📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, খসড়া চুক্তি অনুমোদনের অপেক্ষায়

 

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, খসড়া চুক্তি অনুমোদনের অপেক্ষায়

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান কেনার পথে বাংলাদেশ, খসড়া চুক্তি অনুমোদনের অপেক্ষায়

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ২৫ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়ন ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে চীনের তৈরি জে-১০সি (J-10CE) বহুমুখী যুদ্ধবিমান সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে। যুদ্ধবিমান কেনার পাশাপাশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি (ড্রোন) ব্যবস্থা সংগ্রহের উদ্যোগও চলছে বলে জানিয়েছে সরকার।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারের সমসাময়িক কর্মকাণ্ড নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জে-১০সি ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি ইতিমধ্যে নেগোসিয়েশন বৈঠকের মাধ্যমে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করেছে। অনুমোদনের জন্য সেই খসড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

আধুনিকায়নের বড় পরিকল্পনায় বিমানবাহিনী

বাংলাদেশ বিমানবাহিনীকে আরও আধুনিক ও সক্ষম করে তোলার অংশ হিসেবে একাধিক ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে চতুর্থ প্রজন্মের বিভিন্ন মডেলের মাল্টিরোল কমব্যাট এয়ারক্রাফট (MRCA), অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম।

জাহেদ উর রহমান জানিয়েছেন, এসব সরঞ্জাম কেনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট পাওয়া গেলে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী বাজেটে নেওয়া হবে।

অর্থাৎ যুদ্ধবিমান সংগ্রহের বিষয়টি শুধু একটি পৃথক ক্রয়প্রক্রিয়া নয়; বরং বিমানবাহিনীর সামগ্রিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ।

জে-১০সি কেন আলোচনায়

চীনের তৈরি জে-১০সি মূলত একটি একক ইঞ্জিনের বহুমুখী যুদ্ধবিমান। এটি আকাশযুদ্ধের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা রাখে।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই যুদ্ধবিমানকে বিবেচনায় নেওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে এর সক্ষমতার পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে জাহেদ উর রহমান বলেন, একই ধরনের সক্ষমতার ইউরোপীয় যুদ্ধবিমান—যেমন রাফাল বা ইউরোফাইটার টাইফুন—এর তুলনায় চীনা যুদ্ধবিমানের দাম তুলনামূলকভাবে কম।

এই মূল্য-সক্ষমতার সমন্বয় বাংলাদেশের মতো সীমিত প্রতিরক্ষা বাজেটের দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা হতে পারে। কারণ আধুনিক যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে শুধু বিমান কেনার ব্যয় নয়, প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিচালন ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হয়।

ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ

জে-১০সি যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা।

তিনি দাবি করেন, ওই সংঘাতে ভারতের একটি রাফাল যুদ্ধবিমান চীনের তৈরি জে-১০ দিয়ে ভূপাতিত করা হয়েছিল এবং এটিকে জে-১০-এর বাস্তব যুদ্ধ সক্ষমতার উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

তবে সামরিক বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট যুদ্ধবিমান অন্য একটি যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করেছে—এমন দাবিকে বিমানটির সামগ্রিক শ্রেষ্ঠত্বের একক প্রমাণ হিসেবে দেখা যায় না। বাস্তব যুদ্ধের ফলাফল নির্ভর করে পাইলটের প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য, রাডার ও সেন্সর, ক্ষেপণাস্ত্র, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সক্ষমতা, আকাশ প্রতিরক্ষা এবং অপারেশনাল কৌশলসহ বহু বিষয়ের ওপর।

তাই বাংলাদেশের সম্ভাব্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে জে-১০সির মূল্য ও সাম্প্রতিক যুদ্ধ-অভিজ্ঞতার পাশাপাশি এর দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণ, অস্ত্রব্যবস্থা ও বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর বিদ্যমান অবকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

খসড়া চুক্তি তৈরি, এখন অনুমোদনের অপেক্ষা

সরকারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জে-১০সিই এবং অ্যাটাক হেলিকপ্টার সংগ্রহের জন্য সংশ্লিষ্ট কমিটি ইতিমধ্যে নেগোসিয়েশন বৈঠক করেছে।

এসব বৈঠকের ভিত্তিতে খসড়া চুক্তিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এখন সেটি অনুমোদনের জন্য সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

এর অর্থ, বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তির পর্যায়ে পৌঁছায়নি। প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আর্থিক অনুমোদন শেষ হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

এখানে বাজেটও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সরকার জানিয়েছে, চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় অর্থ পাওয়া গেলে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। অন্যথায় তা পরবর্তী বাজেটে স্থানান্তরিত হতে পারে।

শুধু যুদ্ধবিমান নয়, আসছে হেলিকপ্টার ও ইউএভিও

বাংলাদেশের বিমান প্রতিরক্ষা ও সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনায় শুধু জে-১০সি নেই। সরকার একই সঙ্গে অ্যাটাক হেলিকপ্টার, ভিআইপি হেলিকপ্টার এবং ইউএভি সিস্টেম সংগ্রহের কথা জানিয়েছে।

অ্যাটাক হেলিকপ্টার স্থলভিত্তিক সামরিক অভিযানে বিমান সহায়তা দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে ইউএভি বা ড্রোন ব্যবস্থার ব্যবহার আধুনিক যুদ্ধ ও নজরদারিতে দ্রুত বাড়ছে।

সীমান্ত পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ, নজরদারি এবং বিভিন্ন সামরিক অভিযানে ইউএভি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় এ ধরনের ব্যবস্থা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা কাঠামোতেও বাড়তি সক্ষমতা যোগ করতে পারে।

কেনার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সামনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন

জে-১০সি কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রথমত, মোট ক্রয়মূল্য। যুদ্ধবিমানের ইউনিট মূল্যই পুরো ব্যয় নয়। অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, সিমুলেটর, খুচরা যন্ত্রাংশ, রক্ষণাবেক্ষণ অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি সহায়তা চুক্তির ব্যয়ও বিবেচনায় নিতে হবে।

দ্বিতীয়ত, অপারেশনাল সক্ষমতা। বিমানটি বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ও আক্রমণাত্মক সক্ষমতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

তৃতীয়ত, রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থা। যুদ্ধবিমান কেনার পর দীর্ঘ সময় সেটি সচল রাখতে পর্যাপ্ত খুচরা যন্ত্রাংশ, কারিগরি সহায়তা এবং প্রশিক্ষিত জনবল নিশ্চিত করা জরুরি।

চতুর্থত, অস্ত্রব্যবস্থা ও প্রযুক্তিগত সমন্বয়। যুদ্ধবিমানের সঙ্গে কোন ধরনের আকাশ-থেকে-আকাশ এবং আকাশ-থেকে-স্থল ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য অস্ত্র থাকবে, সেটিও এর প্রকৃত যুদ্ধ সক্ষমতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

পঞ্চমত, দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নির্ভরতা। একটি নির্দিষ্ট দেশের কাছ থেকে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করলে ভবিষ্যতে রক্ষণাবেক্ষণ ও সরবরাহে সেই দেশের ওপর নির্ভরতা তৈরি হতে পারে। ফলে ক্রয়ের সময় প্রযুক্তি, সরবরাহের নিশ্চয়তা ও কৌশলগত ভারসাম্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।

প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়ানোর নতুন পর্যায়

বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতিতে দীর্ঘদিন ধরে আধুনিকায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন যুদ্ধবিমান, হেলিকপ্টার ও ড্রোন ব্যবস্থা সংগ্রহের পরিকল্পনা সেই আধুনিকায়ন প্রক্রিয়াকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জে-১০সিকে কেন্দ্র করে সরকারের আগ্রহ বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ আধুনিক বহুমুখী যুদ্ধবিমান সাধারণত একটি দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। একই সঙ্গে তুলনামূলক কম ব্যয়ে আধুনিক সক্ষমতা অর্জনের সুযোগ থাকলে তা বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা পরিকল্পনায় আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে শুধু যুদ্ধবিমানের সক্ষমতা বা দাম নয়, ব্যবহারিক প্রয়োজন, দীর্ঘমেয়াদি ব্যয়, রক্ষণাবেক্ষণ সক্ষমতা, প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এখন নজর চূড়ান্ত অনুমোদনের দিকে

চীনের জে-১০সি যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন এমন একটি পর্যায়ে রয়েছে, যেখানে খসড়া চুক্তি প্রস্তুত হয়েছে এবং তা সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।

চূড়ান্ত ক্রয়চুক্তি, কতটি যুদ্ধবিমান কেনা হবে, মোট ব্যয় কত হবে, কী ধরনের অস্ত্র ও সহায়তা প্যাকেজ থাকবে এবং কবে সরবরাহ শুরু হবে—এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

তবে সরকারের সাম্প্রতিক বক্তব্যে স্পষ্ট, বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নে চীনের জে-১০সি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প থেকে সম্ভাব্য ক্রয়ের পর্যায়ে এগিয়েছে।

চলতি অর্থবছরে প্রয়োজনীয় বাজেট নিশ্চিত করা গেলে প্রক্রিয়াটি আরও এগোতে পারে। আর বাজেটের সীমাবদ্ধতা থাকলে সিদ্ধান্ত যেতে পারে পরবর্তী অর্থবছরে। শেষ পর্যন্ত এই ক্রয় বাংলাদেশের আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতায় কতটা পরিবর্তন আনবে, তা নির্ভর করবে শুধু যুদ্ধবিমান সংগ্রহের ওপর নয়—বরং প্রশিক্ষণ, অস্ত্র, রক্ষণাবেক্ষণ, রাডার ও অন্যান্য প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে এর কতটা কার্যকর সমন্বয় করা যায়, তার ওপর।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ