বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে ‘বিগ থ্রি’, ফিরলেন নাথান লায়ন
খেলা ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১২ আগস্ট ২০২৬
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। আর সেই ঐতিহাসিক সিরিজের প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের সামনে পূর্ণ শক্তির বোলিং আক্রমণ নিয়ে হাজির হচ্ছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে আগামীকাল শুরু হতে যাওয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথম ম্যাচের জন্য একাদশ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়ার ঘোষিত একাদশে সবচেয়ে বড় খবর—এক বছরের বেশি সময় পর আবার একই টেস্ট একাদশে ফিরেছেন প্যাট কামিন্স, জশ হ্যাজলউড ও মিচেল স্টার্ক। অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে পরিচিত এই ‘বিগ থ্রি’ পেসারকে একসঙ্গে সামলানোর কঠিন পরীক্ষার মুখেই পড়তে হবে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের।
একই সঙ্গে দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ অফ স্পিনার নাথান লায়ন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে সর্বশেষ অ্যাশেজের শেষ দুই টেস্টে খেলতে পারেননি তিনি।
ডারউইনে বাংলাদেশের সামনে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী একাদশ
বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়কত্ব করবেন প্যাট কামিন্স। তাঁর নেতৃত্বাধীন একাদশে রয়েছেন—
জেক ওয়েদারাল্ড, ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন, স্টিভ স্মিথ, ক্যামেরন গ্রিন, অ্যালেক্স ক্যারি, বো ওয়েবস্টার, মিচেল স্টার্ক, প্যাট কামিন্স, নাথান লায়ন ও জশ হ্যাজলউড।
একাদশটি দেখলেই বোঝা যায়, ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিং বিভাগেও যথেষ্ট ভারসাম্য রেখেছে অস্ট্রেলিয়া। বিশেষ করে স্টার্ক, কামিন্স ও হ্যাজলউডের সমন্বয়ে গড়া পেস আক্রমণ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
এক বছরের বেশি সময় পর ‘বিগ থ্রি’ একসঙ্গে
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের তিন বড় তারকা কামিন্স, হ্যাজলউড ও স্টার্ককে দীর্ঘ সময় পর একই টেস্ট একাদশে দেখা যাবে।
চোট ও বিশ্রামের কারণে বিভিন্ন সময়ে তিনজনকে একসঙ্গে পাওয়া যায়নি। এবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্টে সেই অপেক্ষার অবসান হচ্ছে।
মিচেল স্টার্ক তাঁর গতিময় ও ভয়ংকর বোলিংয়ের জন্য পরিচিত। নতুন বলে সুইং এবং পুরোনো বলে গতি ধরে রাখার ক্ষমতা তাঁকে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য বড় হুমকি করে তুলেছে।
অন্যদিকে প্যাট কামিন্স শুধু দলের অধিনায়কই নন, অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণের অন্যতম প্রধান অস্ত্র। আর জশ হ্যাজলউড তাঁর নিখুঁত লাইন-লেন্থ ও ধারাবাহিকতার জন্য বিশ্ব ক্রিকেটে অন্যতম সেরা টেস্ট পেসার হিসেবে পরিচিত।
তিনজন একসঙ্গে থাকায় বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে শুরু থেকেই কঠিন পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হতে পারে।
ফিরলেন নাথান লায়ন
অস্ট্রেলিয়ার একাদশে আরেকটি উল্লেখযোগ্য সংযোজন নাথান লায়ন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটের কারণে সর্বশেষ অ্যাশেজের শেষ দুই টেস্টে খেলতে পারেননি অভিজ্ঞ এই অফ স্পিনার।
দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য লায়ন দেশের হয়ে স্পিন আক্রমণের মূল ভরসা। ডারউইনের উইকেট ম্যাচ যত গড়াবে, সেখানে তাঁর ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের জন্য তাই শুধু পেস নয়, লায়নের স্পিনও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
জায়গা হয়নি স্কট বোল্যান্ডের
হ্যাজলউডের প্রত্যাবর্তনের কারণে একাদশের বাইরে থাকতে হয়েছে স্কট বোল্যান্ডকে। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে দুর্দান্ত ধারাবাহিক ছিলেন এই পেসার।
অ্যাশেজের পাঁচটি টেস্টেই খেলেছিলেন বোল্যান্ড। সেই সিরিজে পাঁচ ম্যাচে তাঁর শিকার ছিল ২০ উইকেট। ফলে পারফরম্যান্সের বিচারে একাদশে তাঁর জায়গা না পাওয়াটা কিছুটা বিস্ময়েরও।
তবে অস্ট্রেলিয়ার সামনে রয়েছে ব্যস্ত টেস্ট সূচি। আগামী ১২ মাসে দলটি সর্বোচ্চ ২১টি টেস্ট খেলতে পারে। ফলে বোল্যান্ডকে দীর্ঘ সময় বেঞ্চে বসে থাকতে হবে—এমনটা মনে করছেন না অস্ট্রেলিয়া-সংশ্লিষ্টরা। সামনে একাধিক সিরিজে তাঁর সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাটিংয়েও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া
অস্ট্রেলিয়ার শক্তি শুধু বোলিংয়ে সীমাবদ্ধ নয়। একাদশে রয়েছেন ট্রাভিস হেড, মারনাস লাবুশেন ও স্টিভ স্মিথের মতো অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান।
ট্রাভিস হেড সাম্প্রতিক সময়ে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ের অন্যতম আক্রমণাত্মক মুখ। তাঁর সঙ্গে লাবুশেন ও স্মিথের মতো টেস্ট ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত ব্যাটসম্যান থাকায় বাংলাদেশের বোলারদেরও দীর্ঘ স্পেল ধরে কঠিন লড়াই করতে হতে পারে।
এ ছাড়া ক্যামেরন গ্রিন ও বো ওয়েবস্টার দলে অলরাউন্ডিং বিকল্প বাড়িয়েছেন। উইকেটের পেছনে থাকবেন অ্যালেক্স ক্যারি।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ
এই সিরিজ বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্যও বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এর আগে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের টেস্ট খেলার সুযোগ খুবই সীমিত ছিল।
অন্যদিকে ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামেও দুই দশকের বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেট ফিরছে। ফলে দুই দলের জন্যই ম্যাচটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে।
বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া দলকে মোকাবিলা করার চ্যালেঞ্জ নয়, অপরিচিত কন্ডিশন ও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার দীর্ঘ বিরতিও বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াবে।
বাংলাদেশের জন্য বড় পরীক্ষা পেস আক্রমণ সামলানো
ডারউইনে ম্যাচ শুরুর আগেই আলোচনার কেন্দ্রে অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণ। স্টার্ক-কামিন্স-হ্যাজলউড—এই তিনজনের বিপক্ষে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের শুরুটা ভালো করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হবে।
বিশেষ করে নতুন বলে উইকেট হারালে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণ থেকে ম্যাচ বের করে আনা বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে যেতে পারে। তাই টপ অর্ডারের ধৈর্য, উইকেটের মূল্য বোঝা এবং প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের সামলানোই হতে পারে বাংলাদেশের সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি।
অন্যদিকে বাংলাদেশের বোলারদেরও স্মিথ, হেড ও লাবুশেনদের বিপক্ষে পরিকল্পিত বোলিং করতে হবে। অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি রয়েছে আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামর্থ্য।
সব মিলিয়ে, ডারউইনে বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে কঠিন কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক পরীক্ষা। একদিকে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলার ঐতিহাসিক মুহূর্ত, অন্যদিকে স্বাগতিকদের একাদশে একসঙ্গে ‘বিগ থ্রি’ পেসার ও অভিজ্ঞ স্পিনার নাথান লায়নের প্রত্যাবর্তন—সব মিলিয়ে সিরিজের প্রথম টেস্ট ঘিরে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে।


0 মন্তব্যসমূহ