📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আড়ালে বাড়ছে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার

 

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আড়ালে বাড়ছে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আড়ালে বাড়ছে পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে। মুঠোফোনে কয়েকটি শব্দ লিখলেই তৈরি হচ্ছে ছবি, লেখা, ভিডিও কিংবা জটিল তথ্যের বিশ্লেষণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আশির দশকের পুরোনো ছবির আদলে নতুন ছবি তৈরির প্রবণতা থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী, গবেষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের নানা কাজে এআই এখন গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্রযুক্তি।

তবে এই প্রযুক্তির সহজ ব্যবহারকারীর চোখের আড়ালে রয়েছে একটি বড় পরিবেশগত বাস্তবতা। এআই দিয়ে একটি ছবি তৈরি করা, একটি প্রশ্নের উত্তর পাওয়া কিংবা কয়েকটি বাক্য লিখে নেওয়ার পেছনে বিপুল পরিমাণ কম্পিউটার শক্তি, বিদ্যুৎ এবং পানি ব্যবহৃত হচ্ছে। ব্যবহারকারীর মুঠোফোনে কোনো পানি খরচ না হলেও দূরের ডেটা সেন্টারগুলোতে সেই অনুরোধ প্রক্রিয়াজাত করতে প্রয়োজন হচ্ছে বিপুল সম্পদের।

এ কারণে বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পানি ও বিদ্যুতের চাহিদা কতটা বাড়ছে এবং এই ব্যবহারের পরিবেশগত প্রভাব কীভাবে কমানো সম্ভব?

এআইয়ের কাজ হয় কোথায়

অনেকেই মনে করেন, মুঠোফোন বা কম্পিউটারে এআই ব্যবহার করার সময় মূল কাজটি ওই যন্ত্রেই সম্পন্ন হয়। বাস্তবে অধিকাংশ জনপ্রিয় এআই সেবা পরিচালিত হয় দূরবর্তী বিশাল ডেটা সেন্টারের মাধ্যমে।

ধরা যাক, কোনো ব্যবহারকারী একটি এআইভিত্তিক ছবির তৈরির সেবায় লিখলেন, ‘পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যাস্তের একটি ছবি তৈরি করো।’ এই নির্দেশ ইন্টারনেটের মাধ্যমে চলে যায় বিশ্বের কোনো একটি ডেটা সেন্টারে। সেখানে থাকা শক্তিশালী কম্পিউটার সার্ভার বিপুল তথ্য বিশ্লেষণ করে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ছবি তৈরি করে।

ডেটা সেন্টারগুলোকে অনেকটা বিশাল কম্পিউটার কারখানার সঙ্গে তুলনা করা যায়। হাজার হাজার উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সার্ভার সেখানে দিনরাত কাজ করে। এআই মডেল প্রশিক্ষণ, তথ্য সংরক্ষণ এবং ব্যবহারকারীর অনুরোধের উত্তর দিতে এসব সার্ভারের ওপর নির্ভর করতে হয়।

সমস্যা হলো, এই শক্তিশালী যন্ত্রগুলো একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ হিসাব-নিকাশ করার সময় প্রচণ্ড তাপ উৎপন্ন করে। যথাযথভাবে সেই তাপ নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে সার্ভার ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এমনকি পুরো ডেটা সেন্টারের কার্যক্রমও ব্যাহত হতে পারে।

সার্ভার ঠান্ডা রাখতে কেন পানি লাগে

বড় ডেটা সেন্টারগুলোর অন্যতম প্রচলিত শীতলীকরণ ব্যবস্থা হলো বাষ্পীভবনভিত্তিক শীতলীকরণ। এই পদ্ধতিতে পানি ব্যবহার করে সার্ভারের উৎপন্ন তাপ কমানো হয়।

প্রক্রিয়াটি অনেকটা মানুষের শরীরের ঘাম শুকিয়ে ঠান্ডা হওয়ার মতো। গরম সার্ভারের কাছ দিয়ে ঠান্ডা পানি প্রবাহিত করা হয়। পানি সার্ভারের তাপ শোষণ করে গরম হয়ে যায়। পরে সেই গরম পানি বিশেষ কুলিং টাওয়ারের মধ্য দিয়ে পাঠানো হয়। সেখানে বাতাসের সংস্পর্শে পানির একটি অংশ বাষ্প হয়ে উড়ে যায়। বাষ্পীভবনের ফলে অবশিষ্ট পানি ঠান্ডা হয়ে পুনরায় সার্ভার শীতলীকরণে ব্যবহার করা হয়।

এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, পানির একটি অংশ প্রতিনিয়ত হারিয়ে যায়। বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়া পানি আর পুনরায় ব্যবহারের জন্য ফিরে আসে না। ফলে ডেটা সেন্টারগুলোকে নিয়মিত নতুন পানি সংগ্রহ করতে হয়।

আরেকটি সমস্যা তৈরি হয় পানিতে থাকা খনিজ উপাদান নিয়ে। পানি বাষ্প হয়ে উড়ে গেলে অবশিষ্ট পানিতে লবণ, ক্যালসিয়াম ও অন্যান্য খনিজের ঘনত্ব বেড়ে যায়। এই পানি দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে পাইপ ও যন্ত্রপাতির ভেতরে খনিজের আস্তরণ জমতে পারে। এতে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি দামি সার্ভারের ক্ষতির আশঙ্কাও থাকে। তাই নির্দিষ্ট সময় পর সেই পানি ফেলে দিয়ে নতুন পানি সরবরাহ করতে হয়।

একেকটি এআই অনুরোধে কত পানি খরচ হয়

এআই ব্যবহারের পানির পরিমাণ নির্ধারণ করা সহজ নয়। কারণ হিসাবের পদ্ধতি ভেদে ফলাফল পরিবর্তিত হয়। কেউ শুধু সার্ভার ঠান্ডা করার পানির হিসাব করেন, আবার কেউ বিদ্যুৎ উৎপাদনের সময় ব্যবহৃত পানিও এর সঙ্গে যুক্ত করেন।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত একটি প্রকৌশলভিত্তিক বিশ্লেষণে ২০২৩ সালের একটি গবেষণার তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়, জিপিটি-৩ ধরনের মডেল দিয়ে ১৫০ থেকে ৩০০ শব্দের একটি সাধারণ লেখা তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গড় ডেটা সেন্টারে আনুমানিক ১৭ মিলিলিটার পানি ব্যবহৃত হতে পারে।

এই হিসাবের মধ্যে সরাসরি সার্ভার শীতলীকরণে ব্যবহৃত পানির পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের পানিও এতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ছবি তৈরির ক্ষেত্রে বিভিন্ন গবেষণা ও বিশ্লেষণে ভিন্ন ভিন্ন হিসাব পাওয়া যায়। কিছু হিসাব অনুযায়ী একটি এআই ছবি তৈরিতে গড়ে প্রায় ২৩ মিলিলিটার পানি ব্যবহার হতে পারে। আবার অন্য কিছু বিশ্লেষণে এই পরিমাণ ৫ থেকে ৬০ মিলিলিটার বা তারও বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংখ্যাগুলো একক ব্যবহারের ক্ষেত্রে খুব বেশি মনে নাও হতে পারে। কিন্তু বিশ্বজুড়ে প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এআই ব্যবহার করছেন। কেউ ছবি তৈরি করছেন, কেউ দীর্ঘ লেখা লিখছেন, কেউ ভিডিও সম্পাদনা করছেন, আবার কেউ তথ্য বিশ্লেষণ করছেন। ফলে প্রতিটি ছোট অনুরোধের পেছনে ব্যবহৃত সামান্য পানি মিলিয়ে মোট চাহিদা দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে।

ডেটা সেন্টারের পানি আসে কোথা থেকে

ডেটা সেন্টারগুলো সাধারণত স্থানীয় পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, নদী, জলাধার অথবা ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে পানি সংগ্রহ করে। অনেক ক্ষেত্রেই এই পানি সুপেয় বা মানুষের ব্যবহারের উপযোগী মিঠাপানি।

এখানেই তৈরি হচ্ছে পরিবেশগত উদ্বেগ। যেসব অঞ্চলে আগে থেকেই পানির সংকট রয়েছে, সেখানে বড় ডেটা সেন্টার স্থাপিত হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের দৈনন্দিন ব্যবহার এবং কৃষিকাজের জন্য পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

গ্রীষ্মকালে এই সমস্যা আরও প্রকট হয়। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সার্ভার ঠান্ডা রাখতে পানির চাহিদা বেড়ে যায়। একই সময়ে মানুষের পানীয় পানি ও কৃষিকাজের প্রয়োজনও বৃদ্ধি পায়। ফলে সীমিত পানিসম্পদের ওপর একাধিক খাতের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পরিবেশ ও জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, একটি মাঝারি আকারের ডেটা সেন্টার বছরে প্রায় ১১ কোটি গ্যালন পানি ব্যবহার করতে পারে। বড় ডেটা সেন্টারগুলোতে দৈনিক পানির ব্যবহার ৫০ লাখ গ্যালন পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে বিভিন্ন বিশ্লেষণে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ উৎপাদনেও রয়েছে পানির ব্যবহার

এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব শুধু সরাসরি পানি ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ডেটা সেন্টার পরিচালনার জন্য বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। সার্ভারগুলো সার্বক্ষণিক চালু রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অপরিহার্য।

বর্তমানে বিশ্বের অনেক অঞ্চলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ও জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা রয়েছে। এসব বিদ্যুৎকেন্দ্রের যন্ত্রপাতি ঠান্ডা রাখতেও প্রচুর পানি প্রয়োজন হয়।

অর্থাৎ এআই ব্যবহারের সঙ্গে সরাসরি ডেটা সেন্টারের পানি খরচ যেমন বাড়ছে, তেমনি বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে পরোক্ষ পানির ব্যবহারও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানির ওপর সামগ্রিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

বিকল্প পানির উৎস ব্যবহারের উদ্যোগ

পরিবেশগত সমালোচনার মুখে বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো সুপেয় পানির ওপর নির্ভরতা কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। মাইক্রোসফট, গুগল ও অ্যামাজনের মতো প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন স্থানে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছে।

পরিশোধিত বর্জ্যপানি বলতে বোঝায় এমন পানি, যা বাসাবাড়ি বা শিল্পকারখানা থেকে ব্যবহারের পর শোধনাগারে বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় পরিশোধিত করা হয়। এই পানি সাধারণত পান করার উপযোগী না হলেও সার্ভার শীতলীকরণে ব্যবহার করা যায়।

মাইক্রোসফট জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস, ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের কুইন্সি, ক্যালিফোর্নিয়া এবং সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় তারা পরিশোধিত বর্জ্যপানির ব্যবহার বাড়িয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, সিঙ্গাপুরে তাদের ডেটা সেন্টারগুলোর প্রায় ৯৯ শতাংশ পানি অ-সুপেয় উৎস থেকে সংগ্রহ করা হয়।

অন্যদিকে অ্যামাজনের প্রযুক্তি শাখা অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেস জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১২০টির বেশি ডেটা সেন্টারে পরিশোধিত বর্জ্যপানি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির হিসাব অনুযায়ী, এতে বছরে প্রায় ৫৩ কোটি গ্যালন সুপেয় পানি সাশ্রয় হতে পারে।

গুগল, মাইক্রোসফট ও অ্যামাজন পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ভারসাম্য তৈরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। তাদের লক্ষ্য হলো ভবিষ্যতে ব্যবহৃত পানির চেয়ে বেশি পানি সংরক্ষণ বা পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখা।

সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার বসানোর চিন্তা

পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার কমানোর নতুন একটি ধারণা হলো সমুদ্রের নিচে ডেটা সেন্টার স্থাপন। সমুদ্রের পানি প্রাকৃতিকভাবে ঠান্ডা হওয়ায় সার্ভার শীতলীকরণে এটি কার্যকর হতে পারে।

মাইক্রোসফট ২০১৮ সালে স্কটল্যান্ডের অর্কনি দ্বীপপুঞ্জের উপকূলে পরীক্ষামূলকভাবে সমুদ্রের নিচে একটি ডেটা সেন্টার স্থাপন করেছিল। প্রায় দুই বছর পর সেটি তুলে পরীক্ষা করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, স্থলভাগে থাকা একই ধরনের সার্ভারের তুলনায় পানির নিচে থাকা সার্ভারগুলোর বিকল হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম ছিল।

তবে রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জটিলতার কারণে প্রকল্পটি বাণিজ্যিকভাবে আর এগোয়নি। ২০২৪ সালে মাইক্রোসফটের সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানান, প্রতিষ্ঠানটি ভবিষ্যতে বিশ্বের কোথাও নতুন করে পানির নিচে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে না।

তবে চীনের একটি প্রতিষ্ঠান হাইনান দ্বীপের উপকূলে বাণিজ্যিকভাবে পানির নিচে ডেটা সেন্টার চালু করেছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। সমুদ্রের প্রায় ৩৫ মিটার গভীরে স্থাপিত এই প্রযুক্তি অবকাঠামো ভবিষ্যতে বৃহৎ পরিসরে ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।

পানি সাশ্রয়ের নতুন প্রযুক্তি ও সীমাবদ্ধতা

স্থলভাগের ডেটা সেন্টারে পানি ব্যবহারের পরিমাণ কমাতে বদ্ধ চক্রভিত্তিক শীতলীকরণ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ চলছে। এই পদ্ধতিতে পানি বা বিশেষ তরল একটি বন্ধ পাইপের মধ্যে ঘুরতে থাকে। ফলে তা বাইরের বাতাসে বাষ্প হয়ে উড়ে যাওয়ার সুযোগ পায় না।

আরেকটি পদ্ধতি হলো বিশেষ বৈদ্যুতিক-অপরিবাহী তরলের মধ্যে সার্ভার ডুবিয়ে রাখা। এতে সার্ভারের তাপ সরাসরি তরল শোষণ করে নেয় এবং পানির প্রয়োজন অনেকাংশে কমে যেতে পারে।

তবে এসব প্রযুক্তিরও সীমাবদ্ধতা রয়েছে। পানি বাষ্পীভবনের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ না থাকায় অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক পাখা বা শক্তিশালী শীতলীকরণ যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়। ফলে পানি সাশ্রয় হলেও বিদ্যুতের ব্যবহার বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি স্থাপন ও রক্ষণাবেক্ষণের খরচও বেশি।

ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ

এআই প্রযুক্তির বিস্তার থামার কোনো লক্ষণ নেই। বরং আগামী দিনে আরও বেশি মানুষ ও প্রতিষ্ঠান এআই ব্যবহার করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে ডেটা সেন্টারের সংখ্যা, কম্পিউটিং ক্ষমতা এবং বিদ্যুতের চাহিদাও বাড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি খাতের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো পানি ও বিদ্যুতের ব্যবহারের মধ্যে একটি টেকসই ভারসাম্য তৈরি করা। পানি বাঁচাতে গিয়ে যদি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ হয়, আবার বিদ্যুৎ সাশ্রয় করতে গিয়ে যদি পানির অপচয় বাড়ে, তাহলে পরিবেশগত সমস্যার একটি অংশ অন্য সমস্যায় রূপ নিতে পারে।

তাই ভবিষ্যতের এআই প্রযুক্তি শুধু দ্রুত ও শক্তিশালী হলেই হবে না; সেটিকে পানি, বিদ্যুৎ ও পরিবেশের ওপর কম চাপ সৃষ্টি করে পরিচালনার উপযোগীও হতে হবে। প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি দায়িত্বশীল অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশবান্ধব শীতলীকরণ ব্যবস্থার বিকাশই হতে পারে এআই যুগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজন।

তথ্যসূত্র: আইইইই স্পেকট্রাম, এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড এনার্জি স্টাডি ইনস্টিটিউট, মাইক্রোসফটের টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন, অ্যামাজন টেকসই উন্নয়ন প্রতিবেদন, ডেটা সেন্টার ডায়নামিকস এবং অন্যান্য প্রযুক্তিভিত্তিক গবেষণা।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ