📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

চট্টগ্রামে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক: রিমান্ডে ডেভিড ইমনের বিস্ফোরক তথ্য, বিদেশে যেত অর্ধেক অর্থ

 

চট্টগ্রামে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক: রিমান্ডে ডেভিড ইমনের বিস্ফোরক তথ্য, বিদেশে যেত অর্ধেক অর্থ

চট্টগ্রামে মাসে কোটি টাকার চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক: রিমান্ডে ডেভিড ইমনের বিস্ফোরক তথ্য, বিদেশে যেত অর্ধেক অর্থ

নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ৩ আগস্ট ২০২৬

চট্টগ্রামজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দাবি করেছেন, তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত চাঁদাবাজি চক্র মাসে গড়ে প্রায় এক কোটি টাকা আদায় করত। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এই অর্থের প্রায় অর্ধেক বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের কাছে হুন্ডির মাধ্যমে পাঠানো হতো, আর বাকি অর্থ সংগঠনের কার্যক্রম ও ব্যক্তিগত ব্যবহারে ব্যয় করা হতো।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অস্ত্রের মহড়া এবং সংগঠিত অপরাধের মাধ্যমে পরিচালিত এই নেটওয়ার্ক চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী, প্রবাসী ও নির্মাণ খাতের উদ্যোক্তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

যেভাবে পরিচালিত হতো চাঁদাবাজির নেটওয়ার্ক

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে ইমন যে তথ্য দিয়েছেন, তাতে দেখা যায়—চাঁদা আদায়ের আগে সম্ভাব্য টার্গেট সম্পর্কে বিস্তারিত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

তদন্তে উঠে এসেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্র প্রথমে ব্যবসায়ী, প্রবাসী কিংবা আর্থিকভাবে সচ্ছল ব্যক্তিদের একটি তালিকা তৈরি করত। এরপর তাঁদের ব্যবসা, আর্থিক অবস্থা, পারিবারিক সদস্য, সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নিয়মিত যাতায়াতের স্থান এবং দৈনন্দিন কর্মকাণ্ড সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা হতো।

সব তথ্য সংগ্রহের পর বিদেশি নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন দেওয়া হতো। ফোনে ভুক্তভোগীকে জানিয়ে দেওয়া হতো তাঁর চলাফেরা ও পরিবারের প্রতিটি তথ্য নজরদারিতে রয়েছে। এতে ভুক্তভোগীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হতো এবং চাঁদা দিতে বাধ্য করার পরিবেশ সৃষ্টি করা হতো।

ভয়ভীতি থেকে সশস্ত্র হামলা

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, প্রথমে ফোনে হুমকি দেওয়া হলেও তাতে কাজ না হলে দ্বিতীয় ধাপে শুরু হতো সহিংসতা।

অভিযোগ অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে চাঁদা না দিলে—

  • ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হতো,

  • বাড়িতে ভাঙচুর করা হতো,

  • ফাঁকা গুলি ছোড়া হতো,

  • প্রয়োজন হলে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হতো।

পুলিশের ভাষ্য, এসব ঘটনার পর অধিকাংশ ভুক্তভোগী নিরাপত্তার আশঙ্কায় মামলা না করে সমঝোতার মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করতেন। ফলে দীর্ঘদিন এই চাঁদাবাজির প্রকৃত পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও স্পষ্ট ছিল না।

কোটি টাকার ভাগাভাগি

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের তথ্যমতে, মাসে আদায়কৃত প্রায় এক কোটি টাকার মধ্যে—

  • প্রায় ৫০ লাখ টাকা বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের কাছে পাঠানো হতো,

  • প্রায় ১৫ লাখ টাকা সহযোগী ও সংগঠনের সদস্যদের মধ্যে ব্যয় করা হতো,

  • অবশিষ্ট অর্থ নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতেন ইমন।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, এই অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাঠানো হতো এবং বর্তমানে সেই আর্থিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

‘হাজারের বেশি সহযোগী’ থাকার দাবি

রিমান্ডে ইমন দাবি করেছেন, তাঁর অধীনে এক হাজারেরও বেশি সহযোগী বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করতেন।

যদিও পুলিশ এই সংখ্যার সত্যতা এখনো যাচাই করছে, তবে তদন্তকারীদের মতে, চাঁদাবাজি, নজরদারি, তথ্য সংগ্রহ, অস্ত্র সরবরাহ ও অর্থ আদায়ের জন্য একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সক্রিয় ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা মিলেছে।

গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়া

গত ২৯ জুলাই যশোর সীমান্ত দিয়ে ভারতে পালানোর চেষ্টা করার সময় তিন সহযোগীসহ ইমনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরবর্তীতে ফটিকছড়ি থানার হত্যা ও অস্ত্র মামলায় আদালত তাঁকে ১০ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। বর্তমানে জেলা পুলিশের বিশেষ টিম তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে।

সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে উত্থান

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বাসিন্দা মোবারক হোসেন ইমন ২০২৪ সালের পর বিদেশে পলাতক বড় সাজ্জাদের সংগঠনে যুক্ত হন।

সংগঠনের অন্যতম নেতা ছোট সাজ্জাদ গ্রেপ্তার হওয়ার পর ইমন দ্রুত সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে উঠে আসেন।

পুলিশের অভিযোগ, তিনি—

  • বাকলিয়ার আলোচিত জোড়া হত্যা,

  • পতেঙ্গা এলাকায় সন্ত্রাসী আকবর হত্যা,

  • চাঁদাবাজি,

  • অবৈধ অস্ত্র বহন,

  • সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী কার্যক্রম

সহ একাধিক আলোচিত ঘটনায় জড়িত ছিলেন।

অস্ত্র ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ইমন নিয়মিত ১৫ থেকে ২০টি আগ্নেয়াস্ত্রের নিয়ন্ত্রণে ছিলেন এবং অস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ।

পুলিশের দাবি, বড় সাজ্জাদের বাহিনীতে বর্তমানে অন্তত ৫০ জন সক্রিয় শুটার ও সহযোগী রয়েছে, যারা চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ অপরাধ পরিচালনা করছে।

তদন্তকারীদের মতে, ইমন ও তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান বিদেশে অবস্থানরত বড় সাজ্জাদের নির্দেশনায় স্থানীয়ভাবে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতেন।

সাজ্জাদের প্রতিক্রিয়া

অন্যদিকে, বিদেশে অবস্থানরত সাজ্জাদ আলী পুলিশের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

মুঠোফোনে দেওয়া সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, পুলিশের হেফাজতে থাকা একজন ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে এসব দাবি করা হচ্ছে এবং তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেন।

তদন্তের পরবর্তী ধাপ

পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে তদন্তের মূল লক্ষ্য—

  • হুন্ডি চক্র শনাক্ত করা,

  • চাঁদাবাজির অর্থের উৎস ও লেনদেন অনুসন্ধান,

  • সহযোগীদের গ্রেপ্তার,

  • অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযান জোরদার করা।

একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পুরো অপরাধচক্রের আর্থিক কাঠামো উন্মোচন করা যায়।

বিশ্লেষণ

চট্টগ্রামে সংঘবদ্ধ চাঁদাবাজির এই অভিযোগ দেশের ব্যবসায়িক নিরাপত্তা ও বিনিয়োগ পরিবেশ নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আধুনিক প্রযুক্তি, বিদেশি যোগাযোগ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং হুন্ডি লেনদেনের সমন্বয়ে পরিচালিত এই নেটওয়ার্ক কেবল আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের জন্যও বড় হুমকি হয়ে উঠেছিল।

তবে রিমান্ডে দেওয়া বক্তব্য এখনো তদন্তাধীন এবং আদালতে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়া এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে পুরো চাঁদাবাজি চক্র, অর্থপাচারের রুট এবং পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ