বাংলাদেশ ব্যাংকের ভল্টে ১৪ টনের বেশি সোনা, দাম বেড়েছে ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা
নিজস্ব প্রতিবেদক | পকেট নিউজ
প্রকাশ: ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিশ্ববাজারে সোনার দামে বড় ধরনের উত্থানের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভেও। পরিমাণে কোনো পরিবর্তন না এলেও গত এক বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুত সোনার আর্থিক মূল্য বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছর শেষে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে থাকা সোনার পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৫৯ হাজার ১৬৩ দশমিক ৫২ ট্রয় আউন্স। ওজনের হিসাবে এটি প্রায় ১৪ দশমিক ২৮ টন। ২০২৪–২৫ অর্থবছরেও সোনার পরিমাণ একই ছিল। অর্থাৎ নতুন করে সোনা কেনা বা মজুত কমানোর কোনো পরিবর্তন হয়নি; বাজারদর বাড়ার কারণেই এর হিসাবমূল্য বেড়েছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে মজুত সোনার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ১১ হাজার ১৪ কোটি ১০ লাখ টাকা। এক বছর পর তা বেড়ে হয়েছে ১৩ হাজার ৪৩৬ কোটি ৬২ লাখ টাকা। অর্থাৎ একই পরিমাণ সোনার মূল্য বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৪২২ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ২০২৫–২৬ অর্থবছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী প্রকাশের তথ্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও রয়েছে।
১৪ টনের বেশি সোনা কোথায় রাখা আছে?
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সব সোনা দেশে নিজস্ব ভল্টে রাখা নেই। বরং এর একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সংরক্ষণ ও বিনিয়োগ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বড় অংশ—প্রায় ১ লাখ ৮৮ হাজার ৯২৭ ট্রয় আউন্স—যুক্তরাজ্যের ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রাখা হয়েছে। এর একটি অংশ সোনা ঋণ বা ‘গোল্ড লেন্ডিং’ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও প্রায় ৮৩ হাজার ৯৬১ ট্রয় আউন্স বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ভল্টে রাখা আছে।
এ ছাড়া লন্ডনের স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও এইচএসবিসিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সোনা আমানত বা বিনিয়োগ হিসেবে রয়েছে। প্রতিবেদনের হিসাবে, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডে প্রায় ৯২ হাজার ৭৩৯ ট্রয় আউন্স এবং এইচএসবিসিতে প্রায় ৯৩ হাজার ৫৩৫ ট্রয় আউন্স সোনা রাখা হয়েছে।
এর ফলে বাংলাদেশের সোনা শুধু একটি নিষ্ক্রিয় সম্পদ হিসেবে পড়ে নেই; এর একটি অংশ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মধ্যেও ব্যবহৃত হচ্ছে।
ব্যাংক অব ইংল্যান্ড নিজেও জানায়, তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সোনা হেফাজতে রাখে এবং তাদের প্রকাশিত পরিসংখ্যান ট্রয় আউন্সে দেওয়া হয়।
সোনা একই, মূল্য বাড়ল ২ হাজার ৪২২ কোটি
বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনার মজুতের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো—পরিমাণ না বাড়িয়েও সম্পদের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত অর্থবছরের শুরু ও শেষে সোনার পরিমাণ একই থাকার অর্থ হলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক নতুন করে বড় কোনো সোনার মজুত তৈরি করেনি। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়ায় পুরোনো মজুতের হিসাবমূল্য বেড়েছে।
একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সোনা সাধারণত দীর্ঘমেয়াদি রিজার্ভ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়। এর মূল্য বাজারদরের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। ফলে সোনার দাম বাড়লে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনাভিত্তিক সম্পদের মূল্যও বাড়ে।
তবে এটিকে সরাসরি নগদ অর্থের সমান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। সোনার বাজারমূল্য বেড়ে যাওয়া মানেই বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে একই পরিমাণ নগদ বৈদেশিক মুদ্রা চলে এসেছে—এমন নয়।
বরং এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যালান্সশিটে থাকা একটি সম্পদের মূল্যবৃদ্ধি।
এক ট্রয় আউন্সে কত সোনা?
সোনার আন্তর্জাতিক বাজারদর ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হিসাব বুঝতে ‘ট্রয় আউন্স’ বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।
মূল্যবান ধাতু—যেমন সোনা, রুপা ও প্লাটিনাম—পরিমাপের ক্ষেত্রে ট্রয় আউন্স ব্যবহার করা হয়। এক ট্রয় আউন্সের ওজন ৩১ দশমিক ১০৩৫ গ্রাম।
অন্যদিকে দৈনন্দিন পণ্য বা খাদ্যসামগ্রী মাপার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত সাধারণ আউন্সের ওজন প্রায় ২৮ দশমিক ৩৫ গ্রাম।
বাংলাদেশে প্রচলিত হিসাবে এক ভরি সমান প্রায় ১১ দশমিক ৬৬ গ্রাম। সে হিসাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪ দশমিক ২৮ টন সোনা প্রায় ১২ লাখ ২৪ হাজার ভরির সমপরিমাণ।
অর্থাৎ, সংখ্যাটি শুধু ‘১৪ টন’ বললে এর ব্যাপ্তি পুরোপুরি বোঝা যায় না; স্থানীয় মাপের হিসাবে এটি ১২ লাখের বেশি ভরি সোনা।
বিশ্ববাজারে সোনার দাম কেন এত বাড়ছে?
গত কয়েক বছরে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বাণিজ্যনীতি নিয়ে উদ্বেগ, সুদের হার এবং বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝোঁক—সব মিলিয়ে সোনার চাহিদা বেড়েছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি ও শুল্কসংক্রান্ত অনিশ্চয়তার সময় বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের বদলে সোনাকে তুলনামূলক নিরাপদ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করেছে।
ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম এক পর্যায়ে দ্রুত বেড়েছে। পরবর্তীতে দাম কিছুটা ওঠানামা করলেও সামগ্রিকভাবে গত কয়েক বছরের তুলনায় সোনার মূল্য অনেক বেশি।
বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মজুত সোনার মূল্য বৃদ্ধির পেছনেও এই বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতিই বড় কারণ।
দেশের বাজারেও সোনার দামে রেকর্ড
আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব বাংলাদেশের বাজারেও স্পষ্ট।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতির তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশে সোনার দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো ভালো মানের সোনার প্রতি ভরির দাম এক লাখ টাকা ছাড়ায়।
২০২৫ সালের জুনে ২২ ক্যারেট সোনার দাম ছিল প্রতি ভরি ১ লাখ ৭০ হাজার ২৩৬ টাকা। এক বছর পর ২০২৬ সালের জুনে তা বেড়ে হয় ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা।
আর সর্বশেষ গত রোববার ভালো মানের প্রতি ভরি সোনার দাম ছিল ২ লাখ ৩৫ হাজার ১৪৬ টাকা।
অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে দেশের বাজারেও প্রতি ভরি ২২ ক্যারেট সোনার দামে প্রায় ৫১ হাজার ৭৩০ টাকা বৃদ্ধি হয়েছে।
এটি শুধু গয়না ক্রেতাদের জন্য নয়, দেশের সোনা-সম্পদ ও আমদানি ব্যয়ের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করছে।
বিদেশে সোনা রাখা হয় কেন?
বাংলাদেশ ব্যাংকের বড় অংশের সোনা বিদেশে থাকার বিষয়টি প্রথম দেখায় অস্বাভাবিক মনে হতে পারে। কিন্তু কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ব্যাংক ও ভল্টে মূল্যবান ধাতু রাখা একটি প্রচলিত ব্যবস্থা।
এর একটি কারণ নিরাপত্তা। আন্তর্জাতিক আর্থিক কেন্দ্রগুলোতে উচ্চ নিরাপত্তাব্যবস্থার বিশেষ ভল্টে সোনা সংরক্ষণ করা যায়।
আরেকটি কারণ হলো—সোনা শুধু সংরক্ষণ করলেই হয় না; চাইলে নির্দিষ্ট কাঠামোর মাধ্যমে তা থেকে আয়ও করা যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে রাখা সোনার একটি অংশ ‘লেন্ডিং’ কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট শর্তে অন্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সোনা ধার দিয়ে এর বিপরীতে আয় করা সম্ভব।
এতে সোনা একই সঙ্গে রিজার্ভ সম্পদ এবং আয় সৃষ্টিকারী সম্পদ হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।
দেশে রাখা সোনার পরিমাণও কম নয়
বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ভল্টে প্রায় ৮৩ হাজার ৯৬১ ট্রয় আউন্স সোনা রাখা আছে।
অর্থাৎ মোট সোনার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সরাসরি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন ভল্টে সংরক্ষিত।
এ ধরনের মিশ্র ব্যবস্থার ফলে একদিকে দেশে কিছু সোনা সরাসরি রাখা যায়, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সংরক্ষিত সোনা থেকে সম্ভাব্য আয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারের সুযোগ থাকে।
সোনার পাশাপাশি রুপাও আছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল্যবান ধাতুর রিজার্ভ শুধু সোনায় সীমাবদ্ধ নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিজস্ব ভল্টে রয়েছে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রুপাও।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে প্রায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭২৮ ট্রয় আউন্স রুপা রয়েছে। গত এক বছরে রুপার পরিমাণেও কোনো পরিবর্তন হয়নি।
তবে আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম বাড়ায় এর মূল্যও বেড়েছে। এক বছরের ব্যবধানে রুপার বাজারমূল্য প্রায় ৭৫ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১২১ কোটি টাকা হয়েছে।
অর্থাৎ সোনার মতো রুপার ক্ষেত্রেও মূল মজুত অপরিবর্তিত থাকলেও বাজারদরের পরিবর্তনে সম্পদের মূল্য বেড়েছে।
‘সোনা ভালো জামানত ও নিরাপদ বিনিয়োগ’
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনা মজুতের বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদ ও গবেষকেরা।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় কোন সম্পদ কোথায় এবং কীভাবে রাখা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ।
তাঁর মতে, সোনা ভালো জামানত ও নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম বাড়তে থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উল্লেখযোগ্য সোনা মজুতকে তিনি ইতিবাচক ও লাভজনক বিনিয়োগ হিসেবে দেখছেন।
তবে এই সুবিধার পাশাপাশি সোনার বাজারদরের ওঠানামার বিষয়টিও মাথায় রাখতে হয়। কারণ সোনার মূল্য সবসময় একদিকে যায় না; বাজার পরিস্থিতি বদলালে মূল্য কমতেও পারে।
বাংলাদেশের রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় সোনার ভূমিকা কতটা?
বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের প্রধান অংশ ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও বৈদেশিক আর্থিক সম্পদে রাখা হয়েছে। সেই তুলনায় সোনার অংশ তুলনামূলক ছোট।
তবু সোনার গুরুত্ব শুধু এর মোট পরিমাণ দিয়ে বিচার করা যায় না।
সোনার সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো—এটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের মুদ্রা বা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের ঋণদায় নয়। ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা, মুদ্রার অবমূল্যায়ন কিংবা ভূরাজনৈতিক সংকটের সময়ে এটি রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাংক সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সোনার প্রতি আগ্রহ বাড়িয়েছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও সোনার মজুতের মূল্য বৃদ্ধি সেই বৃহত্তর বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
বাংলাদেশের সোনার মজুত ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকেও প্রায় ১৪ দশমিক ২৮ টন অপরিবর্তিত ছিল বলে আন্তর্জাতিক ডেটা সিরিজে দেখা যায়।
পরিমাণ বাড়েনি, কিন্তু সম্পদের শক্তি বেড়েছে
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিষ্কার—দেশের সোনা রিজার্ভের গল্পটি মূলত ‘পরিমাণ বাড়ানোর’ নয়, বরং ‘সম্পদের মূল্য বৃদ্ধির’ গল্প।
এক বছরে সোনার পরিমাণ একই থেকেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির কারণে এর হিসাবমূল্য প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা বেড়েছে।
এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের জন্য স্বস্তির খবর হলেও এর অর্থ এই নয় যে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনায় শুধু সোনার ওপর নির্ভর করা উচিত। বরং বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা, সরকারি সিকিউরিটিজ ও অন্যান্য নিরাপদ সম্পদের মধ্যে ভারসাম্য রেখে রিজার্ভ ব্যবস্থাপনা করাই দীর্ঘমেয়াদে গুরুত্বপূর্ণ।
শেষ কথা
বাংলাদেশ ব্যাংকের হাতে থাকা প্রায় ১৪ দশমিক ২৮ টন সোনা দেশের মোট বৈদেশিক রিজার্ভের তুলনায় হয়তো খুব বড় অংশ নয়, কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে এর কৌশলগত গুরুত্ব রয়েছে। গত এক বছরে এক গ্রাম সোনাও বাড়েনি; তবু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির কারণে মজুতের মূল্য বেড়েছে প্রায় ২ হাজার ৪২২ কোটি টাকা।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই সোনা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় নেই। এর একটি বড় অংশ আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সংরক্ষিত ও লেন্ডিং কার্যক্রমে ব্যবহৃত হচ্ছে, আর একটি অংশ বাংলাদেশ ব্যাংকের নিজস্ব ভল্টে রাখা হয়েছে।
ফলে সোনার মজুত এখন বাংলাদেশের জন্য শুধু একটি মূল্যবান ধাতুর ভাণ্ডার নয়; এটি রিজার্ভ বৈচিত্র্যকরণ, সম্পদ সংরক্ষণ এবং বৈশ্বিক আর্থিক অনিশ্চয়তার সময়ে নিরাপত্তা তৈরির একটি কৌশলগত সম্পদ।
তবে ভবিষ্যতে সোনার দাম আরও বাড়বে—এমন নিশ্চয়তা নেই। তাই এর মূল্যবৃদ্ধিকে তাৎক্ষণিক লাভ হিসেবে না দেখে দীর্ঘমেয়াদি রিজার্ভ ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে বিবেচনা করাই বেশি যুক্তিসংগত।


0 মন্তব্যসমূহ