রিক টন।

অন্যদিকে খুলনা বিভাগের চার জেলায় আগস্টে টিএসপির বরাদ্দ ছিল ৪ হাজার ৩৩৭ মেট্রিক টন। ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে ২ হাজার ৬৩৭ মেট্রিক টন।

অর্থাৎ নন-ইউরিয়া সারেও একই ধরনের সরবরাহ ও বিতরণগত সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ: ডিলারদের গাফিলতি ও যোগসাজশ

কৃষি মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সার বিতরণের দায়িত্বে থাকা ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে ডিলাররা বরাদ্দ অনুযায়ী সার উত্তোলন করছেন না।

ফলে কাগজে বরাদ্দ থাকলেও স্থানীয় পর্যায়ে সংকট তৈরি হচ্ছে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ) আহমেদ ফয়সল ইমাম বলেছেন, মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম বাস্তবায়নের প্রধান ভরসা। মন্ত্রণালয় থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী সার আমদানি ও বরাদ্দ দেওয়ার পরও কিছু ক্ষেত্রে কৃষি কর্মকর্তাদের উদাসীনতা এবং ডিলারদের সঙ্গে যোগসাজশ সংকট তৈরি করছে।

তিনি জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ তদন্তে যাঁদের বিরুদ্ধে গাফিলতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে জেলা পর্যায়ের তিন উপপরিচালককে বদলি করা হয়েছে এবং একজন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

কারণ দর্শানোর নোটিশ, ব্যাখ্যা তলব, প্রত্যাহার, বদলি এবং প্রয়োজনে বরখাস্ত—বিভিন্ন ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কালোবাজারির অভিযোগও সামনে

কৃষকদের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাঁদের দাবি, সরকারি ভর্তুকিতে দেওয়া সার কোনো কোনো ক্ষেত্রে নির্ধারিত দামে কৃষকের কাছে না পৌঁছে কালোবাজারে চলে যাচ্ছে।

এরপর সেই সারই খোলাবাজারে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এক এলাকার বরাদ্দ করা সার অন্য এলাকায় পাচারের অভিযোগও রয়েছে। এমন অভিযোগে রাজশাহীর চার উপজেলায় গত তিন দিনে চার পরিবেশককে মোট ৮৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

যশোরেও বেশি দামে সার বিক্রির অভিযোগে ২ আগস্ট দুই পরিবেশককে মোট ১০ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

এই ঘটনাগুলো থেকে বোঝা যায়, সমস্যাটি শুধু ডিলারদের সার উত্তোলনে অনীহা নয়; কোথাও কোথাও উত্তোলনের পর সার কোথায় যাচ্ছে, কী দামে বিক্রি হচ্ছে এবং প্রকৃত কৃষকের কাছে কতটা পৌঁছাচ্ছে—সেটিও বড় প্রশ্ন।

অর্থনীতিবিদদের চোখে ‘সরবরাহ-চেইনের সংকট’

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছাদেকা হকের বিশ্লেষণও সমস্যাটির মূল জায়গার দিকে ইঙ্গিত করে।

তাঁর মতে, দেশে সারের সংকট প্রকৃত ঘাটতির কারণে নয়; বরং সরবরাহ-চেইনের ত্রুটির কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে।

কিছু এলাকায় অনুমোদিত ডিলারের দোকানে সার নেই বলা হলেও পাশের খুচরা দোকানে বেশি দামে একই সার পাওয়া যাচ্ছে—এমন পরিস্থিতির কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন।

ডিলারদের সময়মতো বরাদ্দ করা সার উত্তোলন না করা, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নামে একাধিক ডিলারশিপ নিয়ে বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ এবং নিয়ম ভাঙার পরও কার্যকরভাবে ডিলারশিপ বাতিল না করার মতো বিষয়গুলোকে তিনি সমস্যার অংশ হিসেবে দেখছেন।

সমাধানের পথ কোথায়?

সার বিতরণ ব্যবস্থার এই সংকট সমাধানে শুধু নতুন করে সার আমদানি বা মজুত বাড়ানো যথেষ্ট হবে না। বরং যে জায়গায় সার আটকে যাচ্ছে, সেই সরবরাহ-চেইনকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের প্রস্তাব অনুযায়ী কয়েকটি ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে—

প্রথমত, সার উত্তোলনের নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ। বরাদ্দ পাওয়ার পর কোনো ডিলার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সার উত্তোলন না করলে তার কারণ জানানো এবং প্রয়োজন হলে বরাদ্দ অন্য ডিলারের মাধ্যমে কৃষকের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং। কোন ডিলার কত সার বরাদ্দ পেলেন, কখন গুদাম থেকে তুললেন, কোন এলাকায় কত বিতরণ করলেন—এসব তথ্য অনলাইনে দৃশ্যমান করা গেলে অনিয়মের সুযোগ কমবে।

তৃতীয়ত, ডিলারশিপ অডিট। একই পরিবারের একাধিক ডিলারশিপ, প্রকৃত ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

চতুর্থত, কৃষকের অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা। স্থানীয় কৃষক যেন সার না পাওয়া, বেশি দাম নেওয়া বা কালোবাজারির অভিযোগ দ্রুত জানাতে পারেন এবং অভিযোগের অগ্রগতি জানতে পারেন, এমন ব্যবস্থা থাকা দরকার।

পঞ্চমত, শাস্তির বাস্তব প্রয়োগ। শুধু জরিমানা বা কারণ দর্শানোর নোটিশ নয়, গুরুতর ও পুনরাবৃত্ত অনিয়মের ক্ষেত্রে ডিলারশিপ বাতিলসহ কার্যকর শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

আমন মৌসুমে সময়মতো সারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

সারের সংকটের অর্থ শুধু একজন কৃষককে বেশি দামে সার কিনতে হওয়া নয়। সময়মতো সার না পেলে ধানের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, বাড়তে পারে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় এবং শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব পড়তে পারে বাজারদর ও খাদ্যনিরাপত্তায়।

আমন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ধান উৎপাদন মৌসুম। তাই এই সময়ে সারের সরবরাহব্যবস্থায় সামান্য ব্যাঘাতও ব্যাপক প্রভাব ফেলতে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা তাই একটাই—দেশে সার নেই, এমনটি সরকারি তথ্য বলছে না; সমস্যা হচ্ছে কৃষকের কাছে সার পৌঁছানোর ব্যবস্থায়।

সরকারের গুদামে পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও যদি একজন কৃষককে সার কিনতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিতে হয় কিংবা শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয়, তাহলে সরবরাহ ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবেই।

সুতরাং এখন মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত নতুন করে মজুত বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যমান সার কোথায়, কার কাছে এবং কীভাবে আটকে আছে—তা চিহ্নিত করে দ্রুত মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দেওয়া। আমন মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেটিই কৃষক ও দেশের কৃষি অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে জরুরি।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ