📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

মাদারবোর্ডের কোন অংশের কী কাজ, ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এক নজরে

 

মাদারবোর্ডের কোন অংশের কী কাজ, ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এক নজরে

মাদারবোর্ডের কোন অংশের কী কাজ, ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এক নজরে

পকেট নিউজ ,প্রযুক্তি ডেস্ক | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কম্পিউটারের ভেতরে থাকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হার্ডওয়্যারগুলোর একটি হলো মাদারবোর্ড। এটি মূলত এমন একটি প্রধান সার্কিট বোর্ড, যার সঙ্গে কম্পিউটারের প্রসেসর, র‍্যাম, সংরক্ষণযন্ত্র, গ্রাফিকস কার্ড, বিদ্যুৎ সরবরাহ, কুলিং ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন বাহ্যিক সংযোগ যুক্ত থাকে। কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশের মধ্যে তথ্য ও বিদ্যুৎ আদান-প্রদানের জন্য মাদারবোর্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

অনেকের কাছে মাদারবোর্ড দেখতে জটিল মনে হলেও এর প্রতিটি অংশের নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে। একটি মাদারবোর্ডের কোথায় প্রসেসর বসে, কোথায় র‍্যাম লাগাতে হয়, কোন সংযোগে বিদ্যুৎ আসে, কোথায় হার্ডডিস্ক বা এসএসডি যুক্ত হয় কিংবা গ্রাফিকস কার্ডের জন্য কোন স্লট ব্যবহার করতে হয়—এসব জানা থাকলে কম্পিউটারের হার্ডওয়্যার সম্পর্কে ধারণা অনেক পরিষ্কার হয়।

ছবিতে একটি মাদারবোর্ডের ১৪টি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নম্বর দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। নিচে প্রতিটি অংশের কাজ সহজভাবে তুলে ধরা হলো।

১. সিপিইউ সকেট

মাদারবোর্ডের মাঝামাঝি অংশে থাকা বড় সকেটটিই সিপিইউ সকেট। এখানে কম্পিউটারের প্রধান প্রসেসর বা সিপিইউ বসানো হয়। প্রসেসর কম্পিউটারের নির্দেশনা প্রক্রিয়াকরণ এবং বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ সম্পন্ন করে।

তবে যেকোনো প্রসেসর যেকোনো মাদারবোর্ডে বসানো যায় না। নির্দিষ্ট মাদারবোর্ডের সকেট ও চিপসেটের সঙ্গে প্রসেসরের সামঞ্জস্য থাকতে হয়। তাই নতুন কম্পিউটার তৈরির সময় প্রসেসর ও মাদারবোর্ডের সামঞ্জস্য পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

২. ভিআরএম বা ভোল্টেজ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা

সিপিইউ সকেটের পাশে থাকা ভিআরএম কম্পিউটারের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিদ্যুৎ সরবরাহ থেকে আসা শক্তিকে প্রসেসরের প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত ও স্থিতিশীল ভোল্টেজে রূপান্তর করতে এটি কাজ করে।

প্রসেসরকে স্থিতিশীলভাবে চালানোর জন্য নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণেই অনেক মাদারবোর্ডে ভিআরএম অংশের ওপর বড় ধাতব তাপ অপসারণকারী আবরণ দেখা যায়। এর উদ্দেশ্য হলো কাজের সময় উৎপন্ন তাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা।

৩. র‍্যাম স্লট

সিপিইউ সকেটের ডান পাশে লম্বা কয়েকটি স্লট দেখা যাচ্ছে। এগুলো র‍্যাম বা ডিডিআর মেমোরি বসানোর জায়গা।

র‍্যাম কম্পিউটারের অস্থায়ী মেমোরি হিসেবে কাজ করে। কোনো প্রোগ্রাম চালানোর সময় প্রয়োজনীয় তথ্য দ্রুত ব্যবহারের জন্য র‍্যামে রাখা হয়। সাধারণত মাদারবোর্ডের মডেল অনুযায়ী র‍্যাম স্লটের সংখ্যা এবং সমর্থিত র‍্যামের ধরন ভিন্ন হতে পারে।

র‍্যাম বসানোর সময় মাদারবোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট স্লট ব্যবহার করাও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে একাধিক র‍্যাম মডিউল ব্যবহার করলে সঠিক স্লট নির্বাচন করলে দ্বৈত চ্যানেল মেমোরি সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।

৪. ২৪-পিন এটিএক্স বিদ্যুৎ সংযোগ

মাদারবোর্ডের ডান পাশে থাকা বড় সংযোগটিকে ২৪-পিন এটিএক্স বিদ্যুৎ সংযোগ বলা হয়। এটি বিদ্যুৎ সরবরাহকারী ইউনিট থেকে মাদারবোর্ডে প্রধান বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়।

মাদারবোর্ডের বিভিন্ন সার্কিট, চিপসেট, র‍্যাম এবং অন্যান্য অংশের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরবরাহে এই সংযোগ গুরুত্বপূর্ণ। কম্পিউটার সংযোজনের সময় এটি সঠিকভাবে সংযুক্ত না হলে পুরো সিস্টেম চালু নাও হতে পারে।

৫. সাটা পোর্ট

মাদারবোর্ডের ডান নিচের দিকে পাশাপাশি থাকা কয়েকটি ছোট সংযোগ হলো সাটা পোর্ট। সাধারণত সাটা প্রযুক্তি ব্যবহার করে হার্ডডিস্ক, সাটা ধরনের এসএসডি এবং কিছু অপটিক্যাল ড্রাইভ মাদারবোর্ডের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের জন্য ব্যবহৃত ড্রাইভের সঙ্গে মাদারবোর্ডের তথ্য আদান-প্রদানে এসব পোর্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

৬. চিপসেট

ছবিতে নিচের ডানদিকে বড় তাপ অপসারণকারী আবরণের নিচে থাকা অংশটি চিপসেট বা পিসিএইচ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আধুনিক মাদারবোর্ডে চিপসেট বিভিন্ন ধরনের সংযোগ ও তথ্য আদান-প্রদানের কাজ পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

ইউএসবি, সাটা, পিসিআই এক্সপ্রেসসহ বিভিন্ন সংযোগের ব্যবস্থাপনায় চিপসেটের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে কোন মাদারবোর্ডে চিপসেট ঠিক কী কী সুবিধা দেবে, তা নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট মডেল ও প্ল্যাটফর্মের ওপর।

৭. ফ্রন্ট প্যানেল হেডার

মাদারবোর্ডের নিচের দিকে থাকা ছোট পিনের সমষ্টিকে ফ্রন্ট প্যানেল হেডার বলা হয়। কম্পিউটারের কেসের সামনের পাওয়ার বাটন, রিসেট বাটন এবং বিভিন্ন নির্দেশক বাতির সংযোগ সাধারণত এখানেই দেওয়া হয়।

কেসের পাওয়ার বাটন চাপলে মাদারবোর্ডকে কম্পিউটার চালুর সংকেত দেওয়ার কাজেও এই সংযোগ ব্যবহৃত হয়। তাই কম্পিউটার সংযোজনের সময় এর পিনগুলো সঠিকভাবে সংযুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৮. ইউএসবি হেডার

মাদারবোর্ডের নিচের অংশে থাকা ইউএসবি হেডার কেসের সামনের ইউএসবি পোর্টের সঙ্গে মাদারবোর্ডের সংযোগ তৈরি করে।

অর্থাৎ কম্পিউটারের কেসের সামনে থাকা ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করতে হলে ভেতরের ইউএসবি তারকে মাদারবোর্ডের উপযুক্ত হেডারের সঙ্গে যুক্ত করতে হয়। মাদারবোর্ডভেদে ইউএসবি হেডারের ধরন ও গতি আলাদা হতে পারে।

৯. ফ্যান হেডার

কম্পিউটারের প্রসেসর ও কেসের ফ্যান চালানোর জন্য মাদারবোর্ডে ফ্যান হেডার থাকে। ছবিতে নিচের অংশে চিহ্নিত এই সংযোগের মাধ্যমে সিপিইউ ফ্যান এবং কেস ফ্যানের সঙ্গে মাদারবোর্ডের সংযোগ দেওয়া যায়।

ফ্যানের বিদ্যুৎ সরবরাহের পাশাপাশি অনেক মাদারবোর্ড ফ্যানের গতি নিয়ন্ত্রণের সুবিধাও দেয়। ফলে কম্পিউটারের তাপমাত্রা অনুযায়ী কুলিং ব্যবস্থা পরিচালনা করা সম্ভব হয়।

১০. সিএমওএস ব্যাটারি

মাদারবোর্ডে থাকা ছোট গোলাকার ব্যাটারিটিই সিএমওএস ব্যাটারি। ছবিতে এটি নিচের দিকে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

এই ব্যাটারি কম্পিউটারের সময় ও তারিখসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফার্মওয়্যার সেটিংস সংরক্ষণে সহায়তা করে। কম্পিউটার বন্ধ থাকলেও নির্দিষ্ট তথ্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে এর ভূমিকা রয়েছে। ব্যাটারি দুর্বল বা নষ্ট হলে সময়-তারিখের মতো কিছু সেটিংস বারবার পরিবর্তিত হওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে।

১১. পিসিআই এক্সপ্রেস এক্স১৬ স্লট

মাদারবোর্ডের নিচের মাঝামাঝি অংশে থাকা সবচেয়ে বড় সম্প্রসারণ স্লটটি পিসিআই এক্সপ্রেস এক্স১৬ স্লট। সাধারণত এতে গ্রাফিকস কার্ড বা জিপিইউ বসানো হয়।

উচ্চক্ষমতার গ্রাফিকস, গেমিং, ভিডিও সম্পাদনা, ত্রিমাত্রিক নকশা এবং অন্যান্য গ্রাফিকস-নির্ভর কাজের জন্য আলাদা গ্রাফিকস কার্ড ব্যবহার করা হলে এই স্লট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।

১২. পিসিআই এক্সপ্রেস এক্স১ স্লট

এক্স১৬ স্লটের তুলনায় ছোট স্লটগুলোকে পিসিআই এক্সপ্রেস এক্স১ স্লট হিসেবে দেখানো হয়েছে। বিভিন্ন সম্প্রসারণ কার্ড সংযুক্ত করার জন্য এসব স্লট ব্যবহার করা যায়।

উদাহরণ হিসেবে অতিরিক্ত শব্দ কার্ড, নেটওয়ার্ক কার্ড, ওয়াই-ফাই কার্ড, ধারণ কার্ডসহ বিভিন্ন ধরনের সম্প্রসারণ যন্ত্রাংশ এসব স্লটে যুক্ত করা সম্ভব। তবে কোন কার্ড কোন স্লটে কাজ করবে, তা সংশ্লিষ্ট হার্ডওয়্যার ও মাদারবোর্ডের সমর্থনের ওপর নির্ভর করে।

১৩. পেছনের ইনপুট-আউটপুট পোর্ট

মাদারবোর্ডের বাঁ পাশে থাকা অংশটি মূলত পেছনের ইনপুট-আউটপুট পোর্টের সমষ্টি। কম্পিউটারের বাইরে থেকে বিভিন্ন যন্ত্র সংযোগ দেওয়ার জন্য এসব পোর্ট ব্যবহার করা হয়।

ছবিতে ইউএসবি, নেটওয়ার্ক, অডিও এবং প্রদর্শন-সংক্রান্ত সংযোগের কথা উল্লেখ রয়েছে। কিবোর্ড, মাউস, ইউএসবি যন্ত্র, নেটওয়ার্ক সংযোগ, অডিও যন্ত্র এবং সমর্থিত প্রদর্শন যন্ত্র সংযোগের জন্য এসব পোর্ট ব্যবহৃত হতে পারে।

তবে সব মাদারবোর্ডে একই ধরনের পোর্ট থাকে না। মাদারবোর্ডের মডেল ও নকশা অনুযায়ী পেছনের পোর্টের সংখ্যা এবং ধরন পরিবর্তিত হয়।

১৪. ৮-পিন বা ৪-পিন সিপিইউ বিদ্যুৎ সংযোগ

মাদারবোর্ডের ওপরের দিকে থাকা ৮-পিন বা ৪-পিন সংযোগটি প্রসেসরের জন্য অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এটি মূল ২৪-পিন মাদারবোর্ড বিদ্যুৎ সংযোগ থেকে আলাদা।

প্রসেসরের প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সরাসরি সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় পৌঁছে দিতে এই সংযোগ ব্যবহৃত হয়। আধুনিক মাদারবোর্ডে প্রসেসরের ধরন ও ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে ৪-পিন, ৮-পিন কিংবা একাধিক প্রসেসর বিদ্যুৎ সংযোগও থাকতে পারে।

একটি বোর্ডেই কম্পিউটারের বড় একটি জগত

ছবির মাদারবোর্ডটি ভালোভাবে দেখলে বোঝা যায়, একটি কম্পিউটারের ভেতরের বিভিন্ন যন্ত্রাংশকে একসঙ্গে কাজ করানোর জন্য কত ধরনের সংযোগ ও নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা প্রয়োজন হয়। প্রসেসরকে জায়গা দেওয়া থেকে শুরু করে র‍্যাম, গ্রাফিকস কার্ড, সংরক্ষণযন্ত্র, কুলিং ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং কেসের সামনের বিভিন্ন বাটন ও পোর্ট—সবকিছুর সঙ্গে মাদারবোর্ডের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ছবিতে দেখানো অংশগুলোর অবস্থান বা সংখ্যা সব মাদারবোর্ডে একই হবে এমন নয়। মাদারবোর্ডের নির্মাতা, মডেল, প্রসেসর প্ল্যাটফর্ম ও প্রজন্ম অনুযায়ী সংযোগের ধরন, স্লটের সংখ্যা এবং অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো মাদারবোর্ডে যন্ত্রাংশ সংযোজন বা তার সংযোগ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট মাদারবোর্ডের নির্দেশিকা অনুসরণ করা সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি।

সার্বিকভাবে বলা যায়, মাদারবোর্ড শুধু কম্পিউটারের একটি বড় সার্কিট বোর্ড নয়; এটি কম্পিউটারের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার অংশকে একই কাঠামোর মধ্যে যুক্ত করে তাদের মধ্যে বিদ্যুৎ ও তথ্য আদান-প্রদানের সুযোগ তৈরি করে। ছবিতে চিহ্নিত ১৪টি অংশের কাজ জানা থাকলে একজন নতুন কম্পিউটার ব্যবহারকারীর জন্য মাদারবোর্ড বোঝার প্রাথমিক পথ অনেকটাই সহজ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ