📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

 

৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

৭ দফা দাবিতে ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক, পকেট নিউজ | ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাত দফা দাবি আদায়ে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে লংমার্চ করার ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য। রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়ে রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হবে। পথে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা করার পরিকল্পনাও জানিয়েছে বিরোধী দলগুলোর এই জোট।

রোববার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভা শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে কর্মসূচির বিস্তারিত জানান ঐক্যের সমন্বয়ক ও জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ।

জোটের নেতারা বলছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, জ্বালানি ও গ্যাস সংকট, অর্থনৈতিক চাপ, সারের ঘাটতি এবং দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তুলতেই এই লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সংসদে বিরোধী দলের উত্থাপিত বিভিন্ন দাবি ও প্রস্তাব সরকার যথাযথভাবে আমলে না নেওয়ার অভিযোগও তুলে ধরেছে জোটটি।

সকাল ৭টায় ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে যাত্রা

১১ দলীয় ঐক্যের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বর সকাল ৭টায় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু হবে। উদ্বোধনী সভা সকাল ৮টা পর্যন্ত চলবে। এরপর নির্ধারিত পথে লংমার্চ এগিয়ে যাবে উত্তরাঞ্চলের দিকে।

পথে গাজীপুরের ভোগরাপাড়া, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ, সিরাজগঞ্জ চৌরাস্তা, বগুড়ার চারমাথা এবং গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পাঁচটি পথসভা করার কথা রয়েছে। কর্মসূচির শেষ পর্বে রংপুর জিলা স্কুলে সমাপনী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

জোটের নেতাদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। তবে কর্মসূচির ব্যাপ্তি, অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা এবং মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতির বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো জানানো হয়নি।

ছয় দফা থেকে সাত দফা

সংবাদ ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ জানান, বিরোধী দলগুলোর আগের ছয় দফা দাবি সম্প্রসারিত হয়ে এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। নতুন করে দুর্নীতি, দখলবাজি ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি যুক্ত করা হয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের অধিকার ও জনস্বার্থের বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরার পাশাপাশি রাজপথেও রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় রয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়েও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা নিয়মিত কথা বলছেন।

জোটের সমন্বয়কের ভাষ্য, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন এবং বাংলাদেশকে নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার দিকে এগিয়ে নিতে বিরোধী দল ভূমিকা রাখছে। সাংবিধানিক সংস্কারের জন্য অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতেও সংসদে বিরোধী দল সোচ্চার ছিল বলে দাবি করেন তিনি।

জ্বালানি ও গ্যাস সংকট নিয়ে সরকারের সমালোচনা

লংমার্চের অন্যতম প্রধান প্রেক্ষাপট হিসেবে দেশের চলমান জ্বালানি ও গ্যাস সংকটকে তুলে ধরেছে ১১ দলীয় ঐক্য। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, তেল-গ্যাসের সংকট নিরসনে বিরোধী দল বিভিন্ন সময়ে সরকারের কাছে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। সর্বশেষ বিরোধীদলীয় নেতার পক্ষ থেকে সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে একটি টাস্কফোর্স বা কমিটি গঠন করে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।

তার দাবি, কমিটি গঠনের পর বিরোধী দল সংকট মোকাবিলায় ১০টি প্রস্তাব দিলেও সরকার সেগুলো যথাযথভাবে আমলে নেয়নি।

জ্বালানি তেলের দাম না বাড়ানোর নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের এই নেতা বলেন, সরকার ক্ষমতায় এলে দুই বছরের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি করা হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু সেই অঙ্গীকার রক্ষা করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।

গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন আযাদ। বিশেষ করে বস্ত্রশিল্পে উৎপাদন ব্যাহত হলে বিদেশি ক্রেতাদের পোশাকের অর্ডার অন্য দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তাঁর মতে, এ ধরনের পরিস্থিতি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সারের সংকট নিয়েও উদ্বেগ

জ্বালানি ও গ্যাসের পাশাপাশি দেশে সারের সংকট তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বিরোধী জোট। হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। ফলে শুধু কৃষক নয়, পুরো দেশের মানুষকে এর ভোগান্তি বহন করতে হবে।

বিগত সরকারের ওপর সংকটের দায় চাপানোর পাশাপাশি বর্তমান সরকারের গত ছয় মাসে সংকট নিরসনে কী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকার সমস্যাগুলো সমাধানে যথাযথ দক্ষতা ও উদ্যোগের পরিচয় দিতে পারেনি।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে জোটের উত্থাপিত দাবিগুলো নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অভিযোগ

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে বলে মন্তব্য করেছেন হামিদুর রহমান আযাদ। তাঁর অভিযোগ, একের পর এক গুরুতর ঘটনা ঘটছে, গুম ও হত্যার ঘটনাও ঘটছে। খুলনার মিরাজ শেখের সন্ধান এখনো পাওয়া যায়নি এবং বিরোধী দলের পাঁচজন নেতা-কর্মী নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নের জন্য বিরোধী দল সংসদে আলোচনা করেছে এবং রাজপথেও ভূমিকা রাখছে। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই দায়িত্ব পালনে ঘাটতি রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তবে এসব বক্তব্য রাজনৈতিক দলের দাবি হিসেবে এসেছে। উত্থাপিত প্রতিটি অভিযোগের স্বাধীন তদন্ত, সরকারি তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন।

রাজনৈতিক ঐকমত্যের আহ্বান

অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান সমস্যাগুলো কোনো একক দলের পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে এসে আলোচনার মাধ্যমে সংকট মোকাবিলা করতে হবে।

হামিদুর রহমান আযাদের অভিযোগ, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময়ে দেওয়া প্রস্তাব সরকার গ্রহণ করছে না। এতে সংকট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে। তাঁর মতে, জাতীয় স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাত দফা দাবিতে লংমার্চের ঘোষণা শুধু একটি দলীয় কর্মসূচি নয়; এটি জোটভুক্ত দলগুলোর রাজনৈতিক অবস্থানকে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান করার একটি প্রচেষ্টাও। বিশেষ করে অর্থনৈতিক চাপ, মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানি সংকট ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের অসন্তোষকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য থাকতে পারে।

প্রস্তুতিতে ১১ দলের নেতারা

রোববারের প্রেস ব্রিফিংয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির মুখপাত্র রাশেদ প্রধানসহ ১১ দলীয় ঐক্যভুক্ত বিভিন্ন দলের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লংমার্চ সফল করতে সংশ্লিষ্ট দলগুলো সাংগঠনিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। ঢাকার উদ্বোধনী সভা থেকে রংপুরের সমাপনী সমাবেশ পর্যন্ত কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সামনে রাজনৈতিক কর্মসূচির প্রভাব

১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চের মধ্য দিয়ে সাত দফা দাবিকে কেন্দ্র করে ১১ দলীয় ঐক্য মাঠপর্যায়ে তাদের রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরদার করতে চাইছে। জ্বালানি, গ্যাস, সার, আইনশৃঙ্খলা ও অর্থনৈতিক সংকটের মতো জনজীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে সামনে রেখে বিরোধী জোটের এই কর্মসূচি সাধারণ মানুষের মধ্যে কতটা সাড়া ফেলে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

একই সঙ্গে কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে পরিচালনা, জনদুর্ভোগ কমানো এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে। সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলের রাজনৈতিক সংলাপ ও সমন্বয়ের সুযোগ তৈরি হলে দাবিগুলো নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রও প্রসারিত হতে পারে।

সব মিলিয়ে, ১৯ সেপ্টেম্বরের রংপুর অভিমুখী লংমার্চ দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে। সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে জোটটি রাজপথে কতটা ধারাবাহিক কর্মসূচি ধরে রাখতে পারে এবং সরকার কীভাবে এসব দাবির রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক জবাব দেয়, তার ওপর পরবর্তী পরিস্থিতির অনেকটাই নির্ভর করবে।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ