📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

অবশেষে জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই’

 

অবশেষে জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই’

অবশেষে জাতীয় দলকে বিদায় বললেন মেসি, ‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই’

স্পোর্টস ডেস্ক, পকেট নিউজ | ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অবশেষে সেই ঘোষণা এল, যে ঘোষণার অপেক্ষা ও আশঙ্কা দীর্ঘদিন ধরে ছিল আর্জেন্টিনা সমর্থকদের মনে। আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। ৩৯ বছর বয়সী আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় জানিয়েছেন, দীর্ঘ ভাবনাচিন্তার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

মেসির অবসর মানে শুধু একজন ফুটবলারের বিদায় নয়; আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে দুই দশকের বেশি সময় ধরে চলা এক অসাধারণ অধ্যায়ের সমাপ্তি। যে জার্সিতে ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা সহ্য করেছেন, যে জার্সিতেই পরবর্তীতে বিশ্বকাপসহ একের পর এক আন্তর্জাতিক ট্রফি জিতে নিজেকে পূর্ণতা দিয়েছেন—সেই জার্সি এবার সত্যিই তুলে রাখছেন সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ফুটবলার।

মেসি তাঁর বার্তায় লিখেছেন, বিশ্বকাপ ফাইনালের পর দীর্ঘ সময় ভেবে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, এটি এমন একটি সিদ্ধান্ত, যা তাঁকে ভেতর থেকে কষ্ট দিয়েছে; কিন্তু একই সঙ্গে তিনি উপলব্ধি করেছেন, এটাই সঠিক সময়।

বিশ্বকাপ ফাইনালের পরই শুরু হয়েছিল ভাবনা

জাতীয় দল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত হঠাৎ নেননি মেসি। সর্বশেষ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার ১–০ গোলে হারের পরই নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে শুরু করেছিলেন তিনি।

মেসি তাঁর সিদ্ধান্তের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত মুহূর্তের কথাও উল্লেখ করেছেন। গত ৮ আগস্ট তিনি হারান তাঁর বাবা জর্জ মেসিকে। বাবার মৃত্যুর পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত আরও দৃঢ় হয় তাঁর।

নিজের হাতে লেখা কিছু কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেছেন মেসি। সেখানে দেখা যায়, বিশ্বকাপ ফাইনালের মাত্র দুই দিন পর, ২১ জুলাই তিনি নিজের ভাবনাগুলো লিখে রেখেছিলেন।

মেসির ভাষ্য অনুযায়ী, বাবার মৃত্যুর পর তিনি আগের চেয়েও বেশি নিশ্চিত হয়েছেন যে জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর সময় এসেছে।

২০০৫ থেকে ২০২৬—আকাশি-সাদা জার্সিতে এক যুগান্তকারী অধ্যায়

২০০৫ সালে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলে অভিষেক হয় মেসির। এরপর কেটে গেছে ২১ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি দেখেছেন সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতা, সমালোচনা, হতাশা এবং অবশেষে বিশ্বজয়ের আনন্দ।

জাতীয় দলের শুরুটা মেসির জন্য সহজ ছিল না। আর্জেন্টিনার জার্সিতে একের পর এক বড় টুর্নামেন্টে ব্যর্থতার পর তাঁকে শুনতে হয়েছে—ক্লাবের হয়ে এত কিছু করলেও জাতীয় দলের হয়ে তিনি কিছুই জিততে পারেননি।

২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে হারের পর হতাশায় জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই ফিরে আসেন। সেই প্রত্যাবর্তনই পরবর্তীতে আর্জেন্টিনা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম সেরা অধ্যায়ের সূচনা করে।

চার বছরে চারটি বড় ট্রফি

২০২১ সাল থেকে মেসির জাতীয় দল অধ্যায় যেন সম্পূর্ণ বদলে যায়।

২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর আন্তর্জাতিক শিরোপা জয়ের যাত্রা। এরপর ২০২২ সালে ফিনালিসিমা জেতেন তিনি। একই বছর কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করেন।

এরপর ২০২৪ সালে আরও একটি কোপা আমেরিকা শিরোপা জিতে আর্জেন্টিনার হয়ে নিজের ট্রফির সংখ্যা আরও বাড়ান মেসি।

অর্থাৎ ২০২১ থেকে ২০২৪—মাত্র চার বছরের মধ্যে তিনি আর্জেন্টিনার হয়ে জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা, একটি ফিনালিসিমা ও একটি বিশ্বকাপ।

যে মেসিকে একসময় জাতীয় দলের হয়ে শিরোপা জিততে না পারার জন্য সমালোচিত হতে হয়েছিল, সেই মেসিই শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে সফল প্রজন্মের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

শেষ ম্যাচটিও ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল

জাতীয় দলের হয়ে মেসির শেষ ম্যাচটি আরও স্মরণীয় হয়ে থাকল—কারণ সেটি ছিল বিশ্বকাপের ফাইনাল।

সর্বশেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। সেখানে স্পেনের বিপক্ষে ১–০ গোলে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় আর্জেন্টিনার। আর সেই ম্যাচটিই হয়ে থাকে মেসির জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ উপস্থিতি।

পরাজয়ের মধ্য দিয়ে শেষ হলেও জাতীয় দলের হয়ে মেসির সামগ্রিক অর্জন তাঁকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা আন্তর্জাতিক ফুটবলারে পরিণত করেছে।

২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পরিসংখ্যানও তাঁর অসাধারণ ক্যারিয়ারের সাক্ষ্য বহন করে।

জাতীয় দলের হয়ে ২০৭ ম্যাচে ১২৫ গোল করেছেন তিনি। পাশাপাশি সতীর্থদের দিয়ে করিয়েছেন ৬৮টি গোল।

আর্জেন্টিনার ইতিহাসে তিনিই সর্বোচ্চ গোলদাতা। আন্তর্জাতিক ফুটবলে তাঁর চেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও বেশি গোল করার ক্ষেত্রে এগিয়ে আছেন শুধু পর্তুগালের কিংবদন্তি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো।

তবে পরিসংখ্যানের বাইরেও মেসির প্রভাব ছিল অনেক বড়। আর্জেন্টিনার একটি প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন শুধু অধিনায়ক নন, ছিলেন জাতীয় পরিচয়ের এক শক্তিশালী প্রতীক।

‘আমার দেওয়ার মতো আর কিছু বাকি নেই’

অবসরের সবচেয়ে আবেগঘন কারণটি জানিয়েছেন মেসি নিজেই। জাতীয় দলের হয়ে নিজের সবটুকু দিয়ে দেওয়ার পর এখন তিনি মনে করছেন, তাঁর দেওয়ার মতো আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

মেসি লিখেছেন, জাতীয় দলের অংশ হতে তিনি সব সময় ভালোবেসেছেন এবং ভবিষ্যতেও ভালোবাসবেন। তবে এখন সময় এসেছে একটি অধ্যায় শেষ করার।

তরুণদের জন্য জায়গা করে দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি। তাঁর পেছনে থাকা নতুন প্রজন্মের অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় দলে জায়গা পাওয়ার যোগ্য—এমন উপলব্ধিও রয়েছে মেসির সিদ্ধান্তে।

এটি শুধু ব্যক্তিগত অবসর নয়, আর্জেন্টিনা দলের নেতৃত্ব ও প্রজন্ম পরিবর্তনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা

মেসির বিদায়ী বার্তার সবচেয়ে আবেগঘন অংশগুলোর একটি ছিল আর্জেন্টাইন সমর্থকদের উদ্দেশে তাঁর কৃতজ্ঞতা।

দুই দশকের বেশি সময় ধরে মাঠে সমর্থকদের চিৎকার, উল্লাস ও ভালোবাসা পেয়েছেন তিনি। এখন থেকে মাঠের ভেতর নয়, মাঠের বাইরে থেকে জাতীয় দলকে সমর্থন করবেন—এমনটাই জানিয়েছেন মেসি।

তিনি মনে করেন, ভালো সময়ের পাশাপাশি খারাপ সময়েও সমর্থকদের পাশে থাকার অভিজ্ঞতা তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদগুলোর একটি।

পরিবার, সতীর্থ ও কোচদের ধন্যবাদ

নিজের বিদায়ী বার্তায় পরিবারকেও বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মেসি। দীর্ঘ ও কঠিন ক্যারিয়ারে তাঁর পরিবার যেভাবে পাশে থেকেছে, সেটিকে তিনি অসাধারণ যাত্রার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

একই সঙ্গে যেসব কোচ, সতীর্থ ও কর্মকর্তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে, তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।

তাঁর ভাষায়, জাতীয় দলের সঙ্গে কাটানো সময় থেকে তিনি অসংখ্য অবিস্মরণীয় স্মৃতি নিয়ে বিদায় নিচ্ছেন।

‘আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ’

বিদায়ী বার্তার শেষ অংশে মেসি এমন একটি বাক্য লিখেছেন, যা তাঁর সমর্থকদের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতো।

জাতীয় দলের জার্সিতে দীর্ঘ যাত্রার শেষপ্রান্তে এসে তিনি লিখেছেন—‘আমাকে আর্জেন্টাইন বানানোর জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ। ভামোস আর্জেন্টিনা!’

এই একটি বাক্যেই যেন ধরা পড়ে মেসির সঙ্গে আর্জেন্টিনার সম্পর্কের গভীরতা।

তিনি এসেছিলেন প্রতিভাবান এক তরুণ হিসেবে। শুরুতে পেয়েছেন সমালোচনা, হতাশা ও ব্যর্থতার তকমা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমার মতো ট্রফি জিতে আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে নিজের জায়গা স্থায়ী করেছেন।

মেসি-পরবর্তী আর্জেন্টিনা

মেসির অবসরের মধ্য দিয়ে আর্জেন্টিনা জাতীয় ফুটবল দল একটি নতুন যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে। তাঁর জায়গা পূরণ করা কোনো একক খেলোয়াড়ের পক্ষে সম্ভব নয়। তবে মেসি নিজেই যে তরুণদের উঠে আসার কথা বলেছেন, তাঁদের ঘিরেই এখন নতুন আর্জেন্টিনা গড়ে উঠবে।

দলের নেতৃত্ব, আক্রমণভাগের সৃজনশীলতা এবং বড় ম্যাচে মেসির ব্যক্তিগত প্রভাব—সবকিছুর জায়গায় নতুন সমাধান খুঁজতে হবে আর্জেন্টিনাকে।

তবে তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার এতটাই বিশাল যে পরবর্তী প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জন্য মেসি হয়ে থাকবেন অনুপ্রেরণার সবচেয়ে বড় নামগুলোর একটি।

লিওনেল মেসির জাতীয় দল অধ্যায় শেষ হলো। কিন্তু আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সিতে তাঁর রেখে যাওয়া গল্প শেষ হওয়ার নয়। ২০০৫ সালে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা শেষ হলো বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক হিসেবে—অসংখ্য রেকর্ড, চারটি বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা এবং কোটি কোটি সমর্থকের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়ে।

একজন ফুটবলারের বিদায় হতে পারে, কিন্তু একটি কিংবদন্তির গল্প থেকে যায়—প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ