📢 প্রতিদিনের খেলার সূচি ও লেটেস্ট খেলার খবর জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 চাকরির নিয়োগ, পরীক্ষার সময়সূচি ও পরীক্ষার ফলাফল জানতে এখানে ক্লিক করুন ------ || ------ 📢 এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ: পাসের হার কমে ৬২.২৫%, জিপিএ–৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। ------ || ------ 📢 খেলা||-ক্রিকেট--অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়, ৯ উইকেটে হারিয়ে নতুন ইতিহাস। ------ || ------ 📢 ‘মুসলিম ন্যাটো’ নাকি নতুন নিরাপত্তা কাঠামো? মক্কা চুক্তিতে বদলাচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ।

জোনাকি কমে যাচ্ছে কেন, কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব

 

জোনাকি কমে যাচ্ছে কেন, কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব

জোনাকি কমে যাচ্ছে কেন, কীভাবে ফিরিয়ে আনা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক,পকেট নিউজ | ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একসময় বর্ষার সন্ধ্যা কিংবা গরমের ছুটির রাতে গ্রামের পুকুরপাড়, বাঁশঝাড় ও ঝোপঝাড়ে মিটমিট করে জ্বলতে দেখা যেত অসংখ্য জোনাকি। অন্ধকার মাঠের মধ্যে ছোট ছোট আলোর বিন্দু যেন প্রকৃতির নিজস্ব প্রদীপের মতো জ্বলে উঠত। শিশুরা সেই আলো দেখে আনন্দ পেত, কেউ কেউ আবার হাত বাড়িয়ে জোনাকি ধরার চেষ্টা করত। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে গ্রাম ও শহরের পরিবেশ। অনেক জায়গায় এখন আগের মতো জোনাকির দেখা মেলে না।

জোনাকি যে অনেক অঞ্চলে কমে যাচ্ছে, তা নিয়ে বিজ্ঞানী ও পরিবেশবিদদের মধ্যেও উদ্বেগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই বলা হয়, জোনাকি দেখার শেষ প্রজন্ম হয়তো বর্তমান প্রজন্ম। কথাটি পুরোপুরি সত্য না হলেও জোনাকির সংখ্যা কমে যাওয়ার বিষয়টি বাস্তব পরিবেশগত পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত। আবাসস্থল ধ্বংস, কীটনাশকের ব্যবহার, কৃত্রিম আলো এবং জলবায়ু পরিবর্তন—সব মিলিয়ে এই ছোট্ট আলোকিত পোকাটির জীবন ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

শরীরের ভেতরেই তৈরি হয় আলো

জোনাকির সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো, তারা নিজেদের শরীরের ভেতর রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে আলো তৈরি করতে পারে। জীবন্ত প্রাণীর শরীরে এভাবে আলো উৎপন্ন হওয়ার ঘটনাকে বলা হয় জৈবদ্যুতি।

জোনাকির শরীরের একটি বিশেষ অঙ্গে এই আলো তৈরি হয়। সেখানে লুসিফেরিন নামের একটি রাসায়নিক পদার্থ, লুসিফারেজ নামের একটি এনজাইম এবং আরও কিছু উপাদান একসঙ্গে কাজ করে। অক্সিজেনের উপস্থিতিতে রাসায়নিক বিক্রিয়া শুরু হলে আলো জ্বলে ওঠে।

এই আলো বৈদ্যুতিক বাতির মতো উত্তপ্ত নয়। ফলে আলো উৎপন্ন হলেও জোনাকির শরীর পুড়ে যায় না। এ কারণেই জোনাকিকে কখনো কখনো শীতল আলো উৎপাদনকারী প্রাণী হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

জোনাকি প্রয়োজন অনুযায়ী আলো জ্বালাতে ও নিভাতে পারে। শরীরে অক্সিজেনের প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে তারা এই আলোর সময় ও ছন্দ নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো প্রজাতির আলো দ্রুত জ্বলে-নিভে, আবার কোনো প্রজাতির আলো তুলনামূলক ধীরগতিতে দেখা যায়।

আলোই জোনাকির ভাষা

জোনাকির আলো শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়; এটি তাদের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। পূর্ণবয়স্ক জোনাকিরা আলো ব্যবহার করে নিজেদের মধ্যে সংকেত আদান-প্রদান করে।

বিশেষ করে পুরুষ জোনাকি নির্দিষ্ট ছন্দে আলো জ্বালিয়ে স্ত্রী জোনাকির দৃষ্টি আকর্ষণ করে। স্ত্রী জোনাকি সেই আলোর ধরন ও সংকেত দেখে সম্ভাব্য সঙ্গী শনাক্ত করে। এভাবে আলোর মাধ্যমে সঙ্গী নির্বাচন ও প্রজনন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।

জোনাকির বাচ্চারাও অনেক ক্ষেত্রে আলো উৎপন্ন করতে পারে। তাদের আলো শিকারিদের সতর্ক করার কাজে ব্যবহৃত হয়। এই সংকেতের মাধ্যমে তারা বোঝাতে চায় যে তাদের শরীরে এমন কিছু রাসায়নিক উপাদান রয়েছে, যা শিকারির জন্য ক্ষতিকর বা অরুচিকর হতে পারে।

তবে সব জোনাকি একইভাবে আলো ব্যবহার করে না। কিছু প্রজাতি সঙ্গী খোঁজার জন্য আলোর পরিবর্তে বিশেষ গন্ধ বা রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে। তাই জোনাকির বৈচিত্র্য শুধু তাদের আলোতেই নয়, যোগাযোগের পদ্ধতিতেও রয়েছে।

জোনাকির জীবনচক্র দীর্ঘ ও সংবেদনশীল

জোনাকিকে সাধারণত শুধু রাতের আকাশে উড়ে বেড়ানো আলোকিত পোকা হিসেবে দেখা হলেও তাদের জীবনের বড় একটি অংশ কেটে যায় মাটির নিচে বা স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে।

অনেক প্রজাতির জোনাকির লার্ভা বা শূককীট পূর্ণবয়স্ক হওয়ার আগে এক থেকে কয়েক বছর পর্যন্ত সময় নেয়। এ সময় তারা মাটির নিচে, ঝরা পাতার স্তূপে, পচা গাছের অংশে, ঘাসের ভেতর কিংবা জলাভূমির কাছাকাছি স্যাঁতসেঁতে জায়গায় বসবাস করে।

লার্ভা অবস্থায় জোনাকি ছোট শামুক, কেঁচো ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। এই পর্যায়ে তাদের টিকে থাকার জন্য নিরাপদ আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাবার এবং উপযুক্ত আর্দ্রতা প্রয়োজন।

ফলে কোনো এলাকার মাটি অতিরিক্ত পরিষ্কার করে ফেলা হলে, ঝোপঝাড় কেটে ফেলা হলে কিংবা জলাভূমি ভরাট হলে জোনাকির জীবনচক্র ব্যাহত হয়। অনেক সময় পূর্ণবয়স্ক জোনাকি কমে যাওয়ার পেছনে কয়েক বছর আগের আবাসস্থল ধ্বংসের প্রভাব কাজ করে।

আবাসস্থল হারিয়ে বিপদে জোনাকি

জোনাকি কমে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো প্রাকৃতিক আবাসস্থল ধ্বংস। পুকুর, নদী, খাল ও জলাভূমির আশপাশে থাকা ঝোপঝাড়, ঘাস ও গাছপালা জোনাকির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।

কিন্তু বসতি সম্প্রসারণ, রাস্তা নির্মাণ, শিল্পকারখানা স্থাপন কিংবা অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে এসব জায়গা দ্রুত বদলে যাচ্ছে। জলাভূমি ভরাট করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে, পুকুরপাড়ের ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছে এবং খোলা জমির জায়গায় তৈরি হচ্ছে কংক্রিটের স্থাপনা।

এর ফলে জোনাকির প্রজনন ও লার্ভা বেড়ে ওঠার উপযোগী পরিবেশ কমে যাচ্ছে। শুধু জোনাকি নয়, এসব আবাসস্থলের ওপর নির্ভরশীল আরও বহু ক্ষুদ্র প্রাণীও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বাড়ির বাগানেও একই ধরনের সমস্যা দেখা যায়। অনেকেই বাগানের সব ঝরা পাতা নিয়মিত ঝাড়ু দিয়ে সরিয়ে ফেলেন। এতে মাটির ওপর থাকা জোনাকির লার্ভা, ডিম এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীর আশ্রয় নষ্ট হয়। পরিচ্ছন্নতার এই অভ্যাস মানুষের জন্য স্বাভাবিক হলেও প্রকৃতির ছোট প্রাণীদের জন্য তা ক্ষতিকর হতে পারে।

কীটনাশকের প্রভাব

কৃষি ও বাগানে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার জোনাকির জন্য আরেকটি বড় হুমকি। কীটনাশক শুধু ক্ষতিকর পোকামাকড় ধ্বংস করে না; অনেক সময় মাটি, গাছপালা এবং উপকারী ছোট প্রাণীর ওপরও বিরূপ প্রভাব ফেলে।

জোনাকির লার্ভা ছোট শামুক, কেঁচো ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। কীটনাশকের কারণে এসব খাদ্যপ্রাণীর সংখ্যা কমে গেলে জোনাকির লার্ভার জন্য পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

এ ছাড়া রাসায়নিক পদার্থ মাটির গুণাগুণ ও পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য পরিবর্তন করতে পারে। ফলে জোনাকির ডিম পাড়া, লার্ভার বেড়ে ওঠা এবং পূর্ণবয়স্ক হওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজন ছাড়া কীটনাশক ব্যবহার না করা এবং পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করা জোনাকিসহ বহু ক্ষুদ্র প্রাণী রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।

কৃত্রিম আলোও বড় হুমকি

জোনাকির টিকে থাকার পথে কৃত্রিম আলো একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হয়ে উঠেছে। রাতের অন্ধকারে জোনাকির আলোর সংকেত স্পষ্টভাবে দেখা যায়। কিন্তু বাড়ির বৈদ্যুতিক বাতি, রাস্তার আলোকসজ্জা, গাড়ির হেডলাইট এবং বাণিজ্যিক ভবনের অতিরিক্ত আলো সেই প্রাকৃতিক অন্ধকারকে বদলে দেয়।

জোনাকিরা যখন আলো জ্বালিয়ে সঙ্গী খোঁজে, তখন চারপাশের অতিরিক্ত আলো তাদের সংকেতকে দুর্বল করে দিতে পারে। স্ত্রী জোনাকি পুরুষের আলোর ঝলক ঠিকমতো দেখতে না পেলে সঙ্গী নির্বাচন ব্যাহত হয়। এতে প্রজননের সুযোগ কমে এবং পরবর্তী প্রজন্মের সংখ্যা হ্রাস পেতে পারে।

শহর ও উপশহরে রাতের আলোর বিস্তার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সমস্যা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। শুধু জোনাকি নয়, রাতের অন্ধকারের ওপর নির্ভরশীল অনেক প্রাণী ও পোকামাকড়ও কৃত্রিম আলোর কারণে আচরণগত পরিবর্তনের মুখে পড়ছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব

জলবায়ু পরিবর্তনও জোনাকির জীবনচক্রে প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘস্থায়ী খরা এবং মাটির আর্দ্রতা কমে যাওয়া জোনাকির জন্য অনুকূল পরিবেশ নষ্ট করতে পারে।

অনেক জোনাকি প্রজাতির লার্ভা স্যাঁতসেঁতে মাটি ও ঝরা পাতার স্তরের ওপর নির্ভরশীল। দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হলে বা তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে এসব পরিবেশ শুকিয়ে যায়। আবার অতিরিক্ত বৃষ্টি বা আকস্মিক বন্যার কারণেও লার্ভার আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

জলবায়ুর পরিবর্তন খাদ্যপ্রাণীর সংখ্যাতেও প্রভাব ফেলে। ফলে জোনাকির খাদ্যসংকট তৈরি হতে পারে। সব মিলিয়ে পরিবেশের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন তাদের জীবনচক্রকে অনিশ্চিত করে তুলছে।

জোনাকিকে ফিরিয়ে আনতে যা করা যায়

জোনাকি রক্ষায় বড় কোনো জটিল উদ্যোগের পাশাপাশি ছোট ছোট স্থানীয় পদক্ষেপও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রাণিবিদ্যার শিক্ষার্থী ও বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান নিয়ে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত নিলয় হাওলাদারের মতে, বাড়ির আশপাশে কিছু গাছপালা ও ঝোপঝাড় স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে দেওয়া, অকারণ কীটনাশক ব্যবহার না করা এবং রাতের অপ্রয়োজনীয় আলো কমানো জোনাকি রক্ষায় কার্যকর হতে পারে।

বাড়ির বাগান বা খোলা জায়গার সব ঝরা পাতা একসঙ্গে পরিষ্কার না করে কিছু অংশ স্বাভাবিকভাবে পড়ে থাকতে দেওয়া যেতে পারে। এতে জোনাকির লার্ভাসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র প্রাণী আশ্রয় পাবে।

পুকুরপাড়, জলাভূমি ও খোলা সবুজ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় আলো কমানোও জরুরি। রাতে প্রয়োজন ছাড়া উজ্জ্বল বাতি জ্বালিয়ে না রাখা এবং সম্ভব হলে আলো নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ রাখা যেতে পারে।

জোনাকি দেখা গেলে তাদের ধরার পরিবর্তে দূর থেকে পর্যবেক্ষণ করা উচিত। শিশুদেরও বোঝাতে হবে যে জোনাকি প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ, খেলনা নয়। একটি জোনাকিকে বাঁচিয়ে রাখা মানে শুধু একটি পোকাকে রক্ষা করা নয়; বরং তার সঙ্গে সম্পর্কিত একটি সম্পূর্ণ ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখা।

হারিয়ে যাওয়া আলো ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব

জোনাকি প্রকৃতির ভারসাম্যের একটি ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তাদের উপস্থিতি সাধারণত এমন পরিবেশের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে মাটি, গাছপালা, আর্দ্রতা এবং ক্ষুদ্র প্রাণীদের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ পরিস্থিতি রয়েছে।

জোনাকির সংখ্যা কমে যাওয়া তাই শুধু একটি সুন্দর পোকা হারানোর ঘটনা নয়; এটি পরিবেশের পরিবর্তনেরও একটি সতর্ক সংকেত। শহর ও গ্রামের দ্রুত পরিবর্তন, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহার এবং রাতের অপ্রয়োজনীয় আলোকদূষণ কমানো গেলে জোনাকির জন্য আবারও উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

একসময় যে জোনাকি পুকুরপাড়ের অন্ধকারে শিশুদের বিস্মিত করত, সেই আলো পুরোপুরি হারিয়ে যাওয়ার আগেই তাদের আবাসস্থল রক্ষায় সচেতন হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃতিকে একটু জায়গা দিলে হয়তো একদিন আবারও বর্ষার রাতে ঝোপঝাড়ের মধ্যে দেখা যাবে অসংখ্য মিটমিটে আলো।

আরও পড়ুন
পোস্ট লোড হচ্ছে...

নিয়মিত সকল খবরের আপডেট পেতে পকেট নিউজ এর সাথে থাকুন। পকেট নিউজ — হাতের মুঠোয় সকল খবর। www.pocketnews.online

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ