📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নতুন সুবিধার প্রস্তাব, পেনশন মিলতে পারে ৫৫ বছর বয়সে

 

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নতুন সুবিধার প্রস্তাব, পেনশন মিলতে পারে ৫৫ বছর বয়সে

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে নতুন সুবিধার প্রস্তাব, পেনশন মিলতে পারে ৫৫ বছর বয়সে

নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিকে আরও আকর্ষণীয় ও জনবান্ধব করতে একগুচ্ছ নতুন উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে নির্দিষ্ট শর্তে কর্মসূচি থেকে বের হয়ে অর্থ উত্তোলনের সুযোগ, পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন প্রদান এবং বর্তমান ৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়স থেকেই পেনশন সুবিধা চালুর প্রস্তাব।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে এসব প্রস্তাব উপস্থাপনের কথা রয়েছে। এটি কর্তৃপক্ষের চতুর্থ পরিচালনা পর্ষদের বৈঠক। বৈঠকে মোট ১১টি আলোচ্যসূচি রাখা হয়েছে। পর্ষদের অনুমোদন পাওয়া প্রস্তাবগুলো পরবর্তী সময়ে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সুরাতুজ্জামান জানিয়েছেন, পরিচালনা পর্ষদের সভায় প্রস্তাবগুলো উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিন বছরেও প্রত্যাশিত সাড়া মেলেনি

দেশের কর্মজীবী, অনিয়মিত আয়ের মানুষ ও প্রবাসীদের ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচি চালু করা হয়। দেশের চার শ্রেণির প্রায় ১০ কোটি মানুষকে এই ব্যবস্থার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় চারটি কর্মসূচি চালু রয়েছে। এগুলো হলো প্রগতি, সুরক্ষা, সমতা ও প্রবাস। কর্মজীবী মানুষের পাশাপাশি অনিয়মিত আয়ের জনগোষ্ঠী এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা কর্মসূচি রাখা হয়েছে।

তবে চালুর প্রায় তিন বছর পার হলেও কর্মসূচিটিতে মানুষের অংশগ্রহণ প্রত্যাশার তুলনায় কম। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত চারটি কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হয়েছেন ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক। তাঁদের জমা করা মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।

এই সংখ্যা দেশের সম্ভাব্য উপকারভোগী জনগোষ্ঠীর তুলনায় খুবই সীমিত। ফলে কর্মসূচিটিকে আরও গ্রহণযোগ্য ও সুবিধাজনক করতে নতুন নিয়ম চালুর বিষয়টি সামনে এসেছে।

সমতা কর্মসূচিতে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণ

চারটি কর্মসূচির মধ্যে সমতা কর্মসূচিতে গ্রাহকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। তাঁদের জমা করা অর্থের পরিমাণ প্রায় ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

সমতা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীকে পেনশন সুবিধার আওতায় আনা। সরকার নির্ধারিত কাঠামোর মাধ্যমে এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের জন্য নির্দিষ্ট হারে সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

অন্যদিকে প্রবাসীদের জন্য চালু করা প্রবাস কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ সবচেয়ে কম। এ পর্যন্ত মাত্র ১ হাজার ১৭১ জন প্রবাসী এই কর্মসূচিতে নিবন্ধিত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে নারী প্রবাসীর সংখ্যা ৯৭ জন। এই কর্মসূচিতে জমা করা মোট আমানতের পরিমাণ প্রায় ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

কর্তৃপক্ষ মনে করছে, প্রবাসীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে আরও কার্যকর প্রচার, সহজ নিবন্ধন এবং আকর্ষণীয় সুবিধা প্রয়োজন হতে পারে।

কর্মসূচি থেকে বের হওয়ার সুযোগ চাচ্ছেন গ্রাহকেরা

বর্তমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার অন্যতম বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে গ্রাহকেরা উল্লেখ করছেন অর্থ উত্তোলনের সুযোগ না থাকা। কোনো ব্যক্তি একবার একটি কর্মসূচিতে যুক্ত হলে নির্দিষ্ট সময়ের আগে সেখান থেকে বের হওয়ার নিয়ম নেই।

অনেক গ্রাহক দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনা করলেও জীবনের বিভিন্ন সময়ে হঠাৎ আর্থিক সংকট, অসুস্থতা বা কর্মহীনতার মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন। এসব কারণে নিয়মিত চাঁদা দেওয়া সম্ভব না হলে জমা করা অর্থ কার্যত আটকে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

নতুন প্রস্তাবে এই বিষয়টি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, কোনো গ্রাহক অন্তত পাঁচ বছর নিয়মিত অর্থ জমা দেওয়ার পর শারীরিক বা আর্থিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়লে বিশেষ বিবেচনায় তাঁর জমা অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে।

তবে এই সুবিধা সবার জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রযোজ্য হবে কি না, কিংবা কী ধরনের শর্তে অর্থ উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হবে, তা পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।

গ্রাহকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ব্যবস্থায় জরুরি পরিস্থিতিতে সীমিত অর্থ উত্তোলনের সুযোগ থাকলে মানুষের আস্থা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে কর্মসূচি থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে বাদ পড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও কমবে।

পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন সুবিধা

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব হলো পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রীকে আজীবন পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করা।

বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, একজন চাঁদাদাতা পেনশন পাওয়ার বয়সে পৌঁছানোর পর জীবিত থাকা পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পান। তিনি মারা গেলে পরিবারের সদস্যদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পেনশন সুবিধার ব্যবস্থা নেই।

বর্তমান বিধানে বলা হয়েছে, কোনো চাঁদাদাতা ৭৫ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে মারা গেলে তাঁর মনোনীত ব্যক্তি ৭৫ বছর বয়স পর্যন্ত অবশিষ্ট সময়ের জন্য পেনশন পাবেন। অর্থাৎ স্বামী বা স্ত্রী আজীবন পেনশন পাওয়ার নিশ্চয়তা পান না।

নতুন প্রস্তাব অনুমোদিত হলে এই নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে। পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর তাঁর মনোনীত স্বামী বা স্ত্রী জীবিত থাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সুবিধা চালু হলে পরিবারভিত্তিক আর্থিক নিরাপত্তা বাড়তে পারে। বিশেষ করে অবসর-পরবর্তী সময়ে পরিবারের একজন সদস্যের মৃত্যুর পর অন্য সদস্যের আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

৬০ বছরের পরিবর্তে ৫৫ বছর বয়সে পেনশন

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে পেনশন পাওয়ার বয়স নির্ধারিত রয়েছে ৬০ বছর। নতুন প্রস্তাবে এই বয়স কমিয়ে ৫৫ বছর করার কথা বলা হয়েছে।

এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদা প্রদানকারী ব্যক্তিরা তুলনামূলকভাবে আগেই পেনশন সুবিধা পাওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে পেনশনের পরিমাণ, চাঁদা প্রদানের মেয়াদ এবং বয়স কমানোর ফলে তহবিলের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদনের পর জানা যাবে।

এর আগে গত বছরের মে মাসে অনুষ্ঠিত কর্তৃপক্ষের দ্বিতীয় পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা হয়, কোনো চাঁদাদাতা ৬০ বছর বয়সে পৌঁছালে জমা করা অর্থের ৩০ শতাংশ এককালীন উত্তোলনের সুযোগ পাবেন।

এর আগে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় এককালীন অর্থ উত্তোলনের কোনো সুযোগ ছিল না। নতুন প্রস্তাব ও আগের সিদ্ধান্ত মিলিয়ে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ভবিষ্যতে আরও নমনীয় আর্থিক সুবিধা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

ইসলামি পেনশন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত জনগোষ্ঠীর কাছে গ্রহণযোগ্য করতে ইসলামি পদ্ধতির একটি পৃথক কর্মসূচি চালুর বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।

দেশের অনেক মানুষ সুদভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থায় অংশ নিতে আগ্রহী নন। তাঁদের ধর্মীয় ও আর্থিক বিশ্বাসের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইসলামি নীতিমালা অনুসরণ করে একটি বিকল্প পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন একটি জনগোষ্ঠী সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে যুক্ত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে প্রস্তাবিত ইসলামি পেনশন ব্যবস্থার বিনিয়োগ কাঠামো, মুনাফা বণ্টন এবং পরিচালন পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি।

স্বাস্থ্য বিমা যুক্ত করার পরিকল্পনা

পেনশন সুবিধার পাশাপাশি গ্রাহকদের জন্য স্বাস্থ্য বিমা চালুর প্রস্তাবও রয়েছে। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, গ্রাহকদের কাছ থেকে মাসে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত প্রিমিয়াম নিয়ে স্বাস্থ্য বিমা সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

দীর্ঘমেয়াদি পেনশন সঞ্চয়ের সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা যুক্ত হলে কর্মসূচিটির প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়তে পারে। কারণ বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়ায়।

তবে এই বিমা সুবিধার আওতায় কোন ধরনের চিকিৎসা, কত টাকা পর্যন্ত সহায়তা এবং কোন প্রতিষ্ঠান সেবা প্রদান করবে, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও হয়নি।

নিবন্ধন প্রতিষ্ঠানের কমিশন বাড়ানোর প্রস্তাব

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে মানুষকে যুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যাংক, ডাক বিভাগ ও মুঠোফোনভিত্তিক আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে গ্রাহকদের নিবন্ধন ও চাঁদা জমার সুযোগ রয়েছে।

বর্তমানে গ্রাহক নিবন্ধনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ১৫ টাকা কমিশন দেওয়া হয়। নতুন প্রস্তাবে এই কমিশন বাড়িয়ে ২৫ টাকা করার কথা বলা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষের ধারণা, কমিশন বৃদ্ধি করা হলে অনুমোদিত আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো কর্মসূচির প্রচার ও নিবন্ধনে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। এর ফলে সাধারণ মানুষের কাছে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার তথ্য পৌঁছানো সহজ হবে।

মূল্যস্ফীতি মোকাবিলায় তহবিল গঠনের প্রস্তাব

দীর্ঘমেয়াদি পেনশন তহবিল পরিচালনার ক্ষেত্রে মূল্যস্ফীতি ও মুনাফার হারের পরিবর্তন একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক ঝুঁকি। ভবিষ্যতে এসব ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ রিজার্ভ বা জরুরি তহবিল গঠনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মূল্যস্ফীতি বাড়লে ভবিষ্যতে পেনশনের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যেতে পারে। আবার বিনিয়োগের মুনাফার হার কমে গেলে দীর্ঘমেয়াদি তহবিলের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে। এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে আলাদা তহবিল গঠনের মাধ্যমে আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

কীভাবে সর্বজনীন পেনশনে নিবন্ধন করবেন

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগ্রহীদের নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে হয়। নিবন্ধনের শুরুতে আবেদনকারীকে একটি প্রত্যয়ন দিতে হয় যে তিনি সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত নন এবং অন্য কোনো সরকারি পেনশন বা সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা গ্রহণ করছেন না।

এরপর আবেদনকারীকে চারটি কর্মসূচির মধ্যে উপযুক্ত একটি নির্বাচন করতে হয়। নিবন্ধনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্মতারিখ, মুঠোফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা প্রয়োজন হয়।

পরবর্তী ধাপে আবেদনকারীর মুঠোফোন ও ই-মেইলে একবার ব্যবহারযোগ্য গোপন নম্বর পাঠানো হয়। সেই নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।

আস্থা ফেরানোই বড় চ্যালেঞ্জ

সর্বজনীন পেনশন কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীকে ভবিষ্যৎ আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনা। কিন্তু তিন বছর পরও নিবন্ধনের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় কর্মসূচিটির কার্যকারিতা ও আকর্ষণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গ্রাহকদের একটি অংশ মনে করেন, ব্যাংকের প্রচলিত আমানতের তুলনায় পেনশন ব্যবস্থায় তাৎক্ষণিক সুবিধা সীমিত এবং দীর্ঘমেয়াদি অর্থ আটকে থাকার কারণে অনেকেই আগ্রহী হচ্ছেন না।

নতুন প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়িত হলে কর্মসূচিতে নমনীয়তা, পারিবারিক নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা এবং বিকল্প আর্থিক ব্যবস্থার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এসব সুবিধা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং গ্রাহকদের আস্থা অর্জন করাই হবে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।

আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ