📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

৯ দিন সুড়ঙ্গে আটকে থেকেও বেঁচে সঞ্জয়-কবির, অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা পড়েছিলেন সঞ্জয়

 

৯ দিন সুড়ঙ্গে আটকে থেকেও বেঁচে সঞ্জয়-কবির, অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা পড়েছিলেন সঞ্জয়

৯ দিন সুড়ঙ্গে আটকে থেকেও বেঁচে সঞ্জয়-কবির, অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে নিজেই আটকা পড়েছিলেন সঞ্জয়

নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ | ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চারদিকে ধ্বংসস্তূপ, কাদামাটি আর বন্যার পানির ভয়াবহতা। বাইরে তখন চলছে প্রাণ বাঁচানোর মরিয়া চেষ্টা। আর সেই সময় নেপালের একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের গভীর সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে ছিলেন দুই শ্রমিক। এক দিন, দুই দিন নয়—টানা নয় দিন পর শুক্রবার জীবিত অবস্থায় তাঁদের উদ্ধার করা হয়েছে।

নেপালের নুয়াকোট জেলার আপার ত্রিশূলী–৩এ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিক হলেন সঞ্জয় সাহ ও কবির মহারজন। তাঁদের উদ্ধারের ঘটনাকে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যে বিরল আশার আলো হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, ২৬ আগস্টের ভয়াবহ বরফ, পাথর ও কাদার স্রোতের পর তাঁরা সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছিলেন।

তবে সঞ্জয় সাহের বেঁচে ফেরার গল্প শুধু অলৌকিকভাবে দীর্ঘ সময় টিকে থাকার গল্প নয়। তাঁর নিজের ভাষ্য অনুযায়ী, বিপদের মুহূর্তে তিনি নিজের জীবন বাঁচানোর আগে অন্য শ্রমিকদের নিরাপদে বের করে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। আর সেই কারণেই শেষ পর্যন্ত নিজেই বের হওয়ার সুযোগ হারিয়ে ফেলেন।

নিজের আগে অন্যদের বাঁচানোর চেষ্টা

সপ্তরি জেলার বাসিন্দা সঞ্জয় সাহ পেশায় একজন মেকানিক্যাল ফোরম্যান। দুর্ঘটনার সময় তিনি ত্রিশূলী–৩এ প্রকল্পের নিয়ন্ত্রণকক্ষে কাজ করছিলেন।

হঠাৎ বিপদ শুরু হলে তাঁর সামনে ছিল দুটি পথ—নিজে দ্রুত নিরাপদ স্থানে চলে যাওয়া অথবা অন্যদের বের করে দেওয়ার চেষ্টা করা। সঞ্জয় দ্বিতীয় পথটিই বেছে নেন।

উদ্ধারের পর তিনি উদ্ধারকারীদের জানান, প্রকল্পের অন্য কর্মীদের দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার জন্য তিনি বারবার সতর্ক করছিলেন। তাঁর দায়িত্বের মধ্যে ছিল সবাইকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা। অন্যদের বের করে দিতে গিয়ে তাঁর নিজের পালানোর সময় শেষ হয়ে যায়।

সঞ্জয়ের ভাষায়, তিনি সবাইকে দৌড়ে বের হয়ে যেতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই কাজে সময় চলে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে আর নিজে সুড়ঙ্গ থেকে বের হতে পারেননি।

এই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত তাঁকে নয় দিনের জন্য ভূগর্ভে আটকে দেয়।

নয় দিন কীভাবে বেঁচে ছিলেন?

সঞ্জয়ের নয় দিন ধরে সুড়ঙ্গে টিকে থাকার ঘটনাটি এখন উদ্ধার অভিযানের সবচেয়ে আলোচিত দিকগুলোর একটি। সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা অবস্থায় তিনি উদ্ধারের আশায় অপেক্ষা করছিলেন।

উদ্ধারের পর তিনি জানান, ওই সময় তিনি ঈশ্বরকে স্মরণ করছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আশপাশে থাকা কয়েকজন মানুষের সঙ্গে শব্দ বা কথা বলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়েছিল।

তবে সুড়ঙ্গের ভেতরের পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাঁর ধারণা, আরও কয়েকজন শ্রমিক সুড়ঙ্গের গভীরে আটকে থাকতে পারেন।

সঞ্জয়ের মতে, সুড়ঙ্গটি অনেক দীর্ঘ হওয়ায় সবাই হয়তো সময়মতো বের হতে পারেননি। আকস্মিক পানির তীব্র স্রোত অনেককে সুড়ঙ্গের আরও গভীরে নিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

শুধু সঞ্জয় নন, জীবিত উদ্ধার কবিরও

সঞ্জয়ের সঙ্গে শুক্রবার একই সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে কাঠমান্ডুর বাসিন্দা কবির মহারজনকেও। তিনি প্রকল্পে মেকানিক্যাল সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সঞ্জয়ের আঘাত গুরুতর নয়। তবে কবিরের হাত ও পা নড়াচড়া করতে সমস্যা হচ্ছিল। উদ্ধার করার পর দুজনকেই চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুতে নেওয়া হয়েছে।

দুই শ্রমিককে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা উদ্ধারকারী দল ও তাঁদের পরিবারের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে।

কারণ, তাঁদের উদ্ধার প্রমাণ করেছে—ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞের পরও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকে থাকা মানুষদের কেউ কেউ জীবিত থাকতে পারেন।

২৬ আগস্টের ভয়াবহ দুর্যোগ

ঘটনার সূত্রপাত ২৬ আগস্ট। নেপালের ত্রিশূলী নদী উপত্যকায় আকস্মিক ভয়াবহ বন্যা, বরফ, পাথর ও কাদার স্রোত নেমে আসে। এতে নদীসংলগ্ন এলাকা ও বিভিন্ন জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্যোগের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সঙ্গে যুক্ত একাধিক সুড়ঙ্গে বহু শ্রমিক আটকা পড়ে যান। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ত্রিশূলী নদীর আশপাশের ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে বিপুলসংখ্যক মানুষ আটকা পড়েছেন বলে কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন। রয়টার্সের হিসাবে, সংখ্যাটি প্রায় ৯০০ পর্যন্ত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে উদ্ধারকারীদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে ধ্বংসস্তূপ, কাদা, পানি ও দুর্গম ভূপ্রকৃতি।

দুইজনকে উদ্ধার, কিন্তু অভিযান শেষ নয়

সঞ্জয় ও কবিরকে জীবিত উদ্ধারের মধ্য দিয়ে উদ্ধার অভিযানে নতুন আশার সৃষ্টি হলেও অভিযান শেষ হয়নি।

সঞ্জয় নিজেই উদ্ধারকারীদের জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গের আরও গভীরে অন্য মানুষ আটকে থাকতে পারেন। তাঁর সঙ্গে কাছাকাছি অবস্থানে থাকা তিন থেকে চারজনের উপস্থিতি বা শব্দ তিনি টের পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।

এই তথ্য উদ্ধারকারী দলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ জীবিতদের অবস্থান শনাক্ত করতে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সম্ভাব্য অবস্থান সম্পর্কে প্রত্যক্ষ তথ্য পাওয়া এখন সবচেয়ে বড় সহায়তা।

উদ্ধারকারীরা তাই আরও গভীরে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই শ্রমিককে উদ্ধারের পরও অন্য নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি দায়িত্ববোধের গল্প

সঞ্জয় সাহের ঘটনাটি এই দুর্যোগের মধ্যে একটি ভিন্ন মানবিক গল্পও সামনে এনেছে।

বিপদের মুহূর্তে মানুষ সাধারণত নিজের জীবন বাঁচাতে ছুটে যায়। সেটিই স্বাভাবিক মানবিক প্রবৃত্তি। কিন্তু সঞ্জয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি প্রথমে সহকর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

এই কয়েক মিনিটের সিদ্ধান্তই তাঁর জীবনের পরবর্তী নয়টি দিন নির্ধারণ করে দেয়।

তিনি যদি অন্যদের সঙ্গে সঙ্গে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতেন, হয়তো সুড়ঙ্গে আটকা পড়তেন না। কিন্তু সহকর্মীদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কারণে তিনি নিজেই আটকে যান।

নয় দিন পর যখন উদ্ধারকারীরা তাঁকে জীবিত অবস্থায় বাইরে নিয়ে আসেন, তখন তাঁর গল্প তাই শুধু একটি সফল উদ্ধার অভিযানের গল্প হয়ে থাকেনি—এটি দায়িত্ববোধ ও আত্মত্যাগেরও প্রতীক হয়ে উঠেছে।

‘বেঁচে থাকার আশা’ আরও শক্ত হলো

নেপালের এই ভয়াবহ দুর্যোগে বহু মানুষ নিখোঁজ। বিশেষ করে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গগুলোতে আটকে থাকা শ্রমিকদের পরিবারের কাছে প্রতিটি দিন ছিল উৎকণ্ঠার।

সঞ্জয় ও কবিরকে জীবিত উদ্ধারের ঘটনা সেই অপেক্ষার মধ্যে নতুন আশার জন্ম দিয়েছে।

এর আগে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধার করা সম্ভব না হওয়ায় আশঙ্কা বাড়ছিল। কিন্তু নয় দিন পর দুজনের জীবিত ফিরে আসা দেখিয়ে দিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে বা সুড়ঙ্গের গভীরে আটকে থাকা মানুষের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা একেবারে শেষ হয়ে যায়নি।

উদ্ধারকারীদের জন্য এটি যেমন মনোবল বাড়ানোর ঘটনা, তেমনি নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারগুলোর জন্যও নতুন করে অপেক্ষা করার শক্তি জোগাচ্ছে।

এখন মূল লক্ষ্য—আরও জীবিত মানুষ খুঁজে বের করা

সঞ্জয় ও কবিরের উদ্ধারের পর এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে সুড়ঙ্গের ভেতরে থাকা অন্যদের সন্ধান।

সঞ্জয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সুড়ঙ্গের আরও গভীরে মানুষের উপস্থিতি থাকতে পারে। ফলে উদ্ধারকারীদের প্রতিটি মিনিট এখন গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় ভরা সুড়ঙ্গে প্রবেশ করাও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। উদ্ধারকারীদের নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই ধাপে ধাপে এগোতে হচ্ছে।

প্রকল্পের বিভিন্ন অংশে যোগাযোগ ও প্রবেশের পথ পুনরুদ্ধার করা, ধ্বংসস্তূপ সরানো এবং আটকে থাকা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করা—সবকিছু মিলিয়ে উদ্ধার অভিযান একটি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।

ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও আশার আলো

নেপালের ত্রিশূলী উপত্যকার ভয়াবহ দুর্যোগ বহু মানুষের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্ত করেছে। কিন্তু সেই ধ্বংসযজ্ঞের মধ্যেই নয় দিন পর দুই শ্রমিকের জীবিত উদ্ধার যেন পুরো উদ্ধার অভিযানে নতুন বার্তা দিয়েছে—আশা এখনও শেষ হয়নি।

সঞ্জয় সাহের গল্প সেই আশাকে আরও গভীর করেছে। অন্যদের বাঁচাতে গিয়ে নিজের বের হওয়ার সুযোগ হারানো এই শ্রমিক নয় দিন ধরে অন্ধকার সুড়ঙ্গে অপেক্ষা করেছেন। শেষ পর্যন্ত উদ্ধারকারীদের হাতে জীবিত ফিরে এসেছেন তিনি।

এখন তাঁর সঙ্গে থাকা সহকর্মীদেরও জীবিত উদ্ধারের অপেক্ষায় স্বজনেরা। উদ্ধার অভিযান যত এগোবে, ততই স্পষ্ট হবে সুড়ঙ্গের গভীরে আর কতজন বেঁচে আছেন।

তবে আপাতত সঞ্জয় ও কবিরের ফিরে আসা একটি কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে—সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতিতেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আশাকে ধরে রাখতে হয়।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ