📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

পাকিস্তানের কোহাট পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৬

 

পাকিস্তানের কোহাট পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৬

পাকিস্তানের কোহাট পুলিশ লাইনসে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত ১৬

পুলিশ সদস্যসহ আহত অর্ধশতাধিক, উদ্ধার অভিযান চলছে

পকেট নিউজ, আন্তর্জাতিক ডেস্ক|১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তথ্যসূত্র: ডন

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট শহরের পুরোনো পুলিশ লাইনস এলাকায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং ১১ জন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। শুক্রবার জুমার নামাজের সময় পুলিশ কমপ্লেক্সের একটি মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি পুরোনো পুলিশ লাইনসের প্রবেশপথে আঘাত করার পর বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর সশস্ত্র হামলাকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিবিনিময় হয়। হামলায় মসজিদ ও আশপাশের ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে কেউ আটকা পড়েছেন কি না, তা খতিয়ে দেখতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

ঘটনাটি নিয়ে পাকিস্তানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে হতাহতের সংখ্যা প্রায় একই রকম পাওয়া গেছে। তবে আহতদের চিকিৎসা ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত থাকায় সংখ্যায় পরিবর্তন হতে পারে।

জুমার নামাজের সময় হামলা

শুক্রবার দুপুরে কোহাটের পুরোনো পুলিশ লাইনস এলাকার মসজিদে মুসল্লিরা জুমার নামাজের জন্য সমবেত হয়েছিলেন। এ সময় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় মসজিদের বাইরের অংশ ও একটি দেয়াল ধসে পড়ে।

খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক জুলফিকার হামিদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানান, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি প্রথমে পুলিশ লাইনসের গেটে আঘাত করে। এরপর গাড়িটি বিস্ফোরিত হয়। হামলার পর কয়েকজন সশস্ত্র ব্যক্তি কাউন্টার টেররিজম বিভাগের ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা হামলাকারীদের প্রতিহত করার চেষ্টা করেন। কয়েকজন হামলাকারী বিশেষ শাখার ভবনের দিকেও যাওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।

পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিক নিহত

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় মোট ১৬ জন নিহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য এবং ১১ জন বেসামরিক নাগরিক। আহত হয়েছেন ৫০ জনেরও বেশি মানুষ।

কোহাট জেলা হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের পর আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করে চিকিৎসক ও কর্মীদের প্রস্তুত রাখা হয়। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে স্থানীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর বহু মানুষ চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন। উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থল থেকে আহতদের সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা ব্যক্তিদের সন্ধান করছে।

একাধিক হামলাকারীর উপস্থিতির দাবি

খাইবার পাখতুনখাওয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক জুলফিকার হামিদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাটি শুধু একটি বিস্ফোরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না। বিস্ফোরণের পর কয়েকজন হামলাকারী নিরাপত্তা সংস্থার বিভিন্ন ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে।

পুলিশ জানিয়েছে, প্রথম আত্মঘাতী হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি নিয়ে গেটে আঘাত করে। পরে কয়েকজন হামলাকারী কাউন্টার টেররিজম বিভাগের ভবনের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের প্রতিহত করে। আরও কয়েকজন বিশেষ শাখার ভবনের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করে বলে জানানো হয়েছে।

এ সময় নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারীদের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। হামলাকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

একটি সংগঠনের দায় স্বীকারের দাবি

হামলার দায় হাফিজ গুল বাহাদুরের নেতৃত্বাধীন ইত্তেহাদুল মুজাহিদিন নামের একটি সংগঠন স্বীকার করেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দাবির স্বাধীন যাচাই তাৎক্ষণিকভাবে সম্ভব হয়নি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর কিছু প্রতিবেদনে হামলার দায় স্বীকারের বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে হামলার প্রকৃত পরিকল্পনাকারী বা জড়িত সংগঠন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও হামলার উদ্দেশ্য খুঁজে বের করতে তদন্ত শুরু করেছে।

ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান

বিস্ফোরণের পর টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে ধসে পড়া ভবনের দেয়ালের পাশে মানুষজনকে জড়ো হতে দেখা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের উদ্ধারে কাজ করছেন।

বিস্ফোরণের কারণে মসজিদের বাইরের অংশসহ আশপাশের কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উদ্ধারকারী দল ভারী ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে সম্ভাব্য জীবিত ব্যক্তিদের সন্ধান করছে।

ঘটনাস্থলের আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ দূরত্বে রাখার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

খাইবার পাখতুনখাওয়ায় নিরাপত্তা উদ্বেগ

পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশ দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে পুলিশ, সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করে বিভিন্ন সময়ে হামলার ঘটনা ঘটেছে।

কোহাট শহরেও এর আগে নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফলে নতুন এই বিস্ফোরণ প্রদেশটির সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে আবারও উদ্বেগ তৈরি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থার স্থাপনার কাছাকাছি হামলা চালানো হলে তা শুধু প্রাণহানি ঘটায় না, স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তাবোধেও প্রভাব ফেলে। তবে এই হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং এর উদ্দেশ্য কী ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

তদন্ত ও পরবর্তী পরিস্থিতি

পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলো হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে। বিস্ফোরণের ধরন, ব্যবহৃত গাড়ি, হামলাকারীদের চলাচল এবং ঘটনাস্থলের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ তদন্তের আওতায় আনা হতে পারে।

আহতদের চিকিৎসা, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরিদর্শনের কাজও চলছে। উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

কোহাটের এই হামলা আবারও দেখিয়ে দিল, নিরাপত্তা স্থাপনা ও ধর্মীয় উপাসনালয়—উভয় ক্ষেত্রেই সুরক্ষা নিশ্চিত করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। ঘটনার পূর্ণ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্তকরণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়াই এখন পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের প্রধান চ্যালেঞ্জ।

বি.দ্র:প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় হতাহতের সংখ্যা বা দায় স্বীকারের বিষয়ে নতুন তথ্য এলে সংশোধিত সংস্করণ প্রকাশ করা হবে।


আরো পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ